কাজী নজরুল ইসলামের নবম কাব্যগ্রন্থ ‘পুবের হাওয়া’ (১৯২৬) বাংলা সাহিত্যের গীতিময়তা, যৌবনের উন্মার্গগামী আবেগ এবং পূর্ববঙ্গের প্রাকৃতিক ও সাংস্কৃতিক স্পন্দনের এক অনবদ্য প্রামাণ্য দলিল। ১৯২৬ সালের ৩০ জানুয়ারি (মাঘ ১৩৩২ বঙ্গাব্দ) প্রথম প্রকাশিত এই কাব্যগ্রন্থে বিদ্রোহী কবি নজরুলের রোমান্টিক বিরহচেতনা, প্রকৃতিপ্রীতি এবং পূর্ব দেশ তথা পূর্ববঙ্গের মুক্তিকামী যৌবনের অবিনাশী স্পন্দনের এক অপূর্ব রূপায়ণ ঘটেছে।
Table of Contents
Toggle১. প্রকাশনার ইতিহাস ও ভৌগোলিক-রাজনৈতিক পটভূমি
১৯২৫ থেকে ১৯২৬ সালের সময়কালটি নজরুলের রাজনৈতিক ও সাহিত্যিক জীবনে এক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের পর্যায়। এই সময়ে কবি ঢাকা, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম, ময়মনসিংহসহ পূর্ববঙ্গের বিস্তীর্ণ অঞ্চলে বারবার সফর করেন। পূর্ববঙ্গের নদীঘেরা প্রকৃতি, পলিমাটির সুবাস এবং সেখানকার মুক্তিকামী তরুণ সমাজের উষ্ণ অভ্যর্থনা নজরুলের মনোজগতে এক নতুন প্রাণপ্রবাহের সঞ্চার করেছিল।
কাব্যগ্রন্থটির নামকরণ ‘পুবের হাওয়া’ করার পেছনে প্রধানত দুটি কারণ ক্রিয়াশীল ছিল:
- ভৌগোলিক ও প্রাকৃতিক দিক: অবিভক্ত বাংলার ‘পুব’ বা পূর্ববঙ্গ (বর্তমান বাংলাদেশ)-এর সমীরণ, মেঘ-বৃষ্টি, নদী ও সাধারণ মানুষের প্রাণের উচ্ছ্বাসকে কবি কাব্যের মূল উপজীব্য করেছেন।
- রাজনৈতিক ও আদর্শিক দিক: বিংশ শতাব্দীর দ্বিতীয় দশকে কেবল ভারতে নয়, সমগ্র এশিয়া ও প্রাচ্যের (East/Orient) শোষিত দেশগুলোতে যে সাম্রাজ্যবাদবিরোধী জাগরণ ঘটেছিল, সেই ‘পুবের হাওয়া’ বা প্রাচ্যের নবজাগরণকে কবি বৈপ্লবিক রূপকে বন্দনা করেছেন।
২. মূল ভাবাদর্শ ও বিষয়ভিত্তিক বিশ্লেষণ
ক) গীতিময় বিরহ ও অনুরাগের সুর
খ) যৌবনের আহ্বান ও অদম্য গতিশীলতা
গ) প্রাচ্যের জাগরণ ও বিশ্বসংহতি
ঘ) সাঙ্গীতিক ছন্দ ও আরবি-ফারসি সুরের সংমিশ্রণ
৩. সাহিত্যিক গুরুত্ব ও প্রভাব
পুবের হাওয়া কাব্যগ্রন্থের সূচিপত্র
- পুবের হাওয়া (শিরোনাম কবিতা)
- পথচারী
- আশা
- নিকটে
- অবসর
- সোহাগ
- শরাবন তহুরা
- স্মরণে
- বে-শরম
- হোলি
- পথিক
- শিশু
- নিরুদ্দেশের যাত্রী
- মানিনী
- বিজয়িনী
- শেষের ডাক
- স্নেহ-পরশ
- পথহারা
- মরমী
- প্রস্থান



















