Editor's Choice

কাজী নজরুল ইসলামের ‘রাঙা জবা’: শ্যামাসঙ্গীত ও শাক্ত ভাবধারার পরম অর্ঘ্য

বাংলা কাব্যসংগীতের ইতিহাসে কাজী নজরুল ইসলাম এক অদ্বিতীয় ব্যক্তিত্ব, যিনি সুরের ভুবনে সমান সহজে মক্কা-মদিনার ভক্তিগীতি থেকে শুরু করে বীরভূমের শাক্ত পীঠস্থানের মেঠো সুরকে একসূত্রে বেঁধেছিলেন। ১৯৩০-এর দশকের মাঝামাঝি সময় থেকে ১৯৪২ সালে কবি নীরব হয়ে যাওয়ার পূর্ব পর্যন্ত সময়কালে তিনি শাক্ত ভাবধারার শ্যামাসঙ্গীত রচনায় গভীরভাবে মনোনিবেশ করেন। তাঁর রচিত এই কালজয়ী ভক্তিমূলক গানগুলোকে একত্র করে ১৯৬৬ সালে প্রকাশিত হয় বিখ্যাত গানগ্রন্থ ‘রাঙা জবা’। এটি কেবল একটি গান সংকলন নয়, বরং নজরুলীয় অসাম্প্রদায়িক চেতনা, মাতৃসাধনা এবং শাক্ত পদাবলীর আধুনিকায়নের এক অনন্য দলিল।

Table of Contents

প্রকাশনার প্রেক্ষাপট ও রচনার নেপথ্য

নজরুলের জীবদ্দশায় তিনি যখন সংগীত রচনায় সক্রিয় ছিলেন, তখন তাঁর রচিত অসংখ্য শ্যামাসঙ্গীত এইচএমভি (HMV), মেগাফোন ও টুইন রেকর্ড কোম্পানি থেকে নামী-দামী শিল্পীদের কণ্ঠে প্রকাশিত হয়ে ঘরে ঘরে জনপ্রিয়তা লাভ করেছিল। তবে গানগুলো একক সংকলন হিসেবে গ্রন্থাকারে প্রকাশের প্রক্রিয়াটি নানা কারণে পিছিয়ে যায়।

সাধনার পরিবেশ ও গ্রন্থরূপ লাভ

১৯৩৮ থেকে ১৯৪২ সালের মধ্যে নজরুল পণ্ডিচারীর শ্রী অরবিন্দ, সাধক বরদাচরণ মজুমদার এবং যোগী মহেশ চন্দ্র ভট্টাচার্যের সংস্পর্শে এসে তন্ত্র ও শাক্ত সাধনায় নিবিষ্ট হন। এ সময় কবির হৃদয়ে মাতৃরূপী কালীর প্রতি গভীর ভক্তি ও ভাবাবেগ জন্ম নেয়, যা থেকে উৎসারিত হয় অজস্র শ্যামাসঙ্গীত। কবির মানসিক অসুস্থতা ও নীরবতার বহু বছর পর, ১৯৬৬ সালে কলকাতার ‘ডি. এম. লাইব্রেরি’ থেকে এই গানগুলো একত্র করে ‘রাঙা জবা’ নামে প্রকাশিত হয়।

‘রাঙা জবা’: নামকরণের শাক্ত ঐতিহ্য ও প্রতীকী গভীরতা

শাক্ত সাধনা ও শ্যামাপূজার মূল অঙ্গ হলো রক্তজবা বা রাঙা জবা ফুল। সাধক কবি রামপ্রসাদ সেনের সময় থেকেই জবা ফুলকে শ্রীশ্রী করুণাময়ী কালীর পাদপদ্মে নিবেদিত ভক্তির প্রতীক হিসেবে দেখা হয়।

রক্তজবার রূপকে আত্মনিবেদন

নজরুল তাঁর সংকলনের নাম ‘রাঙা জবা’ রেখে নিজেকে এবং নিজের গানগুলোকে দেবীর চরণে অর্পিত রক্তজবা হিসেবে উপস্থাপন করেছেন। রাঙা জবা যেমন রক্তিম, তেজস্বী অথচ কোমল, নজরুলের ভক্তিভাবও ঠিক তেমনি নিখাদ, অহংকারহীন এবং পরম আত্মসমর্পণে ভরা। তিনি কবি রূপ ছেড়ে মায়ের কাছে অবুঝ সন্তানের মতো ব্যাকুল হৃদয়ে জবা ফুল হয়ে ফুটে থাকার আকুতি জানিয়েছেন।

