বাংলা সাহিত্যের অগ্নিকবি কাজী নজরুল ইসলামের কাব্যসাম্রাজ্যে ‘ছায়ানট’ (১৯২৫) এক অনন্য কোমল, স্নিগ্ধ ও সাঙ্গীতিক অনুভূতির উজ্জ্বল স্মারক। ১৯২২ সালে ‘অগ্নিবীণা’র বৈপ্লবিক বজ্রনির্ঘোষে যিনি গোটা উপমহাদেশকে চাঙ্গা করে তুলেছিলেন, সেই নজরুলই ১৯২৫ সালে ‘ছায়ানট’-এর সুর বেঁধে পাঠককে ভাসিয়েছিলেন এক অনন্ত বিরহ, রূপতৃষ্ণা ও গভীর প্রেমাবেগের সাগরে। ভারতীয় শাস্ত্রীয় সংগীতের প্রখ্যাত রাগ ‘ছায়ানট’-এর নামানুসারে নামাঙ্কিত এই কাব্যগ্রন্থটি প্রমাণ করে যে, নজরুল কেবল বিপ্লব ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে হুঙ্কার তোলা ‘বিদ্রোহী কবি’ নন, বরং তিনি রূপ-রস-গন্ধ-সুরময় বাংলা সাহিত্যের অন্যতম শ্রেষ্ঠ রোমান্টিক গীতিকবি।
Table of Contents
Toggle১. প্রকাশনা ও কাব্যনামের রূপক-তাৎপর্য
‘ছায়ানট’ কাব্যগ্রন্থটি ১৯২৫ সালের সেপ্টেম্বর মাসে (আশ্বিন, ১৩৩২ বঙ্গাব্দ) প্রথম প্রকাশিত হয়। কলকাতা থেকে প্রকাশিত এই গ্রন্থে নজরুলের কোমল অনুভূতিময় গীতিকবিতাগুলো একসূত্রে গ্রথিত হয়েছিল।
কাব্যগ্রন্থের নামকরণে নজরুল ভারতীয় শাস্ত্রীয় সংগীতের ‘ছায়ানট’ রাগের আশ্রয় নিয়েছেন। হিন্দুস্তানি সঙ্গীতে छायानाट (Chhayanat) রাগটি মূলত সন্ধ্যা বা প্রথম প্রহরে গাওয়া একটি পরম মিষ্টি, রোমান্টিক ও অনুরাগময় রাগ। গোধূলির আলো-আঁধারিতে বিরহী আত্মার আকুলতা, প্রিয়জনের মোহাচ্ছন্ন উপস্থিতি এবং প্রকৃতির নিজস্ব মায়াবী পরিবেশ এই রাগের প্রধান সুর। নজরুল তাঁর কাব্যের নামকরণ ‘ছায়ানট’ করে যেন আগেই জানিয়ে দিয়েছেন—এই কাব্য বজ্রের গর্জন নয়, বরং গোধূলিলগ্নে প্রিয়ার জন্য সাজানো অনুরাগের এক মায়াবী সুরজাল।
২. ঐতিহাসিক পটভূমি ও সৃষ্টির মুহূর্ত
১৯২৩ থেকে ১৯২৫ সালের মধ্যবর্তী সময়টি নজরুলের ব্যক্তিগত ও সাহিত্যজীবনে গভীর রূপান্তরের সময়। কারাবাস থেকে মুক্তির পর এবং ‘ধূমকেতু’ ও ‘লাঙল’ পর্বের রাজনৈতিক ব্যস্ততার ফাঁকে কবির ভেতরে জেগে উঠেছিল এক আত্মমগ্ন প্রেমিকসত্তা। দৌলতপুরের প্রেম, প্রমিলা দেবীর সাথে বিয়ে এবং ব্যক্তিগত জীবনের নানা ঘাত-প্রতিঘাত তাঁর মানসিক জগতে যে ভাবাবেগ সৃষ্টি করেছিল, তারই কাব্যিক প্রতিফলন ঘটে ‘ছায়ানট’-এ।
যে নজরুল রাজনীতি ও মুক্তিসংগ্রামের মঞ্চে ছিলেন আপসহীন যোদ্ধা, তিনি যখন প্রিয়ার রূপ কিংবা বিরহের আঁধারে মুখোমুখি বসেন, তখন তাঁর শব্দচয়ন হয়ে ওঠে নিবিড়, সুকোমল ও অলৌকিক সুবাসিত।
৩. মূল ভাবসম্পদ ও বিষয়ভিত্তিক রূপরেখা
ক) প্রিয়ার অনিন্দ্য রূপায়ন ও নগ্ন রোমান্টিকতা
খ) বিরহের নিভৃত ব্যাকুলতা ও হাহাকার
গ) প্রকৃতি ও মানসপ্রতিমার মেলবন্ধন
ঘ) পরমাত্মা ও প্রেমের গভীর আধ্যাত্মিকতা
৪. বিদ্রোহী ও প্রেমিক নজরুলের অপূর্ব সহাবস্থান
৫. ভাষা, ছন্দ ও সাঙ্গীতিক অলংকার
ছায়ানট কাব্যগ্রন্থের সূচিপত্র
- বিজয়িনী
- পাপড়ি-খোলা
- প্রিয়ার রূপ
- অনাদৃতা
- নিশীথ-প্রতিম
- ছায়ানট
- বিদায়-বেলায়
- হার-মানা-হার
- রৌদ্র-দগ্ধের গান
- মরমী
- বিরাগিনী
- চির-ঋণী
- সাম্যভাক
- প্রতিবেশিনী
- প্রিয়া
- রূপ-হীনা
- বরষা
- বাদল-দিনে
- আলতা-স্মৃতি
- অ-বেলায়
- বেদনা-অভিমান
- পরণ-পূজা
- নীলপরী
- স্নেহ-ভীতু
- অকরুণপিয়া
- হারামণি
- বিধুরা পথিক
- কার বাঁশি বাজিল
- দহনমালা
- দুপুর-অভিসার
- শেষের গান




















