বাংলা সংগীতে কাজী নজরুল ইসলাম এক অলৌকিক ও অনন্য সুরসাধক। তাঁর বিপুল সাঙ্গীতিক সৃষ্টির মধ্যে ধর্মীয় ভক্তিগীতি পর্যায়টি এক কালজীয় ও সমৃদ্ধতম স্থান দখল করে আছে। নজরুল ছিলেন বিশ্বজনীন অসাম্প্রদায়িক চেতনার প্রতীক—তিনি যেমন পরম মমতায় ও নিখুঁত ইসলামি আবেশে হামদ, নাত ও গজল রচনা করেছেন, ঠিক তেমনই পরম অনুরাগ ও শাস্ত্রীয় গভীরতায় রচনা করেছেন সনাতন ধর্মীয় ভক্তিগীতি।
নজরুলের ভক্তিগীতি কোনো লোকদেখানো সাম্যবাদের প্রয়াস ছিল না; তা ছিল কবিহৃদয়ের স্বতঃস্ফূর্ত আধ্যাত্মিক আকুলতা, নিখাদ ভক্তি এবং সৃষ্টির প্রতি অখণ্ড ভালোবাসা। শ্রীকৃষ্ণের বাঁশির সুর, মায়ের চরণপদ্ম, শিবের তাণ্ডব কিংবা বৈষ্ণবের কীর্তন—সবকিছুতেই নজরুলের সুর ও বাণী বাংলা সংগীতকে এক নতুন দিগন্ত এনে দিয়েছিল।
Table of Contents
Toggleঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট ও সজনীকান্ত দাসের মূল্যায়ন
নজরুল যখন সনাতন ধর্মভিত্তিক ভক্তিগীতি রচনা শুরু করেন, তখন একদিকে ছিল ব্রিটিশ শোষণের রাজনৈতিক উত্তাপ, আর অন্যদিকে ছিল সম্প্রদায়ে সম্প্রদায়ে ভেদাভেদ। এই কঠিন সময়ে নজরুলের ভক্তিগীতি হিন্দু-মুসলিম উভয় সম্প্রদায়ের মনকে এক অদ্ভুত আত্মিক মেলবন্ধনে বেঁধে ফেলেছিল।
তৎকালীন প্রখ্যাত সাহিত্য সমালোচক সজনীকান্ত দাস নজরুলের এই ভক্তিগীতির তাৎপর্য অনুধাবন করে অত্যন্ত স্পষ্টভাবে লিখেছিলেন:
“ভক্তিগীতি রচিত না হলে নজরুল সাঙ্গীতিকভাবে সব মানুষের কাছাকাছি যেতে পারতেন না। শুধুমাত্র ইসলামী ও সনাতন ধর্মের ভক্তিগীতির সুর ও বাণী এক শ্রেণীর মানুষের হৃদয় ছুঁয়ে গিয়েছিল। তাই কাজী নজরুল অসাম্প্রদায়িকতায় ছিলেন সবার উর্ধ্বে।”
গবেষক সুবোধ সেন তাঁর বিখ্যাত ‘বাংলা ভক্তিগীতির ধারা’ গ্রন্থে নজরুলের এই বিশাল সৃষ্টিসম্ভারকে বাংলা ভক্তিগীতির ইতিহাসের এক যুগান্তকারী মোড় হিসেবে চিহ্নিত করেছেন।
সনাতন ধর্মভিত্তিক নজরুল-ভক্তিগীতির বহুভাষিক বৈচিত্র্য
নজরুল সনাতন ধর্মের প্রায় প্রতিটি শাখা, দেব-দেবী, অবতার এবং লৌকিক উৎসবকে কেন্দ্র করে গান রচনা করেছেন। তাঁর এই সৃষ্টির বৈচিত্র্যকে নিচে বিশদভাবে আলোচনা করা হলো:
১. নিরাকার ও সাকার ঈশ্বর বন্দনা (ভজন)