ভাববস্তু ও আধ্যাত্মিক দর্শনের বহুমুখী দিক

‘রাঙা জবা’ সংকলনটিতে সংকলিত গানগুলোর দিকে তাকালে নজরুলের আধ্যাত্মিক চেতনার কয়েকটি গভীর দিক স্পষ্ট হয়ে ওঠে:

১. মাতৃরূপের আরাধনা ও পরম আত্মসমর্পণ

এই সংকলনের গানগুলোতে কালী কেবল কোনো ভয়াল বা ভয়ংকর দেবী নন, বরং তিনি বিশ্বজননী, পরম স্নেহের মা। সাধক কবি মায়ের কাছে কখনো রাগ করছেন, কখনো অবুঝ সন্তানের মতো বায়না ধরছেন, আবার কখনো নিজের সব পাপ-তাপ দূর করে মায়ের চরণে ঠাঁই চাইছেন।

২. রামপ্রসাদী ধারার নবায়ন ও মানবীয় রূপায়ণ

অষ্টাদশ শতকের সাধক রামপ্রসাদ সেন যেভাবে ঘরের সাধারণ কথ্য ভাষায় মাকে আপন করে গান গেয়েছিলেন, নজরুল সেই ‘রামপ্রসাদী’ সুর ও ভাবধারাকে বিংশ শতাব্দীর আধুনিক বাংলা সংগীতে নবজীবন দান করেন। তাঁর গানে মা ও সন্তানের সম্পর্কটি কোনো আনুষ্ঠানিক পূজামণ্ডপের বিষয় নয়, তা হয়ে উঠেছে অত্যন্ত ঘরোয়া ও মানবিক।

৩. অসাম্প্রদায়িক ভারতীয় দর্শনের জয়গান

একজন মুসলিম পরিবারে জন্ম নেওয়া কবি কীভাবে শাক্ত কাব্যের চূড়ায় পৌঁছাতে পারেন, ‘রাঙa জবা’ তার সবচেয়ে বড় উত্তর। নজরুল প্রমাণ করেছেন যে ভক্তি, প্রেম ও সত্যের কোনো নির্দিষ্ট ধর্মীয় গণ্ডি থাকে না। শ্রীশ্রী রামকৃষ্ণ পরমহংসদেবের “যত মত, তত পথ” দর্শনের মতো নজরুলের শ্যামাসঙ্গীতও হিন্দু-মুসলিম নির্বিশেষে সর্বজনীন ভারতীয় মানবতাবোধের প্রতীক হয়ে উঠেছে।

