Editor's Choice

ঝিঙে ফুল কাব্যগ্রন্থের ‘ঝিঙে ফুল’ কবিতা — কাজী নজরুল ইসলাম

বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলামের বিংশ শতাব্দীর প্রথমার্ধের অন্যতম জনপ্রিয় শিশুতোষ কাব্যগ্রন্থ ‘ঝিঙে ফুল’-এর নাম-কবিতা হলো ‘ঝিঙে ফুল’। এই কবিতায় বাংলার অতি সাধারণ ও অনাদৃত এক বন্য ফুল ঝিঙে ফুলের অপরূপ সৌন্দর্য এবং মাতৃভূমির প্রতি তার গভীর ভালোবাসার চিত্র অত্যন্ত সুনিপুণ ও ছন্দোময় ভাষায় ফুটে উঠেছে।

কবিতার মূল তথ্য

বিষয়বিবরণ
কবিতার নামঝিঙে ফুল
কবির নামকাজী নজরুল ইসলাম
মূল কাব্যগ্রন্থঝিঙেফুল
প্রকাশের বছর১৯২৬ (১৩৩৩ বঙ্গাব্দের আশ্বিন মাস)
প্রকাশকডি. এম. লাইব্রেরি, ৬১ নম্বর কর্ণওয়ালিশ স্ট্রিট, কলিকাতা
উৎসর্গবীর বাদলকে
কবিতার ধরনশিশুতোষ ও প্রকৃতিপ্রেমের কবিতা (Children’s and Nature Poem)

কবি পরিচিতি ও প্রেক্ষাপট

১৯২৬ সালে (১৩৩৩ বঙ্গাব্দ) প্রকাশিত ‘ঝিঙেফুল’ কাজী নজরুল ইসলামের অন্যতম শ্রেষ্ঠ শিশুতোষ কাব্যগ্রন্থ। এই গ্রন্থে কবি শিশুদের উপযোগী সহজ-সরল ও মিষ্টি ছন্দের মাধ্যমে প্রকৃতি, দেশপ্রেম ও গ্রামীণ সৌন্দর্যের কথা তুলে ধরেছেন। ‘ঝিঙে ফুল’ কবিতায় কবি দেখিয়েছেন যে, আকাশের তারা বা স্বর্গের প্রলোভনের চেয়ে নিজের মাটির পৃথিবীর প্রতি টান কতটা গভীর হতে পারে।

 

 

ঝিঙে ফুল কবিতা

ঝিঙে ফুল! ঝিঙে ফুল।

সবুজ পাতার দেশে ফিরোজিয়া ফিঙে-কুল –
                     ঝিঙে ফুল।
              গুল্মে পর্ণে
              লতিকার কর্ণে
              ঢলঢল স্বর্ণে
       ঝলমল দোলো দুল –
                     ঝিঙে ফুল॥
  
পাতার দেশের পাখি বাঁধা হিয়া বোঁটাতে,
গান তব শুনি সাঁঝে তব ফুটে ওঠাতে।

  
              পউষের বেলাশেষ
              পরি জাফরানি বেশ
              মরা মাচানের দেশ
       করে তোলো মশগুল –
                     ঝিঙে ফুল॥
  
শ্যামলী মায়ের কোলে সোনামুখ খুকু রে,
আলুথালু ঘুমু যাও রোদে-গলা দুকুরে।
       প্রজাপতি ডেকে যায় –
       ‘বোঁটা ছিঁড়ে চলে আয়!’
       আশমানে তারা চায় –
       ‘চলে আয় এ অকূল!’
              ঝিঙে ফুল॥
  
তুমি বলো – ‘আমি হায়
ভালোবাসি মাটি-মায়,
চাই না ও অলকায় –
       ভালো এই পথ-ভুল!’
              ঝিঙে ফুল॥

Jhinge Phul Kobita

Jhinge phul! Jhinge phul.
Shobuj patar deshe firojia finge-kul –
Jhinge phul.
Gulme parne
L otikar karne
Dholdhol swarne
Jholmol dolo dul –
Jhinge phul॥
Patar desher pakhi badha hiya botate,
Gaan tobo shuni sanjhe tobo phute othate.
Pousher belashesh
Pori jafrani besh
Mora machaner desh
Kore tolo mashgul –
Jhinge phul॥
Shyamoli mayer kole sonamukh khuku re,
Aluthalu ghumu jao rode-gola dukure.
Projapoti deke jay –
‘Bonta chhire chole ay!’
Ashmane tara chay –
‘Chole ay e okul!’
Jhinge phul॥
Tumi bolo – ‘Ami hay bhalobashi mati-may,
Chai na o olokay –
Bhalo ei poth-bhul!’
Jhinge phul॥
কবিতার মূল ভাব ও বিশ্লেষণ

