ভারতীয় উচ্চাঙ্গ সংগীতে ঠুমরী হলো এমন এক লঘু-শাস্ত্রীয় (Up-Classical / Light-Classical) গায়নশৈলী, যেখানে শাস্ত্রীয় রাগের কড়াকড়ি কিংবা অলঙ্ঘনীয় কাঠামোর চেয়ে অনুভূতি, ভাব প্রকাশের ব্যাকুলতা ও সৌকুমার্য প্রধান হয়ে ওঠে। ধ্রুপদের গাম্ভীর্য কিংবা খেয়ালের জটিল সুরবিস্তারের বিপরীতে ঠুমরী মানুষের সুকোমল প্রেম, বিরহ ও ভাবালুতাকে সুরের ললনা-ছন্দে প্রকাশ করে।
কাজী নজরুল ইসলামের বিস্তৃত সংগীত জীবনের প্রথমার্ধে বাউল, ভাটিয়ালি, গজল ও রাগপ্রধান রচনার যে প্রবাহ ছিল, তা পরিপক্কতা লাভ করে তাঁর শাস্ত্রীয় ধারার গানের শেষ পর্যায়ে—যার অন্যতম শ্রেষ্ঠ নিদর্শন তাঁর রচিত বাংলা ঠুমরী। শাস্ত্রীয় সংগীতের পরিশীলিত রূপকে বাংলায় রূপান্তর করতে গিয়ে নজরুল শাস্ত্রীয় ঠুমরীর মৌলিক আত্মাটিকে শতভাগ অক্ষুণ্ন রেখে তার সাথে যুক্ত করেছিলেন অনুপম কাব্যিক সুষমা।
Table of Contents
Toggleঠুমরীর উদ্ভব, ধারা ও ঐতিহ্যের ইতিহাস
ভারতীয় সংগীতে ঠুমরীর উৎপত্তি ও বিকাশ প্রধানত উত্তর ভারতের দরবারি সংস্কৃতিকে কেন্দ্র করে। গবেষকদের মতে, অষ্টাদশ ও উনিশ শতকে লক্ষ্ণৌ ও বারাণসীতে ঠুমরীর আধুনিক রূপটি দানা বাঁধে।
- ঐতিহাসিক প্রবর্তক: লক্ষ্ণৌর নবাব ওয়াজিদ আলী শাহের দরবার এবং ওস্তাদ সাদিক আলী খাঁকে ঠুমরীর অন্যতম প্রধান প্রবর্তক হিসেবে গণ্য করা হয়। আবার অনেক সংগীতবিজ্ঞানীর মতে, টপ্পা ও ঠুমরীর সংমিশ্রণে নতুন সুরতরঙ্গ তৈরিতে ওস্তাদ গোলাম নবী (শোরী মিঞা)-র বিশেষ অবদান ছিল।
- প্রধান দুটি আঞ্চলিক অঙ্গ (Style):
- পূর্বাঙ্গ বা পূরবী অঙ্গ (Purab Ang): লক্ষ্ণৌ ও বারাণসী (বেনারস)-কে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা এই শৈলী কিছুটা ধীরগতির, বিরহপ্রধান, মিন্ট ও ভাব-প্রধান (ভাব-বাতানা)।
- পাঞ্জাবী অঙ্গ (Punjabi Ang): পাঞ্জাব অঞ্চলের টপ্পা গানের প্রভাবযুক্ত এই ধারাটি কিছুটা দ্রুতগতির, চঞ্চল, দ্রুত তান, মুরকী, খটকা ও কারুকাজে ভরা।
নজরুল যখন বাংলা ভাষায় ঠুমরী রচনায় হাত দেন, তখন তিনি কেবল যেকোনো একটি ধারাকে অন্ধভাবে অনুসরণ করেননি; বরং পূরবী ও পাঞ্জাবী—এই দুটি ধারার বৈচিত্র্যময় অলংকারগুলোকে একত্রিত করে এক অভূতপূর্ব বাংলা ঠুমরীর ঘরানা তৈরি করেছিলেন।
নজরুলের ঠুমরী ভাবনার নেপথ্য: ওস্তাদ জমির উদ্দীন খাঁ ও আত্মোপলব্ধি