‘রাঙা জবা’ সংকলনের অবিস্মরণীয় শ্যামাসঙ্গীতসমূহ

‘রাঙা জবা’ গ্রন্থে সংকলিত প্রায় শতাধিক গানের মধ্যে এমন কিছু গান রয়েছে যা গত কয়েক দশক ধরে বাঙালি সনাতন ধর্মাবলম্বীদের প্রতিটি দুর্গাপূজা ও কালীপূজার অপরিহার্য অঙ্গ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
প্রখ্যাত গানগুলোর সংক্ষিপ্ত তালিকা ও ভাবসংক্ষেপ:
  • “আমার কালো মেয়ের পায়ের তলায় দেখে যা আলো আলোকময়”:
    কালী যে কেবল অন্ধকারের প্রতীক নন, তিনি যে কোটি সূর্যের আলোর উৎস—এই পরম সত্যকে নজরুল অত্যন্ত সহজ ও সুন্দর কাব্যিক রূপ দিয়েছেন।
  • “বল রে জবা বল / তোরা কোন্ সাধনায় পেলি শ্যামা মায়ের চরণতল”:
    জবা ফুলের প্রতি কবির ঈর্ষা ও আকুলতা—কীভাবে সে মায়ের চরণে স্থান পেল, তা নিয়ে এক অনন্য ভক্তিমূলক প্রশ্ন।
  • “মা আমার সাধ করেছিস কালী হতে”:
    দেবী কালীর কৃষ্ণবর্ণ রূপের পেছনের গভীর আধ্যাত্মিক সত্যকে চপল অথচ গভীর সুরে ব্যাখ্যা করেছেন নজরুল।
  • “তোর কালো রূপ লুকিয়ে রাখার জায়গা যে নাই মা রে”:
    বিশ্বচরাচরের প্রতিটি অণুতে যে মায়ের রূপ ছড়িয়ে আছে, সেই অনুভূতির প্রকাশ।
  • “মা তোর চরণে জবা হয়ে ফুটে থাকি”:
    নিজের অস্তিত্বকে সম্পূর্ণভাবে মায়ের পায়ে সঁপে দেওয়ার এক আকুল প্রার্থনা।
  • “আমার মায়ের রূপ দেখে যা রে”:
    বাৎসলে ভরা এক পরম ভক্তের আনন্দের গান, যেখানে মা সর্বশক্তিমান হয়েও সন্তানের কাছে অত্যন্ত মমতাগ্রস্ত।

ভাষা, সুররীতির বৈচিত্র্য ও শাস্ত্রীয় মাধুর্য

‘রাঙা জবা’-র গানগুলোতে নজরুল অত্যন্ত চমত্কার সুরসংযোজন করেছেন। তিনি একদিকে যেমন লোকায়ত রামপ্রসাদী চাল ও কীর্তনের সুর ব্যবহার করেছেন, অন্যদিকে ভৈরবী, মালকোষ, কাফি, বসন্ত, তোড়ি এবং খাম্বাজ রাগের গম্ভীর রূপকে শ্যামাসঙ্গীতে বুনে দিয়েছেন।

শব্দবিন্যাসের সহজতা

সংস্কৃত স্তোত্রের মতো কঠিন ভাষার বদলে নজরুল সাধারণ মানুষের প্রতিদিনের মুখের ভাষা, যেমন—’পাগলী মা’, ‘কালো মেয়ে’, ‘মেয়েমানুষ’ ইত্যাদি ব্যবহার করে মায়ের রূপকে অত্যন্ত স্পর্শযোগ্য করে তুলেছেন।

বাংলা সংস্কৃতি ও হিন্দু সমাজমানসে ‘রাঙা জবা’-র চিরন্তন প্রভাব

‘রাঙা জবা’ কাব্যগ্রন্থটি প্রকাশের পর বাংলা সংগীতে নজরুলকে শাক্ত পদাবলীর শ্রেষ্ঠ আধুনিক রচয়িতা হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়। প্রখ্যাত শিল্পী পান্নালাল ভট্টাচার্য, ধনঞ্জয় ভট্টাচার্য, মৃণাল কান্তি ঘোষ এবং পরবর্তীতে আরতি মুখোপাধ্যায়ের মতো শিল্পীদের কণ্ঠে নজরুলের এই গানগুলো শ্যামাসঙ্গীতের ইতিহাসকে এক নতুন শিখরে নিয়ে যায়।

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর যেমন তাঁর ‘পূজা’ পর্যায়ে নিগুণ ব্রহ্মের বন্দনা করেছেন, নজরুল ঠিক তেমনি সগুণ মাতৃরূপের উপাসনায় ‘রাঙা জবা’র মাধ্যমে বাঙালির হৃদয়ে স্থায়ী আসন গড়ে নিয়েছেন।

সংকলনটির একনজরে সংক্ষিপ্ত চিত্র

বিষয়বিস্তারিত তথ্য
গ্রন্থের নামরাঙা জবা
রচয়িতাকাজী নজরুল ইসলাম
প্রকাশকাল১৯৬৬ খ্রিস্টাব্দ
মূল প্রকাশকডি. এম. লাইব্রেরি, কলকাতা
গ্রন্থের ধরনশ্যামাসঙ্গীত ও শাক্ত ভক্তিমূলক গীতি-সংকলন
প্রধান উপজীব্যদেবী কালীর করুণা, মাতৃরূপের আরাধনা, আত্মসমর্পণ ও আত্মনিবেদন
উল্লেখযোগ্য সুর/ধারারামপ্রসাদী সুর, কীর্তন, ভৈরবী, মালকোষ, কাফি ও খাম্বাজ রাগ
সাংস্কৃতিক ভূমিকাশাক্ত সাহিত্যের বিকাশ ও বাংলা সংগীতে অসাম্প্রদায়িক চেতনার চূড়ান্ত প্রতিফলন

