Editor's Choice

অগ্নিবীণা কাব্যগ্রন্থের ‘খেয়াপারের তরণী’ কবিতা — কাজী নজরুল ইসলাম

কবিতার মূল তথ্য:

বিষয়বিবরণ
কবিতার নামখেয়াপারের তরণী
কবির নামকাজী নজরুল ইসলাম
মূল কাব্যগ্রন্থঅগ্নিবীণা
প্রকাশের বছর১৯২২ (কার্তিক ১৩২৯ বঙ্গাব্দ)
কবিতার ধরনপ্রতীকী ও আধ্যাত্মিক লিরিক কবিতা (Symbolic / Spiritual Lyric)

কবি ও গ্রন্থ পরিচিতি:

১৯২২ সালের অক্টোবর মাসে (কার্তিক ১৩২৯ বঙ্গাব্দ) প্রকাশিত ‘অগ্নিবীণা’ বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে এক যুগান্তকারী মাইলফলক। বিপ্লবী নেতা বারীন্দ্রকুমার ঘোষকে উৎসর্গকৃত এই গ্রন্থে যেমন রয়েছে বিদ্রোহ ও শক্তির ঝড়, তেমনই ‘খেয়াপারের তরণী’ কবিতায় রয়েছে এক অন্তর্মুখী আত্মদর্শন ও গভীর জীবনবোধ। প্রলয়ের ডঙ্কা ও ভৈরব গর্জন উপেক্ষা করে পুণ্যের যাত্রীরা কীভাবে মহান নবী মোহাম্মদ (সা.) এবং তাঁর খলিফাগণ—আবুবকর, উসমান, উমর ও আলীর নির্দেশনায় এবং ‘লা-শরিক আল্লাহ’ ধ্বনিতে তরণী বেয়ে পার হয়ে যায়, তা এই কবিতায় অত্যন্ত তেজস্বী ভাষায় প্রকাশিত হয়েছে।

খেয়াপারের তরণী কবিতা (সম্পূর্ণ)

যাত্রীরা রাত্তিরে হতে এল খেয়া পার,

বজ্রেরি তূর্যে এ গর্জেছে কে আবার?
প্রলয়েরি আহ্বান ধ্বনিল কে বিষাণে!
ঝন্‌ঝা ও ঘন দেয়া স্বনিল রে ঈশানে!

নাচে পাপ-সিন্ধুতে তুঙ্গ তরঙ্গ!
মৃত্যুর মহানিশা রুদ্র উলঙ্গ!
নিঃশেষে নিশাচর গ্রাসে মহাবিশ্বে,
ত্রাসে কাঁপে তরণীর পাপী যত নিঃস্বে।

তমসাবৃতা ঘোরা ‘কিয়ামত’ রাত্রি,
খেয়া-পারে আশা নাই ডুবিল রে যাত্রী!
দমকি দমকি দেয়া হাঁকে কাঁপে দামিনী,
শিঙ্গার হুঙ্কারে থরথর যামিনী!

লঙ্ঘি এ সিন্ধুরে প্রলয়ের নৃত্যে
ওগো কার তরী ধায় নির্ভীক চিত্তে–
অবহেলি জলধির ভৈরব গর্জন
প্রলয়ের ডঙ্কার ওঙ্কার তর্জন!

পুণ্য-পথের এ যে যাত্রীরা নিষ্পাপ,
ধর্মেরি বর্মে সু-রক্ষিত দিল্ সাফ!
নহে এরা শঙ্কিত বজ্র নিপাতেও
কাণ্ডারী আহ্‌মদ তরী ভরা পাথেয়।

আবুবকর উস্‌মান উমর আলি হায়দর
দাঁড়ি যে এ তরণীর, নাই ওরে নাই ডর!
কাণ্ডারী এ তরীর পাকা মাঝি মাল্লা,
দাঁড়ি-মুখে সারি-গান –লা-শরিক আল্লাহ!

‘শাফায়ত’-পাল-বাঁধা তরণীর মাস্তুল,
‘জান্নাত্’ হতে ফেলে হুরি রাশ্ রাশ্ ফুল।
শিরে নত স্নেহ-আঁখি মঙ্গল দাত্রী,
গাও জোরে সারি-গান ও-পারের যাত্রী।
বৃথা ত্রাসে প্রলয়ের সিন্ধু ও দেয়া-ভার,
ঐ হলো পুণ্যের যাত্রীরা খেয়া পার।

 

খেয়াপারের তরণী কবিতার Romanized Version:

Jatramra ratire hote elo kheya par,
Bojreri turye a gorjeche ke abar?
Proloyeri ahban dhonil ke bishane!
Jhonjha o ghono deya shonil re ishane!
Nache pap-sindhute tungo torongo!
Mrittur mohanisha rudra ulongo!
Nishese nishachor grase mohabishwe,
Trase kape toroner papi joto nisswe.
Tamoshabrita ghoro ‘kiyamot’ ratri,
Kheya-pare asha nai dubilo re jatri!
Domki domki deya hake kape damini,
Shingar hunkare thorothor jamini!
Longhi a sindhure proloyer nritye
Ogo kar tori dhay nirbhik chitte–
Obheli jolodhir bhoirob gorjon
Proloyer donkar onkar torjon!
Punyo-pother a je jatrira nishpap,
Dharmeri borme su-rokkhito dil saf!
Nohe era shongkito bojro nipateo
Kandari ahmad tori vhora pathey.
Abubokor usman umor ali haydor
Dari je a toroner, nai ore nai dor!
Kandari a paka majhi malla,
Dari-mukhe shari-gan –la-shorik allah!
‘Shafayat’-pal-bandha toroner mastul,
‘Jannat’ hote fele huri rash rash ful!
Shire noto sneho-ankhi mongol datri,
Gao jore shari-gan o-parer jatri.
Britha trase proloyer sindhu o deya-bhar,
Oi holo punyer jatrira kheya par.

কবিতার মূল ভাব ও বিশ্লেষণ:

  • প্রলয় ও নির্ভীক যাত্রা: জীবনের অন্তিম প্রলয় ও কিয়ামতের রাতের মতো ভয়ংকর সংকটেও পুণ্যের যাত্রীদের তরণী কীভাবে নির্ভীকচিত্তে পার হয়ে যায়, তার প্রতীকী প্রকাশ।
  • পুণ্যবান কাণ্ডারী ও মুক্তি: হযরত মোহাম্মদ (সা.) ও খোলাফায়ে রাশেদীনের কাণ্ডারিত্বে এবং আত্মিক শক্তির বলে সমস্ত ভয় ও পাপের অন্ধকার পেরিয়ে জান্নাতের পানে যাত্রার উদাত্ত আহ্বান—এই কবিতার মূল প্রাণ।

উৎস:

কবিতাটির প্রামাণ্য পাঠ, বানানরীতি এবং ঐতিহাসিক তথ্যাবলি কাজী নজরুল ইসলামের প্রামাণ্য রচনাবলী ও ‘অগ্নিবীণা’ কাব্যগ্রন্থের প্রথম প্রকাশনা (১৯২২) থেকে সতর্কতার সাথে সংগ্রহ ও বিন্যস্ত করা হয়েছে।

Tags :

কাজী নজরুল ইসলাম

<div id="model-response-message-contentr_6711829050503afa" class="markdown markdown-main-panel md-content enable-luminous-fast-follows enable-updated-hr-color tutor-markdown-rendering" dir="ltr" aria-live="polite"> <div>বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে কাজী নজরুল ইসলাম (১৮৯৯–১৯৭৬) এক যুগান্তকারী ও বৈপ্লবিক ব্যক্তিত্ব, যিনি ‘বিদ্রোহী কবি’ এবং বাংলাদেশের জাতীয় কবি হিসেবে চিরস্মরণীয়। পরাধীন ভারতে শৃঙ্খলিত মানুষের স্বাধিকার আন্দোলন ও গোঁড়ামির বিরুদ্ধে তাঁর ক্ষুরধার লেখনী সাম্যবাদ, সাম্য ও অসাম্প্রদায়িক মানবতাবোধের এক অনবদ্য দলিল। সাহিত্য ও সংগীতের নানা শাখায় তাঁর অবাধ বিচরণ ছিল বিস্ময়কর; একদিকে যেমন তাঁর রচিত ‘বিদ্রোহী’ বা ‘প্রলয়োল্লাস’-এর মতো কবিতা পরাধীনতার বিরুদ্ধে দ্রোহের আগুন জ্বালিয়েছে, অন্যদিকে তাঁর সৃষ্ট চার সহস্রাধিক গান (নজরুল গীতি) বাংলা কাব্যসংগীতকে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে গেছে। আরবি-ফার্সি শব্দের সুনিপুণ ব্যবহারে বাংলা গজলকে জনপ্রিয় করার পাশাপাশি তিনি সমান মমতায় ইসলামি হামদ-নাত এবং শাক্ত ভাবধারার শ্যামাসঙ্গীত রচনা করে বাংলা সংস্কৃতিতে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির এক কালজয়ী উদাহরণ স্থাপন করেছেন। প্রেম, বিরহ, প্রকৃতি এবং অন্যায়ের বিরুদ্ধে আপসহীন সংগ্রামী সুরকে একসূত্রে বেঁধে নজরুল বিংশ শতাব্দীর শিল্প-সাহিত্যকে কেবল সমৃদ্ধই করেননি, বরং আজও তিনি মুক্তিকামী ও বঞ্চিত মানুষের হৃদয়ে ন্যায়বিচার ও মানবিক মর্যাদার চিরন্তন প্রেরণা হয়ে বেঁচে আছেন।</div> </div>

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

খুঁজুন

জনপ্রিয় লেখা

বিভাগসমূহ

সর্বশেষ খবর

সর্বশেষ লেখা সরাসরি ই-মেইলে পেতে সাবস্ক্রাইব করুন!



    সাম্প্রতিক লেখা

    © ২০২৬ আমার নজরুল, GOLN — সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত

    Join Us!

    Hey there! Here’s a neat way to recieve our latest posts & updates – just subscribe to our newsletter.

    Error: Contact form not found.

    Zero spam, Unsubscribe at any time.