বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলামের ‘দোলনচাঁপা’ (১৯২৩) কাব্যগ্রন্থের অন্যতম দীর্ঘ ও তীব্র আবেগময় প্রেমের কবিতা হলো ‘পূজারিণী’। এই কবিতায় প্রেমিকা বা প্রিয়াকে এক শাশ্বত দেবীরূপে কল্পনা করা হয়েছে, যিনি যুগে যুগে কবির হৃদয়ে প্রেমের আলো জ্বেলেছেন।
কবিতার মূল ভাব ও বিশ্লেষণ:
এখানে প্রেম এক পবিত্র আরাধনায় রূপ নিয়েছে। প্রেমিকার রূপ, কণ্ঠস্বর ও চলাফেরার মধ্যে কবি এক চিরচেনা পূজারিণীর মূর্তি দেখতে পান। জীবনের শেষ প্রান্তে এসেও প্রেমিকের মনে হয়, তার প্রিয়া কোনো সাধারণ নারী নয়, বরং এক চির-শুদ্ধ তাপসী, যে বারবার তার হৃদয়ে এসে পূজার ডালা সাজিয়েছে। প্রেমের এই চূড়ান্ত আত্মনিবেদন ও আধ্যাত্মিক উপলব্ধির এক অনন্য নিদর্শন এই কবিতা।
পূজারিণী কবিতা (পুরো কবিতা):
এত দিনে অবেলায়-
প্রিয়তম!
ধূলি-অন্ধ ঘূর্ণি সম
দিবাযামী
যবে আমি
নেচে ফিরি রুধিরাক্ত মরণ-খেলায়-
এত দিনে অ-বেলায়
জানিলাম, আমি তোমা জন্মে জন্মে চিনি।
পূজারিণী!
ওই কন্ঠ, ও-কপোত- কাঁদানো রাগিণী,
ওই আঁখি, ঐ মুখ,
ওই ভুরু, ললাট, চিবুক,
ওই তব অপরূপ রূপ,
ওই তব দোলো-দোলো গতি-নৃত্য দুষ্ট দুল রাজহংসী জিনি-
চিনি সব চিনি।
তাই আমি এতদিনে
জীবনের আশাহত ক্লান্ত শুষ্ক বিদগ্ধ পুলিনে
মূর্ছাতুর সারা প্রাণ ভরে
ডাকি শুকু ডাকি তোমা,
প্রিয়তমা!
ইষ্ট মম জপ-মালা ঐ তব সব চেয়ে মিষ্ট নাম ধরে!
তারি সাথে কাঁদি আমি-
ছিন্ন-কন্ঠে কাঁদি আমি, চিনি তোমা, চিনি চিনি চিনি,
বিজয়িনী নহ তুমি-নহ ভিখারিনী,
তুমি দেবী চির-শুদ্ধ তাপস-কুমারী, তুমি মম চির-পূজারিণী!
যুগে যুগে এ পাষাণে বাসিয়াছ ভালো,
আপনারে দাহ করি, মোর বুকে জ্বালায়েছ আলো,
বারে বারে করিয়াছ তব পূজা-ঋণী।
চিনি প্রিয়া চিনি তোমা, জন্মে জন্মে চিনি চিনি চিনি!
চিনি তোমা বারে বারে জীবনের অস–ঘাটে, মরণ-বেলায়।
তারপর চেনা-শেষে
তুমি-হারা পরদেশে
ফেলে যাও একা শুন্য বিদায়-ভেলায়!…..
* * * * *




















![জাগরণী প্রবন্ধ [ যুগবাণী ] কাজী নজরুল ইসলাম জাগরণী প্রবন্ধ [ যুগবাণী ] কাজী নজরুল ইসলাম](/wp-content/uploads/2024/08/জাগরণী-প্রবন্ধ-1024x655.jpg)
