“কোন শরতে পূর্ণিমা চাঁদ” একটি অপূর্ব নজরুলসঙ্গীত, যা রচয়িতা ও সুরকার হিসেবে বাংলা সাহিত্যের অন্যতম প্রধান কবি ও সংগীতজ্ঞ কাজী নজরুল ইসলাম-এর সৃষ্টিকর্ম। এই গানটি মূলত তার রচিত অসংখ্য গানগুলোর মধ্যে একটি অনন্য রত্ন, যা প্রেম, প্রকৃতি ও রোমান্টিক আবহে রচিত।
গানটির শিরোনামেই ধরা পড়ে এর কাব্যিক সৌন্দর্য — “কোন শরতে পূর্ণিমা চাঁদ” — যা শরতের নির্মল চাঁদকে কেন্দ্র করে রচিত একটি চিত্রময় ও হৃদয়গ্রাহী গীতিকবিতা। গানটি প্রেমের আবেগে পরিপূর্ণ এবং কবির ভাষায় এক অনির্বচনীয় ভালোবাসার প্রকাশ ঘটে এতে। সুর ও ছন্দের দিক থেকেও গানটি অত্যন্ত মাধুর্যমণ্ডিত।
নজরুল তার সীমিত কিন্তু গভীর কর্মজীবনে ৩,০০০-এরও বেশি গান রচনা ও সুরারোপ করেছেন। তার সংগীতচর্চা বাংলা গানের ধারায় এক বৈপ্লবিক পরিবর্তন এনেছে। তিনি বাংলা গানে ইসলামী সঙ্গীত, কাওয়ালি, শ্যামা সঙ্গীত, ভক্তিগীতি, প্রেমগীতি, দেশাত্মবোধক গান—সব ক্ষেত্রেই যুগান্তকারী ভূমিকা রেখেছেন।
“কোন শরতে পূর্ণিমা চাঁদ” গানটি রাগ ও সুরভিত্তিক একটি রোমান্টিক নজরুলগীতি, যা কখনো কাওয়ালি বা সিন্ধু সুরের ছোঁয়াও পেয়েছে বলেই ধরা হয়। এটি প্রেমের এক মোহময় অভিব্যক্তি—একটি গভীর আকর্ষণের সঙ্গীতায়িত রূপ।
কোন শরতে পূর্ণিমা চাঁদ গানের কথা:
কোন্ শরতে পূর্ণিমা-চাঁদ আসিলে এ ধরাতল।
কে মথিল তব তরে কোন্ সে ব্যথার সিন্ধু-জল॥
দুয়ার-ভাঙা জাগল জোয়ার বেদনার ওই দরিয়ায়।
আজ ভারতী অশ্রুমতী মধ্যে দুলে টলমল॥
কখন তোমার বাজল বেণু প্রাণের বংশীবটছায়।
মরা গাঙে ভাঙা ঘাটে ঘট ভরে গোপিনী দল॥
বিদ্যুতের বাঁকা হাসি হাসিয়া কালো মেঘে,
আসিলে কে অভিমানী বহায়ে মরুতে ঢল॥
লয়ে হাতে জিয়ন-কাঠি আসিলে কে রূপ-কুমার
উঠল জেগে রূপ-কুমারী আঁধারে ওই ঝলমল॥
আকাশে চকোরী কাঁদে, তড়াগে চাহে কুমুদ,
ঝরুক আঁখির শেফালিকা ছুঁয়ে তব পদতল॥
