নজরুলের উচ্চাঙ্গ সংগীত ও বিশেষ করে ঠুমরী অঙ্গের গানে পারদর্শী হওয়ার পেছনে একজন কালজয়ী সাধকের পরোক্ষ ও প্রত্যক্ষ অবদান ছিল। তিনি হলেন তত্ক্ষণাৎ সময়ের বিখ্যাত ঠুমরী ও খেয়াল বিশেষজ্ঞ ওস্তাদ জমির উদ্দীন খাঁ।
দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন দাস কর্তৃক সম্পাদিত ‘বাংলার কথা’ পত্রিকায় সংগীতশিল্পী কে. মল্লিক নজরুল ইসলামের একটি তাৎপর্যপূর্ণ বক্তব্য প্রকাশ করেছিলেন। সেখানে নজরুল তাঁর উচ্চাঙ্গ সংগীত চর্চা ও অনুপ্রাণিত হওয়া সম্পর্কে স্পষ্ট ভাষায় বলেছিলেন:
“আমি মূলত জমির উদ্দীন খাঁকেই আমার শাস্ত্রীয় শিক্ষাগুরু মনে করি; কারণ আজকের ধ্রুপদ, ধামার, খেয়াল, টপ্পা ও ঠুমরী পর্যায় ভিত্তিক গান রচনা তাঁর কল্যাণেই সাধিত হয়েছে।”
গ্রামোফোন কোম্পানিতে ওস্তাদ জমির উদ্দীন খাঁয়ের সান্নিধ্যে এসেই নজরুল রাগ-রাগিণীর সূক্ষ্ম তান, ভাব ও গায়কির গূঢ় রহস্য আবিষ্কার করেছিলেন, যা পরবর্তীতে তাঁকে বাংলায় সফল ঠুমরী রচনায় উদ্বুদ্ধ করে।
ঠুমরীর মৌলিক বৈশিষ্ট্য ও নজরুল-সংগীতে প্রভাত বসুর পর্যবেক্ষণ
শাস্ত্রীয় ঠুমরীর কিছু সুনির্দিষ্ট চরিত্রগত বৈশিষ্ট্য রয়েছে, যা একে অন্যান্য সংগীতরীতি থেকে আলাদা করে:
- শ্রঙ্গার রস ও ভাব-প্রধানতা: প্রেম, মিলন, বিরহ ও অভিমানই ঠুমরীর প্রধান রস।
- সুরের স্বাধীনতা (রাগ মিশ্রণ): খেয়াল বা ধ্রুপদের মতো রাগের বিশুদ্ধতা রক্ষা করা এখানে মুখ্য নয়; বরং ভাবের প্রয়োজনে মূল রাগের পাশাপাশি অন্যান্য রাগের ছায়া ফেলা হয়।
- কণ্ঠের মাধুর্য ও লালিত্য: ঠুমরী গাওয়ার জন্য সুকণ্ঠ, নমনীয় তান এবং সুকোমল স্বরপ্রক্ষেপণ অপরিহার্য।
নজরুলের ঠুমরী সম্পর্কে প্রখ্যাত সংগীত গবেষক প্রভাত বসু তাঁর ‘শাস্ত্রীয় সংগীতের ধারায় কাজী নজরুলের গান’ গ্রন্থে একটি অত্যন্ত মূল্যবান মন্তব্য করেছেন:
“একমাত্র নজরুলের ঠুমরী গানেই গায়কের পূর্ণ স্বাধীনতা প্রকাশ পায়, কিন্তু অপরিপক্ক শিল্পীর পক্ষে এ ধরনের প্রকাশ সমীচীন নয়। একমাত্র সার্থক নজরুলসংগীত শিল্পীর পক্ষেই ঠুমরী অঙ্গের গানের বৈশিষ্ট্য প্রকাশ সম্ভব।”
প্রভাত বসুর এই মন্তব্য প্রমাণ করে যে, নজরুল রচিত ঠুমরীগুলো সাধারণ কাব্যগীতি নয়; এগুলো পরিবেশন করতে হলে একজন শিল্পীকে শাস্ত্রীয় সংগীতে সুগভীর দখল ও মেধা রাখতে হয়।
শাস্ত্রীয় ঠুমরী ও নজরুলের ঠুমরীর তুলনামূলক বিশ্লেষণ
(ক) অবয়ব ও কাঠামো (Form & Structure)
