কাজী নজরুল ইসলামের রাজদ্রোহের অভিযোগে ব্রিটিশ সরকার কর্তৃক বাজেয়াপ্ত অগ্নিগর্ভ কাব্যগ্রন্থ ‘বিষের বাঁশি’ (১৯২৪)-এ সংকলিত ‘চরকার গান’ কবিতাটি (বা সংগীতটি) মূলত মহাত্মা গান্ধীর স্বদেশী ও অসহযোগ আন্দোলনের মূল প্রতীক ‘চরকা’-কে কেবল সুতা কাটার যন্ত্র হিসেবে নয়, বরং ঔপনিবেশিক ব্রিটিশ শোষণের অর্থনৈতিক ভিত্তি চূর্ণ করার এক প্রলয়ঙ্করী হাতিয়ার হিসেবে মহিমান্বিত করার কালজয়ী দলিল। পরাধীন ভারতবাসীর দারিদ্র্য, অর্থনৈতিক পঙ্গুত্ব ও বিদেশি পণ্য-নির্ভরতার গ্লানি মোচনে কবি চরকার ঘর্ঘর ধ্বনিতে সাম্রাজ্যবাদবিরোধী সংগ্রাম ও পরাধীনতার শিকল কাটার বৈপ্লবিক সুর শুনতে পেয়েছেন। কবি দেখিয়েছেন যে, চরকায় বোনা প্রতিটি সুতো কেবল সুতো নয়, তা হলো পরাধীন জাতির আত্মমর্যাদা, অর্থনৈতিক স্বাবলম্বিতা ও স্বদেশী চেতনার অবিনাশী বন্ধন। শোষকের বিলাতি বস্ত্র বর্জন করে স্বাবলম্বী হওয়া এবং চরকার ঘূর্ণনের মধ্য দিয়ে সুপ্ত জনতাকে মুক্তিসংগ্রামে ঐক্যবদ্ধ করার এই অনুপ্রেরণাদায়ী বার্তা ‘চরকার গান’ কবিতাটিকে নজরুলের জাতীয়তাবাদী ও বৈপ্লবিক কাব্যধারার এক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও ঐতিহাসিক নিদর্শনে পরিণত করেছে।
বিষের বাঁশি কাব্যগ্রন্থের ‘চরকার গান’ কবিতা





















