কাজী নজরুল ইসলামের রাজদ্রোহের অভিযোগে ব্রিটিশ সরকার কর্তৃক বাজেয়াপ্ত অগ্নিগর্ভ কাব্যগ্রন্থ ‘বিষের বাঁশি’ (১৯২৪)-এ সংকলিত ‘ভূত-ভাগানোর গান’ কবিতাটি (বা রূপক সংগীতটি) মূলত পরাধীন ভারতবাসীর মন থেকে ভীতি, কুসংস্কার, হীনম্মন্যতা ও জড়তার মেকি ‘ভূত’ বা অপচ্ছায়া তাড়ানোর এক তীব্র ব্যঙ্গাত্মক ও বৈপ্লবিক আলেখ্য। কবি লোকজ ‘ওঝা’ ও ভূত তাড়ানোর মন্ত্রের রূপককে আশ্রয় করে পরাধীন জাতির অবচেতন মনের ভীতি ও মানসিক দাসত্বকে চাবুক মেরে সজাগ করতে চেয়েছেন। ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক রাজতন্ত্র মূলত ভারতবাসীর বুকের ওপর শাসন-শোষণের যে ‘ভূত’ হয়ে চেপে বসেছে, তার পেছনে সবচেয়ে বড় শক্তি হলো জনগণের নিজেদের ভেতরের ভয়, অলসতা ও পরমুখাপেক্ষিতা। কবি অত্যন্ত সাবলীল ও হাস্যরসিক অথচ ধারালো বাণীতে দেখিয়েছেন যে, অন্তরের সুপ্ত সিংহ রূপী আত্মশক্তিকে জাগিয়ে না তুললে এবং মন থেকে ভয়ের এই কুহক-ভূত না খেদালে কোনো সংগ্রামই পূর্ণতা পায় না। লোকায়ত রূপকের আশ্রয়ে শোষকের ভয় চূর্ণ করা এবং স্বজাতির মানসিক জড়তা ও অন্ধ বিশ্বাসকে ঝাঁকি দিয়ে উচ্ছেদ করার এই অভিনব ও তেজস্বী আহ্বান ‘ভূত-ভাগানোর গান’ কবিতাটিকে নজরুলের বৈপ্লবিক ও রূপক-কাব্যচেতনার এক অত্যন্ত অসামান্য ও উপভোগ্য নিদর্শনে পরিণত করেছে।
বিষের বাঁশি কাব্যগ্রন্থের ‘ভূত-ভাগানোর গান’ কবিতা
[বাউল গান]
১
২
৩
৪
৫
৬





