  • প্রকৃতির সাধারণ রূপের বন্দনা:

    “ঝিঙে ফুল! ঝিঙে ফুল। / সবুজ পাতার দেশে ফিরোজিয়া ফিঙে-কুল”

    — কবি ঝিঙে ফুলকে সবুজ পাতার দেশে ‘ফিরোজিয়া ফিঙে’ পাখির সাথে তুলনা করে বাংলার অতি সাধারণ প্রকৃতির এক অসাধারণ চিত্র এঁকেছেন। পৌষের মরা মাচানেও সে যেন জাফরানি বেশে সৌন্দর্য ছড়ায়।

  • স্বর্গীয় প্রলোভন ও মাতৃভূমির প্রতি টান:

    কবিতায় প্রজাপতি তাকে বোঁটা ছিঁড়ে উড়ে আসার ডাক দেয় এবং আকাশের তারারা তাকে অসীম আকাশে চলে যাওয়ার আমন্ত্রণ জানায়। কিন্তু ঝিঙে ফুল মাটির পৃথিবীকে, অর্থাৎ তার মাতৃভূমিকে এতই ভালোবাসে যে স্বর্গের বা আকাশের প্রলোভন ত্যাগ করে সে এই মাটির বুকেই থেকে যেতে চায়। মাটির প্রতি এই টান ও দেশপ্রেমই শিশুতোষ ছন্দের আড়ালে এই কবিতার মূল সুর।

উৎস

কবিতাটির সম্পূর্ণ পাঠ এবং ঐতিহাসিক তথ্যাবলি সম্পর্কে জানতে আপনি গুগলে ‘ঝিঙে ফুল কবিতা কাজী নজরুল ইসলাম’ লিখে অনুসন্ধান করে পুরো কবিতাটি পড়তে পারেন।

Tags :

কাজী নজরুল ইসলাম

<div id="model-response-message-contentr_6711829050503afa" class="markdown markdown-main-panel md-content enable-luminous-fast-follows enable-updated-hr-color tutor-markdown-rendering" dir="ltr" aria-live="polite"> <div>বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে কাজী নজরুল ইসলাম (১৮৯৯–১৯৭৬) এক যুগান্তকারী ও বৈপ্লবিক ব্যক্তিত্ব, যিনি ‘বিদ্রোহী কবি’ এবং বাংলাদেশের জাতীয় কবি হিসেবে চিরস্মরণীয়। পরাধীন ভারতে শৃঙ্খলিত মানুষের স্বাধিকার আন্দোলন ও গোঁড়ামির বিরুদ্ধে তাঁর ক্ষুরধার লেখনী সাম্যবাদ, সাম্য ও অসাম্প্রদায়িক মানবতাবোধের এক অনবদ্য দলিল। সাহিত্য ও সংগীতের নানা শাখায় তাঁর অবাধ বিচরণ ছিল বিস্ময়কর; একদিকে যেমন তাঁর রচিত ‘বিদ্রোহী’ বা ‘প্রলয়োল্লাস’-এর মতো কবিতা পরাধীনতার বিরুদ্ধে দ্রোহের আগুন জ্বালিয়েছে, অন্যদিকে তাঁর সৃষ্ট চার সহস্রাধিক গান (নজরুল গীতি) বাংলা কাব্যসংগীতকে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে গেছে। আরবি-ফার্সি শব্দের সুনিপুণ ব্যবহারে বাংলা গজলকে জনপ্রিয় করার পাশাপাশি তিনি সমান মমতায় ইসলামি হামদ-নাত এবং শাক্ত ভাবধারার শ্যামাসঙ্গীত রচনা করে বাংলা সংস্কৃতিতে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির এক কালজয়ী উদাহরণ স্থাপন করেছেন। প্রেম, বিরহ, প্রকৃতি এবং অন্যায়ের বিরুদ্ধে আপসহীন সংগ্রামী সুরকে একসূত্রে বেঁধে নজরুল বিংশ শতাব্দীর শিল্প-সাহিত্যকে কেবল সমৃদ্ধই করেননি, বরং আজও তিনি মুক্তিকামী ও বঞ্চিত মানুষের হৃদয়ে ন্যায়বিচার ও মানবিক মর্যাদার চিরন্তন প্রেরণা হয়ে বেঁচে আছেন।</div> </div>

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

খুঁজুন

জনপ্রিয় লেখা

বিভাগসমূহ

সর্বশেষ খবর

সর্বশেষ লেখা সরাসরি ই-মেইলে পেতে সাবস্ক্রাইব করুন!



    সাম্প্রতিক লেখা

    © ২০২৬ আমার নজরুল, GOLN — সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত