Editor's Choice

চন্দ্রবিন্দু কাব্যগ্রন্থের ‘নিশুতি রাতের শশী’ গান — কাজী নজরুল ইসলাম

গানের মূল তথ্য:
বিষয়বিবরণ
গানের নামনিশুতি রাতের শশী
গীতিকার ও সুরকারকাজী নজরুল ইসলাম
মূল গ্রন্থচন্দ্রবিন্দু
প্রকাশের বছর১৯৩১ (আশ্বিন ১৩৩৮ বঙ্গাব্দ, ডি এম লাইব্রেরি)
রাগ ও তালরাগ: খাম্বাজ-পিলু, তাল: কাহার্‌বা

কবি ও গ্রন্থ পরিচিতি:

১৯৩১ সালের সেপ্টেম্বর মাসে (আশ্বিন ১৩৩৮ বঙ্গাব্দ) প্রকাশিত ‘চন্দ্রবিন্দু’ কাব্যগ্রন্থটি কবি কাজী নজরুল ইসলামের জীবনের এক গভীর শোক ও মনস্তাত্ত্বিক পটভূমির সাথে যুক্ত। নিজের পুত্র বুলবুলের অকালমৃত্যুর পর কবি এই গ্রন্থের গানগুলো রচনা করেছিলেন। যদিও গ্রন্থটিতে কিছু হাস্যরসাত্মক ও ব্যঙ্গাত্মক উপাদান রয়েছে, তবুও এর অনেক গান গভীর রোমান্টিকতা, নিসর্গপ্রকৃতির রূপায়ণ এবং অতিন্দ্রিয় সুন্দরের পিয়াসায় পূর্ণ। ‘নিশুতি রাতের শশী’ গানে নিঝুম রাতের পটভূমিতে চাঁদের অভিসার এবং এক অজানা রূপসীর রূপবৈচিত্র্য খাম্বাজ-পিলু রাগের সুরে এক অনন্য আবহ তৈরি করেছে।

নিশুতি রাতের শশী গানের কথা (সম্পূর্ণ)

নিশুতি রাতের শশী গো।
ঘুমায় সকলে নিশীথ নিঝুম
হরিল কে নয়নেরই ঘুম,
কার অভিসারে জাগো গগন-পারে —
চাঁদ ভুলানো সে-কোন্ রূপসী।।
লুকায়ে হেরি আমি অভিসার তব
তারকারা হেরে লুকায়ে নীরব,
কপট ঘুম ভেঙে হের হাসিছে সব —
দূর অলকার বাতায়নে বসি’।।

নিশুতি রাতের শশী গানের Romanized Version:

Nishuti rater shoshi go.
Ghumay shokole nishith nijhum
Horil ke noyoner-i ghum,
Kar obhisare jago gogon-pare —
Chand bhulano se-kon ruposhi।।
Lukiye heri ami obhisar tobo
Tarokara here lukiye nirobo,
Kopot ghum bhenge here hashiche shob —
Dur alokar batayone boshi’।।

গানের মূল ভাব ও বিশ্লেষণ:

  • নিশুতি রাতের অভিসার: রাতের গভীরতা, নিঝুম পরিবেশ এবং আকাশে চাঁদের চলাচলের মাঝে এক অপূর্ব রহস্যময় ও রোমান্টিক সুন্দরের প্রকাশ।
  • লুকোচুরি ও চাউনি: তারাদের নীরব চাউনি, কপট ঘুম ভেঙে যাওয়ার খেলা এবং দূর অলকার বাতায়ন থেকে সমগ্র দৃশ্যটি উপভোগ করার এক অনবদ্য গায়কি—এই গানের প্রধান বৈশিষ্ট্য।

উৎস:

গানটির প্রামাণ্য কথা, রাগ-তাল ও ঐতিহাসিক তথ্যাবলি কাজী নজরুল ইসলামের সংকলিত ‘নজরুল-রচনাবলী’ ও ডি এম লাইব্রেরি কর্তৃক প্রকাশিত প্রথম ‘চন্দ্রবিন্দু’ (১৯৩১) গ্রন্থ থেকে সংগৃহীত ও বিন্যস্ত করা হয়েছে।
Tags :

কাজী নজরুল ইসলাম

<div id="model-response-message-contentr_6711829050503afa" class="markdown markdown-main-panel md-content enable-luminous-fast-follows enable-updated-hr-color tutor-markdown-rendering" dir="ltr" aria-live="polite"> <div>বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে কাজী নজরুল ইসলাম (১৮৯৯–১৯৭৬) এক যুগান্তকারী ও বৈপ্লবিক ব্যক্তিত্ব, যিনি ‘বিদ্রোহী কবি’ এবং বাংলাদেশের জাতীয় কবি হিসেবে চিরস্মরণীয়। পরাধীন ভারতে শৃঙ্খলিত মানুষের স্বাধিকার আন্দোলন ও গোঁড়ামির বিরুদ্ধে তাঁর ক্ষুরধার লেখনী সাম্যবাদ, সাম্য ও অসাম্প্রদায়িক মানবতাবোধের এক অনবদ্য দলিল। সাহিত্য ও সংগীতের নানা শাখায় তাঁর অবাধ বিচরণ ছিল বিস্ময়কর; একদিকে যেমন তাঁর রচিত ‘বিদ্রোহী’ বা ‘প্রলয়োল্লাস’-এর মতো কবিতা পরাধীনতার বিরুদ্ধে দ্রোহের আগুন জ্বালিয়েছে, অন্যদিকে তাঁর সৃষ্ট চার সহস্রাধিক গান (নজরুল গীতি) বাংলা কাব্যসংগীতকে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে গেছে। আরবি-ফার্সি শব্দের সুনিপুণ ব্যবহারে বাংলা গজলকে জনপ্রিয় করার পাশাপাশি তিনি সমান মমতায় ইসলামি হামদ-নাত এবং শাক্ত ভাবধারার শ্যামাসঙ্গীত রচনা করে বাংলা সংস্কৃতিতে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির এক কালজয়ী উদাহরণ স্থাপন করেছেন। প্রেম, বিরহ, প্রকৃতি এবং অন্যায়ের বিরুদ্ধে আপসহীন সংগ্রামী সুরকে একসূত্রে বেঁধে নজরুল বিংশ শতাব্দীর শিল্প-সাহিত্যকে কেবল সমৃদ্ধই করেননি, বরং আজও তিনি মুক্তিকামী ও বঞ্চিত মানুষের হৃদয়ে ন্যায়বিচার ও মানবিক মর্যাদার চিরন্তন প্রেরণা হয়ে বেঁচে আছেন।</div> </div>

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

খুঁজুন

জনপ্রিয় লেখা

বিভাগসমূহ

সর্বশেষ খবর

সর্বশেষ লেখা সরাসরি ই-মেইলে পেতে সাবস্ক্রাইব করুন!



    সাম্প্রতিক লেখা

    © ২০২৬ আমার নজরুল, GOLN — সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত

    Join Us!

    Hey there! Here’s a neat way to recieve our latest posts & updates – just subscribe to our newsletter.

    Error: Contact form not found.

    Zero spam, Unsubscribe at any time.