সৃষ্টিকর্তা এবং মানুষের মধ্যকার পরম আত্মিক সম্পর্কের আকুলতা ফুটে উঠেছে নজরুলের ঈশ্বর বন্দনামূলক ভজনগুলোতে। সংসারের দুঃখ-কষ্ট কাটিয়ে প্রভুর সান্নিধ্য পাওয়ার আকুতি তিনি নিবেদন করেছেন দরদী সুরে:
- বিখ্যাত গান: “যুগ যুগ ধরি লোকালয়ে মোর প্রভুরে খুঁজিয়া বেড়াই”
- গ্রন্থ ও রেকর্ড বিবরণ: গানটি নজরুল গীতি (অখণ্ড) সংকলনে সংগৃহীত এবং এর স্বরলিপি হিন্দোল (২য় খণ্ড)-এ রয়েছে। কাহারবা তালে মাঢ় রাগে রচিত এই ভজনটি রেকর্ড নম্বর ৭৩৭থ-তে কণ্ঠশিল্পী শংকর মিশ্রের কণ্ঠে অমর হয়ে আছে।
২. শ্যামাসংগীত: কালী সাধনার ঐতিহ্য ও নতুন রূপ
বাংলা সাহিত্যের শ্যামাসংগীতের ধারায় সাধক রামপ্রসাদ সেন (১৭২০–১৮২৯), দেওয়ান কমলাকান্ত (১৭৭২–১৮২১), দাশরথি রায় (১৮০৬–১৮৫৬) এবং রসিক রায়ের (১৮৫০–১৯৩৬) যে ঐতিহাসিক ঐতিহ্য ছিল, নজরুল সেখানে নিজেকে সর্বকালের অন্যতম শ্রেষ্ঠ শ্যামাসংগীত রচয়িতা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেন। মা কালীর চরণপদ্ম ও লাল জবা ফুলকে রূপক করে তিনি অসংখ্য হৃদয়স্পর্শী গান উপহার দেন:
- বিখ্যাত গান: “বলরে জবা বল”
- গ্রন্থ ও রেকর্ড বিবরণ: কাব্যগ্রন্থ রাঙা জবা-র অন্তর্গত এই গানটির স্বরলিপি সুরবাহার-এ প্রকাশিত। দাদরা তালে রচিত এই ভক্তিমূলক গানটি গ্রামোফোন রেকর্ড নম্বর ৭৪২১-এ প্রখ্যাত শিল্পী মৃণাল কান্তি ঘোষের কণ্ঠে প্রচারিত হয়।
৩. শক্তিসাধনা ও দুর্গা বন্দনা
দশভুজা দেবী দুর্গা সনাতন ধর্মে অসীম শক্তি ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে ন্যায়ের প্রতীক। দুর্গাপূজা ও দেবীর রণরঙ্গিনী রূপকে নজরুল অত্যন্ত সাবলীল ও গাম্ভীর্যপূর্ণ সুরে সংগীতে রূপ দিয়েছেন:
- বিখ্যাত গান: “এলরে এল ঐ রণ রঙ্গিনী”
- গ্রন্থ ও রেকর্ড বিবরণ: বুলবুল (৩য় খণ্ড) গ্রন্থে সংকলিত এই গানটি সেপ্টেম্বর ১৯৪২-এ প্রকাশিত হয়। নজরুল স্বরলিপি (৮ম খণ্ড)-তে এর স্বরলিপি রয়েছে। চন্দ্রকোষ রাগে এবং কাহারবা তালে গানটির সুরসংযোজনা করেছিলেন সুরকার চিত্ত রায়।
৪. উমা-আগমনী গান
শারদীয় দুর্গোৎসবে উমার বাপের বাড়িতে আগমনকে কেন্দ্র করে বাংলায় যে ‘আগমনী’ গানের লোকায়ত ধারা রয়েছে, নজরুল তাতেও নিখুঁত সুরের ছোঁয়া দিয়েছেন:
- বিখ্যাত গান: “জাগ যোগ মায়া জাগ মৃন্ময়ী”
- গ্রন্থ ও রেকর্ড বিবরণ: গীতি শতদল গ্রন্থের এই গানটি নজরুল স্বরলিপি (৭ম খণ্ড)-এ সংগৃহীত। একতাল তালের ওপর যোগীয়া রাগে রচিত এই গানটি গ্রামোফোন রেকর্ড নম্বর ৭১৫৬-তে শিল্পী কে. মল্লিকের কণ্ঠে রেকর্ড করা হয়।
৫. মহাদেব শিবসংগীত (ধ্রুপদাঙ্গ)
সনাতন ধর্মে মহাদেব শিব হলেন প্রলয় ও কল্যাণের দেবতা। শিবের তাণ্ডব নৃত্য ও গম্ভীর রূপকে প্রকাশ করার জন্য নজরুল ধ্রুপদের মতো কঠিন ও গম্ভীর গায়নশৈলী বেছে নিয়েছিলেন:
- বিখ্যাত গান: “গরজে গম্ভীর গগনে কণ্ঠ/ডমরু”
- গ্রন্থ ও নাটক: বুলবুল গ্রন্থ এবং সেতু-বন্ধন গীতিনাট্যে এই গানটি অন্তর্ভুক্ত।
- সাঙ্গীতিক বিবরণ: স্বরলিপিকার স্বয়ং কাজী নজরুল ইসলাম। মালকোষ রাগে ও তেওড়া তালে রচিত এই ধ্রুপদাঙ্গ গানে পাখোয়াজের গুরুগম্ভীর বোল ব্যবহার করা হয়েছে।
৬. বৈষ্ণবীয় ভাবসম্পন্ন ভজন
ঈশ্বরস্তুতির পাশাপাশি মানবজীবনের শোক-দুঃখ কাটিয়ে ওঠার প্রার্থনামূলক ভজন রচনায় নজরুলের মেধা ছিল অনন্য:
- বিখ্যাত গান: “হে বিধাতা দুঃখ শোকমাঝে”
- গ্রন্থ ও বিবরণ: গীতি গ্রন্থের এই গানটি জুলাই ১৯৩৫-এ প্রকাশিত সঙ্গীতাঞ্জলী (৪র্থ খণ্ড)-এ স্বরলিপিবদ্ধ হয়। মধুমাধবী সারং রাগে ও ত্রিতাল-এ রচিত এই ভজনটি শিল্পী কণিকা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কণ্ঠে এক স্বর্গীয় অনুভূতি সৃষ্টি করে।
৭. গৌরীয় কীর্তন ও রাধা-কৃষ্ণ লীলা
শ্রীচৈতন্যদেব প্রবর্তিত ‘কীর্তন’ বাংলা সংগীতে এক স্বতন্ত্র ও ভাবালু গীতরীতি। হারমোনিয়াম, খোল, করতাল, বাঁশি ও বেহালা সহযোগে ‘তাল-ফেরতা’ (তালের রূপান্তর) ব্যবহার করে নজরুল অজস্র কীর্তন রচনা করেছেন।
- কীর্তন গান: “আমি কলহেরী তরে কলহ করেছি” (নজরুল গীতি অখণ্ড, সুধীন দাস কর্তৃক স্বরলিপিবদ্ধ ৩য় খণ্ড, রেকর্ড নং ৫৩৭, শিল্পী নীলিমা বন্দ্যোপাধ্যায়, তাল: ফেরতা)।
- শ্রীকৃষ্ণ রূপায়ণ: “ভগবান শ্রীকৃষ্ণ মহা অবতার” (রাঙা জবা গ্রন্থ, প্রকাশ: ডিসেম্বর ১৯৩৫, রেকর্ড নং ৪১৭২, শিল্পী দেবেন বিশ্বাস, তাল: কাহারবা)।
- শ্রীগৌরাঙ্গ প্রসঙ্গ: “একি অপরূপ যুগল মিলন” (নজরুল রচনা সম্ভার ৪র্থ খণ্ড, নাটিকা: বিষ্ণুপ্রিয়া, শিল্পী মুকুন্দ, তাল: কাহারবা)।
