Editor's Choice

দোলনচাঁপা কাব্যগ্রন্থের ‘বেলাশেষে’ কবিতা — কাজী নজরুল ইসলাম

কবিতার মূল তথ্য:

বিষয়বিবরণ
কবিতার নামবেলাশেষে
কবির নামকাজী নজরুল ইসলাম
মূল কাব্যগ্রন্থদোলনচাঁপা
প্রকাশের বছর১৯২৩ (আশ্বিন ১৩৩০ বঙ্গাব্দ)
কবিতার ধরনবিষাদময় ও অভিমানী প্রেমের কবিতা (Melancholic Love Poem)

 

বেলাশেষে কবিতা (পুরো কবিতা)

ধরণী দিয়াছে তার

 ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​​​ গাঢ় বেদনার

রাঙা মাটি-রাঙা ম্লান ধূসর আঁচলখানি

 ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​​​ দিগন্তের কোলে কোলে টানি।

পাখি উড়ে যায় যেন কোন মেঘ-লোক হতে

সন্ধ্যা-দীপ-জ্বালা গৃহ-পানে ঘর-ডাকা পথে।

 ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​​​ আকাশের অস্ত-বাতায়নে

অনন্ত দিনের কোন্ বিরহিণী কনে

 ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​​​ জ্বালাইয়া কনক-প্রদীপখানি

উদয়-পথের পানে যায় তার অশ্রু-চোখ হানি?

‘আসি’-বলে চলে যাওয়া বুঝি তার প্রিয়তম আশে,

অস্ত-দেশ হয়ে ওঠে মেঘ-বাষ্প-ভারাতুর তারি দীর্ঘশ্বাসে।

 ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​​​ আদিম কালের ঐ বিষাদিনী বালিকার পথ-চাওয়া চোখে–

 ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​​​ পথ-পানে-চাওয়া-ছলে দ্বারে-আনা সন্ধ্যা-দীপালোকে

 ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​​​ মাতা বসুধার মমতার ছায়া পড়ে।

 ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​​​ করুণার কাঁদন ঘনায় নত-আঁখি স্তব্ধ দিগন্তরে।

কাঙালিনী ধরা-মা’র অনাদি কালের কত অনন্ত বেদনা

হেমন্তের এমনি সন্ধ্যায় যুগ যুগ ধরি বুঝি হারায় চেতনা।

 ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​​​ উপুড় হইয়া সেই স্তূপীকৃত বেদনার ভার

 ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​​​ মুখ গুঁজে পড়ে থাকে;​​ ব্যথা-গন্ধ তার

 ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​​​ গুমরিয়া গুমরিয়া কেঁদে কেঁদে যায়

 ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​​​ এমনি নীরবে শান্ত এমনি সন্ধ্যায়।…

ক্রমে নিশীথিনী আসে ছড়াইয়া ধূলায়-মলিন এলোচুল,

সন্ধ্যা-তারা নিবে যায়,​​ হারা হয় দিবসের কূল।…

 ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​​​ তারি মাঝে কেন যেন অকারণে হায়

আমার দুচোখ পুরে বেদনার ম্লানিমা ঘনায়।

 ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​​​ বুকে বাজে হাহাকার-করতালি,

কে বিরহী কেঁদে যায় ‘খালি,​​ সব খালি!

ঐ নভ,​​ এই ধরা,​​ এই সন্ধ্যালোক,

নিখিলের করুণা যা-কিছু,​​ তোর তরে তাহাদের অশ্রুহীন চোখ!‘

 ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​​​ মনে পড়ে-তাই শুনে মনে পড়ে মম

 ​​ ​​ ​​ ​​ ​​​​ কত না মন্দিরে গিয়া পথের সে লাথি-খাওয়া ভিখারির সম

 ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​​​ প্রসাদ মাগিনু আমি–

 ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​​​ ‘দ্বার খোলো,​​ পূজারী দুয়ারে তব আগত যে স্বামী!‘

 ​​ ​​ ​​ ​​ ​​​​ খুলিল দুয়ার,​​ দেউলের বুকে দেখিনু দেবতা,

 ​​ ​​ ​​ ​​ ​​​​ পূজা দিনু রক্ত-অশ্রু,​​ দেবতার মুখে নাই কথা।

 ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​​​ হায় হায় এ যে সেই অশ্রুহীন-চোখ,

 ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​​​ কেঁদে ফিরি,​​ ওগো এ কি প্রেমহীন অনাদর-হানস দেবলোক!

 ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​​​ ওরে মূঢ়! দেবতা কোথায়?

 ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​​​ পাষাণ-প্রতিমা এরা,​​ অশ্রু দেখে নিষ্পলক অকরুণ মায়াহীন

 ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​​​ চোখে শুধু চায়।

 ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​​​ এরাই দেবতা,​​ যাচি প্রেম ইহাদেরই কাছে,

 ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​​​ অগ্নি-গিরি এসে যেন মরুভূর কাছে হায় জল-ধারা যাচে।  ​​​​ 

আমার সে চারি পাশে ঘরে ঘরে কত পূজা কত আয়োজন,

তাই দেখে কাঁদে আর ফিরে ফিরে চায় মোর ভালোবাসা-ক্ষুধাতুর মন,

 ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​​​ অপমানে পুন ফিরে আসে,

ভয় হয়,​​ ব্যাকুলতা দেখি মোর কি জানি কখন কে হাসে।

 ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​​​ দেবতার হাসি আছে,​​ অশ্রু নাই;

ওরে মোর যুগ-যুগ-অনাদৃত হিয়া,​​ আয় ফিরে যাই।…

এই সাঁঝে মনে হয়,​​ শূন্য চেয়ে আরো এক মহাশূন্য রাজে

দেবতার-পায়ে-ঠেলা এই শূন্য মম হিয়া-মাঝে।

 ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​​​ আমার এ ক্লিষ্ট ভালোবাসা,

 ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​​​ তাই বুঝি হেন সর্বনাশা।

প্রেয়সীর কণ্ঠে কভু এই ভুজ এই বাহু জড়াবে না আর,

উপেক্ষিত আমার এ ভালোবাসা মালা নয়,​​ খর তরবার।

Tags :

কাজী নজরুল ইসলাম

<div id="model-response-message-contentr_6711829050503afa" class="markdown markdown-main-panel md-content enable-luminous-fast-follows enable-updated-hr-color tutor-markdown-rendering" dir="ltr" aria-live="polite"> <div>বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে কাজী নজরুল ইসলাম (১৮৯৯–১৯৭৬) এক যুগান্তকারী ও বৈপ্লবিক ব্যক্তিত্ব, যিনি ‘বিদ্রোহী কবি’ এবং বাংলাদেশের জাতীয় কবি হিসেবে চিরস্মরণীয়। পরাধীন ভারতে শৃঙ্খলিত মানুষের স্বাধিকার আন্দোলন ও গোঁড়ামির বিরুদ্ধে তাঁর ক্ষুরধার লেখনী সাম্যবাদ, সাম্য ও অসাম্প্রদায়িক মানবতাবোধের এক অনবদ্য দলিল। সাহিত্য ও সংগীতের নানা শাখায় তাঁর অবাধ বিচরণ ছিল বিস্ময়কর; একদিকে যেমন তাঁর রচিত ‘বিদ্রোহী’ বা ‘প্রলয়োল্লাস’-এর মতো কবিতা পরাধীনতার বিরুদ্ধে দ্রোহের আগুন জ্বালিয়েছে, অন্যদিকে তাঁর সৃষ্ট চার সহস্রাধিক গান (নজরুল গীতি) বাংলা কাব্যসংগীতকে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে গেছে। আরবি-ফার্সি শব্দের সুনিপুণ ব্যবহারে বাংলা গজলকে জনপ্রিয় করার পাশাপাশি তিনি সমান মমতায় ইসলামি হামদ-নাত এবং শাক্ত ভাবধারার শ্যামাসঙ্গীত রচনা করে বাংলা সংস্কৃতিতে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির এক কালজয়ী উদাহরণ স্থাপন করেছেন। প্রেম, বিরহ, প্রকৃতি এবং অন্যায়ের বিরুদ্ধে আপসহীন সংগ্রামী সুরকে একসূত্রে বেঁধে নজরুল বিংশ শতাব্দীর শিল্প-সাহিত্যকে কেবল সমৃদ্ধই করেননি, বরং আজও তিনি মুক্তিকামী ও বঞ্চিত মানুষের হৃদয়ে ন্যায়বিচার ও মানবিক মর্যাদার চিরন্তন প্রেরণা হয়ে বেঁচে আছেন।</div> </div>

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

খুঁজুন

জনপ্রিয় লেখা

বিভাগসমূহ

সর্বশেষ খবর

সর্বশেষ লেখা সরাসরি ই-মেইলে পেতে সাবস্ক্রাইব করুন!



    সাম্প্রতিক লেখা

    © ২০২৬ আমার নজরুল, GOLN — সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত

    Join Us!

    Hey there! Here’s a neat way to recieve our latest posts & updates – just subscribe to our newsletter.

    Error: Contact form not found.

    Zero spam, Unsubscribe at any time.