- শাস্ত্রীয় ঠুমরী: সাধারণ দুটি অংশে বিভক্ত—’স্থায়ী’ ও ‘অন্তরা’। কিছু কিছু ক্ষেত্রে সঞ্চারী বা আভোগের মৃদু উপস্থিতি থাকলেও মূল কাঠামো স্থায়ী ও অন্তরার ওপরই দাঁড়িয়ে থাকে।
- নজরুলের ঠুমরী: নজরুলও শাস্ত্রীয় নিয়ম মেনে তাঁর ঠুমরী গানগুলোকে মূলত স্থায়ী ও অন্তরা—এই দুই প্রধান অংশে বিভক্ত করেছেন। তবে কাব্যিক পূর্ণতা দেওয়ার জন্য তিনি অন্তরার ভেতরে স্বর ও কথার চমৎকার বিস্তার ঘটিয়েছেন।
(খ) রাগ ও সুরের প্রয়োগ
- শাস্ত্রীয় ঠুমরী: সব রাগে ঠুমরী গাওয়া যায় না। লঘু-উচ্চাঙ্গের নির্দিষ্ট কিছু রাগে ঠুমরী জমে ওঠে। যেমন—কাফি, খাম্বাজ, পিলু, দেশ, বারোঁয়া, ঝিঁঝিট, তিলং, গারা, ভৈরব বা ভৈরবী।
- নজরুলের ঠুমরী: নজরুলও ঠিক এই রাগগুলোকেই বেছে নিয়েছেন। তিনি কাফি-খাম্বাজ, গারা-খাম্বাজ কিংবা পিলু-বারোঁয়ার মতো মিশ্র রাগে অসাধারণ সব ঠুমরী লিখেছেন। মূল রাগে থেকে হঠাৎ অনুসঙ্গী রাগে বিচরণ করে ভাবের আবেগ বাড়িয়ে দেওয়ার যে কৌশল শাস্ত্রীয় ঠুমরীতে দেখা যায়, নজরুলের ঠুমরীতেও তা সমান উজ্জ্বল।
(গ) তাল ও ছন্দের ব্যবহার
- শাস্ত্রীয় ঠুমরী: প্রধানত দাদরা, কাহারবা, যত্, আদ্ধা ঠুমরী, কাওয়ালী ও পাঞ্জাবী বা পঞ্জাবি চটকা তালে পরিবেশিত হয়।
- নজরুলের ঠুমরী: নজরুল এই তালগুলোর ছন্দময় দোলনকে বাংলা শব্দের বুননে নিখুঁতভাবে বসিয়েছেন। বিশেষ করে আদ্ধা, দাদরা ও কাহারবা তালের গতিতে তাঁর ঠুমরীগুলো অসাধারণ আবেশ তৈরি করে।
(ঘ) কথা ও বাণীর ভূমিকা (Lyrics vs. Melody)
- শাস্ত্রীয় ঠুমরী: ব্রজবুলি, অবধী বা হিন্দভি ভাষায় রচিত ঐতিহ্যবাহী ঠুমরীর কাব্যিক কলি খুব ছোট হতো (যেমন—দুই বা চার লাইন)। একই বাণীকে বারবার ঘুরিয়ে ফিরে সুরের নানাবিধ কারুকাজ (বোল-বানাও, বোল-তান) দেখানোই ছিল মূল লক্ষ্য।
- নজরুলের ঠুমরী: এখানে নজরুল বিপ্লব ঘটান। তিনি দেখালেন, সুরের কারুকাজ অক্ষুণ্ন রেখেও বাংলায় পূর্ণাঙ্গ ও সমৃদ্ধ কাব্যিক বাণী সৃষ্টি করা সম্ভব। তাঁর ঠুমরীতে সুরের যেমন স্বাধীনতা থাকে, তেমনি কথা বা বাণীর গাম্ভীর্য ও অলংকারও শ্রোতার হৃদয় ছুঁয়ে যায়।
(ঙ) বিষয়বস্তু ও নান্দনিক দৃষ্টিভঙ্গি
- শাস্ত্রীয় ঠুমরী: মূলত রাধা-কৃষ্ণের প্রেম, বিরহ, ঝুলন, হোলি কিংবা নায়ক-নায়িকার মান-অভিমানের গল্পকে কেন্দ্র করে রচিত।
- নজরুলের ঠুমরী: নজরুলের বিষয়বস্তুও প্রেম ও বিরহভিত্তিক, তবে তা অনেক ক্ষেত্রে লৌকিক সীমানা ছাড়িয়ে আধ্যাত্মিক রূপক বা ঈশ্বরপ্রাপ্তির গভীর আকুতিতে পরিণত হয়।
গীতিশৈলী ও পরিবেশনার পর্যায়ক্রমিক ধারা
[সংক্ষিপ্ত স্বর-আলাপ]
↓
[স্থায়ী অংশ উপস্থাপন ও বোল-বানাও]
↓
[অন্তরার উন্মোচন ও তারসপ্তকে বিচরণ]
↓
[অনুষঙ্গী রাগের ছায়া ও ভাব-প্রকাশ (রাগ-মালিকা)]
↓
[তবলার লয় বৃদ্ধি ও 'লগ্গী' পরিবেশন]
↓
[স্থায়ীতে প্রত্যাবর্তন ও সোমে যবনিকা]
সমকালীন বাস্তবতা, চ্যালেঞ্জ ও ঐতিহাসিক তাৎপর্য
- কঠিন সাধনার প্রয়োজন: নজরুলের ঠুমরী গাওয়ার জন্য একই সাথে রাগসংগীতের ব্যাকরণভিত্তিক গভীর জ্ঞান, উচ্চমানের কণ্ঠ সাধনা এবং বাংলা সাহিত্যের সঠিক উচ্চারণ ও কাব্যিক ভাব অনুধাবনের ক্ষমতা প্রয়োজন। দুটি বিষয়ের এই বিরল সমন্বয় সাধারণ বা অপরিপক্ক শিল্পীদের পক্ষে সাধন করা বেশ কঠিন।
- ঐতিহাসিক অবদান: প্রচারের সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও বাংলা সংগীতের ইতিহাসে নজরুলের ঠুমরী এক যুগান্তকারী সৃষ্টি। ধ্রুপদী হিন্দি ঠুমরীর সমকক্ষ হিসেবে বাংলা ভাষায় যে এত মার্জিত, সুকোমল ও উচ্চাঙ্গমানের গান তৈরি করা সম্ভব—নজরুল তা একক চেষ্টায় প্রমাণ করে গেছেন।
শেষ কথা

সুফি ফারুক ইবনে আবুবকর একজন প্রবিশিষ্ট তথ্যপ্রযুক্তিবিদ, শিক্ষা ও আইসিটি উদ্যোক্তা, লেখক, সমাজসেবক এবং অসাম্প্রদায়িক সাংস্কৃতিক চেতনার অনুরাগী। জাতীয় পর্যায়ে তরুণদের দক্ষতা উন্নয়ন এবং প্রযুক্তিভিত্তিক শিক্ষা প্রসারে অবদানের পাশাপাশি তিনি আবহমান বাঙালি সংস্কৃতি ও কাজী নজরুল ইসলামের সাম্যবাদী ভাবধারাকে দেশ ও দেশের বাইরের মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার প্রয়াসে এই উদ্যোগের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রকাশক হিসেবে ভূমিকা পালন করছেন।
পেশাগত জীবনে তিনি একটি শীর্ষস্থানীয় টেলিকম প্রতিষ্ঠানের প্রধান তথ্যপ্রযুক্তি কর্মকর্তা (সিআইও) হিসেবে দীর্ঘ সময় কৃতিত্বের সাথে দায়িত্ব পালন করেছেন। প্রযুক্তি ও কারিগরি শিক্ষাকে দেশের তৃণমূল পর্যায়ে পৌঁছে দিতে তিনি প্রতিষ্ঠা করেন ‘গুরুকুল নেটওয়ার্ক’। এর অধীনে ‘গুরুকুল অনলাইন লার্নিং নেটওয়ার্ক’, ‘গুরুকুল ক্যাম্পাস লার্নিং নেটওয়ার্ক’, ‘গুরুকুল আইটি এনাবলড সার্ভিসেস’ ও ‘গুরুকুল কমার্শিয়াল’-এর মতো বহুমুখী কারিগরি ও প্রশিক্ষণমূলক প্রতিষ্ঠান