আজি শৃঙ্খলে বাজিছে মাভৈ – Aji shringkhole bajiche mavoi – গানটি চন্দ্রবিন্দু গ্রন্থের অংশ। ডি এম লাইব্রেরি থেকে চন্দ্রবিন্দু’ গ্রন্থটি ১৩৩৮ বঙ্গাব্দের আশ্বিন মাসে ( ১৯৩১ সালের সেপ্টেম্বর ) চন্দ্রবিন্দু প্রথম প্রকাশিত হয়।
ইমন – কাওয়ালি
আজি শৃঙ্খলে বাজিছে মাভৈ
আজি শৃঙ্খলে বাজিছে মাভৈঃ – বরাভয়।
এ যে আনন্দ-বন্ধন, ক্রন্দন নয়॥
ওরে নাশিতে সবার এই বন্ধন-ত্রাস,
মোরা শৃঙ্খল ধরি তারে করি উপহাস,
সহি নিপীড়ন – পীড়নের আয়ু করি হ্রাস,
এ যে রুদ্র-আশীর্বাদ – লৌহবলয়॥
মোরা অগ্র-পথিক অনাগত দেবতার,
এই শৃঙ্খল বন্দিছে চরণ তাহার,
শোন শৃঙ্খলে তাঁর আগমনি-ঝংকার!
হবে দৈত্যকারায় নব অরুণ উদয়॥

বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে কাজী নজরুল ইসলাম (১৮৯৯–১৯৭৬) এক যুগান্তকারী ও বৈপ্লবিক ব্যক্তিত্ব, যিনি ‘বিদ্রোহী কবি’ এবং বাংলাদেশের জাতীয় কবি হিসেবে চিরস্মরণীয়। পরাধীন ভারতে শৃঙ্খলিত মানুষের স্বাধিকার আন্দোলন ও গোঁড়ামির বিরুদ্ধে তাঁর ক্ষুরধার লেখনী সাম্যবাদ, সাম্য ও অসাম্প্রদায়িক মানবতাবোধের এক অনবদ্য দলিল। সাহিত্য ও সংগীতের নানা শাখায় তাঁর অবাধ বিচরণ ছিল বিস্ময়কর; একদিকে যেমন তাঁর রচিত ‘বিদ্রোহী’ বা ‘প্রলয়োল্লাস’-এর মতো কবিতা পরাধীনতার বিরুদ্ধে দ্রোহের আগুন জ্বালিয়েছে, অন্যদিকে তাঁর সৃষ্ট চার সহস্রাধিক গান (নজরুল গীতি) বাংলা কাব্যসংগীতকে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে গেছে। আরবি-ফার্সি শব্দের সুনিপুণ ব্যবহারে বাংলা গজলকে জনপ্রিয় করার পাশাপাশি তিনি সমান মমতায় ইসলামি হামদ-নাত এবং শাক্ত ভাবধারার শ্যামাসঙ্গীত রচনা করে বাংলা সংস্কৃতিতে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির এক কালজয়ী উদাহরণ স্থাপন করেছেন। প্রেম, বিরহ, প্রকৃতি এবং অন্যায়ের বিরুদ্ধে আপসহীন সংগ্রামী সুরকে একসূত্রে বেঁধে নজরুল বিংশ শতাব্দীর শিল্প-সাহিত্যকে কেবল সমৃদ্ধই করেননি, বরং আজও তিনি মুক্তিকামী ও বঞ্চিত মানুষের হৃদয়ে ন্যায়বিচার ও মানবিক মর্যাদার চিরন্তন প্রেরণা হয়ে বেঁচে আছেন।

















