জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ‘চন্দ্রবিন্দু’ (১৯৩১) সংগীত গ্রন্থের অন্যতম একটি স্নিগ্ধ, রহস্যময় ও সুরময় সৃষ্টি হলো ‘নিশুতি রাতের শশী’। এই গানে গভীর নিশুতি রাতে গগনপারে চাঁদের অভিসার, চোখের ঘুম কেড়ে নেওয়া এক রূপসীর রহস্যময় উপস্থিতি এবং দূর অলকার বাতায়নে বসে লুকিয়ে সেই অভিসার দেখার এক অপরূপ কাব্যিক ও বাচনিক রূপ অত্যন্ত সুনিপুণভাবে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে।
| বিষয় | বিবরণ |
| গানের নাম | নিশুতি রাতের শশী |
| গীতিকার ও সুরকার | কাজী নজরুল ইসলাম |
| মূল গ্রন্থ | চন্দ্রবিন্দু |
| প্রকাশের বছর | ১৯৩১ (আশ্বিন ১৩৩৮ বঙ্গাব্দ, ডি এম লাইব্রেরি) |
| রাগ ও তাল | রাগ: খাম্বাজ-পিলু, তাল: কাহার্বা |
কবি ও গ্রন্থ পরিচিতি:
১৯৩১ সালের সেপ্টেম্বর মাসে (আশ্বিন ১৩৩৮ বঙ্গাব্দ) প্রকাশিত ‘চন্দ্রবিন্দু’ কাব্যগ্রন্থটি কবি কাজী নজরুল ইসলামের জীবনের এক গভীর শোক ও মনস্তাত্ত্বিক পটভূমির সাথে যুক্ত। নিজের পুত্র বুলবুলের অকালমৃত্যুর পর কবি এই গ্রন্থের গানগুলো রচনা করেছিলেন। যদিও গ্রন্থটিতে কিছু হাস্যরসাত্মক ও ব্যঙ্গাত্মক উপাদান রয়েছে, তবুও এর অনেক গান গভীর রোমান্টিকতা, নিসর্গপ্রকৃতির রূপায়ণ এবং অতিন্দ্রিয় সুন্দরের পিয়াসায় পূর্ণ। ‘নিশুতি রাতের শশী’ গানে নিঝুম রাতের পটভূমিতে চাঁদের অভিসার এবং এক অজানা রূপসীর রূপবৈচিত্র্য খাম্বাজ-পিলু রাগের সুরে এক অনন্য আবহ তৈরি করেছে।
নিশুতি রাতের শশী গানের কথা (সম্পূর্ণ)
ঘুমায় সকলে নিশীথ নিঝুম
হরিল কে নয়নেরই ঘুম,
কার অভিসারে জাগো গগন-পারে —
চাঁদ ভুলানো সে-কোন্ রূপসী।।
লুকায়ে হেরি আমি অভিসার তব
তারকারা হেরে লুকায়ে নীরব,
কপট ঘুম ভেঙে হের হাসিছে সব —
দূর অলকার বাতায়নে বসি’।।
নিশুতি রাতের শশী গানের Romanized Version:
গানের মূল ভাব ও বিশ্লেষণ:
- নিশুতি রাতের অভিসার: রাতের গভীরতা, নিঝুম পরিবেশ এবং আকাশে চাঁদের চলাচলের মাঝে এক অপূর্ব রহস্যময় ও রোমান্টিক সুন্দরের প্রকাশ।
- লুকোচুরি ও চাউনি: তারাদের নীরব চাউনি, কপট ঘুম ভেঙে যাওয়ার খেলা এবং দূর অলকার বাতায়ন থেকে সমগ্র দৃশ্যটি উপভোগ করার এক অনবদ্য গায়কি—এই গানের প্রধান বৈশিষ্ট্য।
উৎস:




![আমাদের শক্তি স্থায়ী হয় না কেন? প্রবন্ধ [ যুগবাণী ] কাজী নজরুল ইসলাম আমাদের শক্তি স্থায়ী হয় না কেন প্রবন্ধ [ যুগবাণী ] কাজী নজরুল ইসলাম](/wp-content/uploads/2022/03/আমাদের-শক্তি-স্থায়ী-হয়-না-কেন-প্রবন্ধ-যুগবাণী-কাজী-নজরুল-ইসলাম-1024x536.png)


