পরিচালিত হচ্ছে। জাতীয় পর্যায়ে শিক্ষানীতি ও প্রশাসনিক কার্যক্রমে অবদানের অংশ হিসেবে তিনি বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের পরিচালনা পরিষদের সদস্য এবং সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজির ট্রাস্টি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। এছাড়া রাষ্ট্রীয় প্রশাসনিক অভিজ্ঞতার অংশ হিসেবে তিনি ‘বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম এক্সপ্লোরেশন অ্যান্ড প্রোডাকশন কোম্পানি লিমিটেড’ (বাপেক্স)-এর পরিচালনা পর্ষদের পরিচালক ছিলেন।
গণমাধ্যম ও চিন্তা-সাহিত্যের অঙ্গনেও তাঁর পদচারণা সুদীর্ঘ। তিনি ‘দৈনিক আজকের আলো’ পত্রিকার সাবেক সম্পাদক এবং জাতীয় অনলাইন পোর্টাল ‘জিলাইভ’ ও ‘দৈনিক খবরওয়ালা’ পত্রিকার সাবেক সম্পাদক ও প্রকাশক হিসেবে সংবাদমাধ্যমের পরিচালনায় যুক্ত ছিলেন। প্রযুক্তিভিত্তিক দেশ গঠন এবং বাঙালি জাতির অসাম্প্রদায়িক ঐতিহাসিক পরিচয়কে একসূত্রে গেঁথে তিনি একাধিক গ্রন্থ ও নিবন্ধ প্রকাশ করেছেন। বিশেষ করে ‘ডিজিটাল বাংলাদেশ’ ও ‘স্মার্ট বাংলাদেশ’ ভাবনাকেন্দ্রিক তাঁর রচিত গ্রন্থাবলী ও নিবন্ধগুলো নীতি-নির্ধারণী মহলে সমাদৃত। একই সাথে, বাঙালি সংস্কৃতির শেকড় ও ঐতিহ্যকে তরুণ প্রজন্মের সামনে তুলে ধরতে তাঁর রচিত ‘আমার সংস্কৃতি’ গবেষণা সিরিজ সাহিত্যপ্রেমীদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে; যারই প্রত্যক্ষ ফসল হিসেবে বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলামের জীবন, দর্শন ও সৃষ্টিকে সংরক্ষণের জন্য এই ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের আত্মপ্রকাশ।
সামাজিক দায়বদ্ধতা থেকে তিনি গড়ে তুলেছেন ‘সুফি ওয়েলফেয়ার ফাউন্ডেশন’, যার মাধ্যমে সাধারণ মানুষকে স্বাবলম্বী করা, যুবসমাজকে প্রযুক্তিদক্ষ করে গড়ে তোলা এবং ক্যারিয়ার গাইডলাইন প্রদানে ধারাবাহিক কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। একই সাথে তিনি নিজ জন্মভূমি কুষ্টিয়া-৪ (কুমারখালী-খোকসা) অঞ্চলের শিক্ষা, প্রযুক্তি, তরুণ উদ্যোক্তা তৈরি ও রাজনৈতিক অগ্রযাত্রায় সক্রিয় অবদান রেখে চলেছেন। আধুনিক প্রযুক্তি, উচ্চমানসম্পন্ন শিক্ষা ও জাতীয় সংস্কৃতির মেলবন্ধনে একটি স্বাবলম্বী ও প্রগতিশীল সমাজ গড়ে তোলাই তাঁর মূল লক্ষ্য।





