 

‘রাঙা জবা’ সংকলনের প্রামাণ্য গানের তালিকা:

কাজী নজরুল ইসলামের ‘রাঙা জবা’ (১৯৬৬) গ্রন্থে মূলত দেবী কালীর রূপ, করুণা, সাধনা এবং শাক্ত ভাবধারাকে কেন্দ্র করে রচিত ১০০টিরও বেশি শ্যামাসঙ্গীত সংকলিত রয়েছে। নিচে এই গ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত কালজয়ী ও বহুল পরিচিত গানগুলোর একটি সুবিন্যস্ত এবং প্রামাণ্য তালিকা ভাব ও বিষয়বস্তু অনুযায়ী তুলে ধরা হলো:

১. মাতৃরূপ, মহিমা ও রূপালংকার বিষয়ক গান

  • আমার কালো মেয়ের পায়ের তলায় দেখে যা আলো আলোকময়
  • মা আমার সাধ করেছিস কালী হতে
  • তোর কালো রূপ লুকিয়ে রাখার জায়গা যে নাই মা রে
  • আমার মায়ের রূপ দেখে যা রে
  • তোরা দেখে যা রূপসী মা কালীর রূপ
  • এলো রে শ্যামা মা এলো রে
  • মহাকালের কোলে এসে তোরা দেখে যা রে
  • কে সাজালো তোরে মা আজ এমন রক্তজবায়
  • দেখেছিস কি তোরা মায়ের অভয় রাঙা চরণে

২. ভক্তির ব্যাকুলতা, আত্মসমর্পণ ও আর্তি

  • বল রে জবা বল / তোরা কোন্ সাধনায় পেলি শ্যামা মায়ের চরণতল
  • মা তোর চরণে জবা হয়ে ফুটে থাকি
  • মা তোর চরণে ঠাঁই দে আমার সব বিসর্জন দিয়ে
  • মা গো তুই কেমন মা রে, সন্তানকে কাঁদিয়ে রাখিস
  • তোকে ডেকে ডেকে মা গো দিন তো আমার শেষ হলো
  • আমায় নিয়ে আর কত খেলা খেলবি মা
  • মা মা বলে আর ডাকব না রে
  • তুই কি মা মোর দুঃখ বুঝিস, তুই তো জগতের মা

৩. শাক্ত সাধনা, শ্মশান ও আধ্যাত্মিক চেতনার গান

  • শ্মশানে জাগিছে শ্যামা মা
  • থাক্ রে থাক্ আমার মন, কালী-পদ্মে লীন হয়ে
  • সব ঘুচে যায় মায়াপাশ, শ্যামা মায়ের নাম নিলে
  • কালী নাম জপ রে মন
  • ঘোর অন্ধকার রাতে মা গো তুই জ্বালিস আলো
  • ত্যাগের আগুনে জ্বাল রে প্রদীপ, শ্যামা মায়ের পূজায়
  • মন রে তুই দেখলি না রে কালী মায়ের রূপের খেলা

৪. মান-অভিমান ও ঘরোয়া সম্পর্কের রামপ্রসাদী গীতি

  • সংসার-কারাগারে আমায় বন্দী করলি কেন মা
  • মা তোর চরণে জবা হয়ে কান্দি রে রাতদিন
  • আমি তোকে মা বলে আর ডাকব না
  • আমায় দে মা উমা, দে মা আমার ভয়ের ঝুলি
  • ওরে মন, তুই শ্যামা মায়ের নাম নিয়ে কাজ করে যা
  • তোরে মা মা বলে ডাকি, তুই তো মা সাড়া দিস না

৫. আগমনী ও বিজয়া পর্বের শাক্ত গীতি

  • ওরে ও নতুন মেঘ, নিয়ে চল্ উমার দেশে
  • গিরিরাজ, উমা আমার এসেছে গো ঘরে
  • উমা এলো রে আমাদের পাড়ায়
  • বিজয়ার দিন এলো মা গো, তোকে কেমনে বিদায় দিই
  • মা গো আজ বিদায়ের দিনে তোকে কীভাবে ছাড়ি

গ্রন্থভিত্তিক অতিরিক্ত গানের তথ্য

নজরুল একাডেমী ও বাংলা একাডেমী প্রকাশিত নজরুল গীতি অখণ্ড ও স্বরলিপি গ্রন্থাবলীতে ‘রাঙা জবা’র অন্তর্ভুক্ত প্রতিটি গানের স্বরলিপি ও মূল বাণীর নিখুঁত পাঠ সংরক্ষিত রয়েছে। নজরুল এই গানগুলোতে ভৈরবী, মালকোষ, কাফি, বসন্ত ও রামপ্রসাদী সুরের সমন্বয়ে বাংলা ভক্তিমূলক গানের ধারায় এক চিরস্থায়ী মানদণ্ড স্থাপন করে গেছেন।
Tags :

কাজী নজরুল ইসলাম

<div id="model-response-message-contentr_6711829050503afa" class="markdown markdown-main-panel md-content enable-luminous-fast-follows enable-updated-hr-color tutor-markdown-rendering" dir="ltr" aria-live="polite"> <div>বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে কাজী নজরুল ইসলাম (১৮৯৯–১৯৭৬) এক যুগান্তকারী ও বৈপ্লবিক ব্যক্তিত্ব, যিনি ‘বিদ্রোহী কবি’ এবং বাংলাদেশের জাতীয় কবি হিসেবে চিরস্মরণীয়। পরাধীন ভারতে শৃঙ্খলিত মানুষের স্বাধিকার আন্দোলন ও গোঁড়ামির বিরুদ্ধে তাঁর ক্ষুরধার লেখনী সাম্যবাদ, সাম্য ও অসাম্প্রদায়িক মানবতাবোধের এক অনবদ্য দলিল। সাহিত্য ও সংগীতের নানা শাখায় তাঁর অবাধ বিচরণ ছিল বিস্ময়কর; একদিকে যেমন তাঁর রচিত ‘বিদ্রোহী’ বা ‘প্রলয়োল্লাস’-এর মতো কবিতা পরাধীনতার বিরুদ্ধে দ্রোহের আগুন জ্বালিয়েছে, অন্যদিকে তাঁর সৃষ্ট চার সহস্রাধিক গান (নজরুল গীতি) বাংলা কাব্যসংগীতকে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে গেছে। আরবি-ফার্সি শব্দের সুনিপুণ ব্যবহারে বাংলা গজলকে জনপ্রিয় করার পাশাপাশি তিনি সমান মমতায় ইসলামি হামদ-নাত এবং শাক্ত ভাবধারার শ্যামাসঙ্গীত রচনা করে বাংলা সংস্কৃতিতে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির এক কালজয়ী উদাহরণ স্থাপন করেছেন। প্রেম, বিরহ, প্রকৃতি এবং অন্যায়ের বিরুদ্ধে আপসহীন সংগ্রামী সুরকে একসূত্রে বেঁধে নজরুল বিংশ শতাব্দীর শিল্প-সাহিত্যকে কেবল সমৃদ্ধই করেননি, বরং আজও তিনি মুক্তিকামী ও বঞ্চিত মানুষের হৃদয়ে ন্যায়বিচার ও মানবিক মর্যাদার চিরন্তন প্রেরণা হয়ে বেঁচে আছেন।</div> </div>

খুঁজুন

জনপ্রিয় লেখা

বিভাগসমূহ

সর্বশেষ খবর

সর্বশেষ লেখা সরাসরি ই-মেইলে পেতে সাবস্ক্রাইব করুন!



    সাম্প্রতিক লেখা

    © ২০২৬ আমার নজরুল, GOLN — সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত

    Join Us!

    Hey there! Here’s a neat way to recieve our latest posts & updates – just subscribe to our newsletter.

    Error: Contact form not found.

    Zero spam, Unsubscribe at any time.