৮. দেব-দেবী ও অবতার প্রসঙ্গ: সরস্বতী, শ্রীরাম ও সীতা
- সরস্বতী বন্দনা: বিদ্যার দেবী সরস্বতীকে প্রণাম জানিয়ে নজরুল রচনা করেন “জয় বাণী বিদ্যাদায়িনী” (গ্রন্থ: চন্দ্রবিন্দু, রাগ: খাম্বাজ, তাল: একতাল)।
- শ্রীরামচন্দ্র প্রসঙ্গ: রামায়ণের অবতার রামচন্দ্রকে স্মরণ করে তিনি লেখেন “মন জপ নাম শ্রী রঘু, পতি রাম” (গ্রন্থ: সন্ধ্যামালতি, মিশ্র তিলং রাগ, ঝাঁপতাল, রেকর্ড নং ১২১৯৬)।
- সীতা বন্দনা: শক্তিরূপিনী সীতার স্মরণে তাঁর গান “কমলারূপিনী শক্তিস্বরূপিনী” (দাদরা তাল)।
৯. আধুনিক যুগের মহাপুরুষ স্মরণ: শ্রীরামকৃষ্ণ ও স্বামী বিবেকানন্দ
- শ্রীরামকৃষ্ণ পরমহংসদেব: “জয়তু শ্রী রাম কৃষ্ণ নমঃ নমঃ” (নজরুল গীতি অখণ্ড, রেকর্ড নং ৫৪৫৬, শিল্পী ভবানী চন্দ্র দাস, সুরকার মনোরঞ্জন সেন, রাগ: ইমন, তাল: একতাল)।
- স্বামী বিবেকানন্দ: শ্রীরামকৃষ্ণ দেবের জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে বিবেকানন্দের বীর সন্ন্যাস রূপকে শ্রদ্ধার্ঘ্য জানিয়ে তিনি লেখেন “সন্ন্যাসী বীর” (গ্রন্থ: বনগীতি, প্রকাশ: ১৯৩৭, রেকর্ড নং ৯৮৮ট, তেওড়া তাল, কণ্ঠ: যূথিকা রায় ও কমল দাশ)।
১০. লৌকিক উৎসবের গান: হরিলুটের গান
গ্রামীণ সনাতন ধর্মাবলম্বীদের আনন্দের অনুষ্ঠান ‘হরিলুট’-কে কেন্দ্র করে কবি লিখেছেন লৌকিক মেজাজের গান “লাগলো হরি লুটের বাহার”, যা গ্রামীণ জীবনের সজীবতাকে ফুটিয়ে তোলে।
একনজরে নজরুলের সনাতন ভক্তিগীতির বৈচিত্র্যময় ক্যানভাস
| ভক্তিগীতির শাখা | বিখ্যাত গান/চরণ | রাগ ও তাল | মূল গ্রন্থ/শিল্পী/রেকর্ড |
| ঈশ্বর বন্দনা (ভজন) | যুগ যুগ ধরি লোকালয়ে মোর | রাগ: মাঢ়, তাল: কাহারবা | নজরুল গীতি অখণ্ড (শিল্পী: শংকর মিশ্র, রেকর্ড: ৭৩৭৭) |
| শ্যামাসংগীত | বলরে জবা বল | তাল: দাদরা | রাঙা জবা (শিল্পী: মৃণাল কান্তি ঘোষ, রেকর্ড: ৭৪২১) |
| দুর্গা বন্দনা | এলরে এল ঐ রণ রঙ্গিনী | রাগ: চন্দ্রকোষ, তাল: কাহারবা | বুলবুল ৩য় (সুর: চিত্ত রায়, সেপ্টেম্বর ১৯৪২) |
| আগমনী | জাগ যোগ মায়া জাগ মৃন্ময়ী | রাগ: যোগীয়া, তাল: একতাল | গীতি শতদল (শিল্পী: কে. মল্লিক, রেকর্ড: ৭১৫৬) |
| শিবসংগীত (ধ্রুপদ) | গরজে গম্ভীর গগনে… | রাগ: মালকোষ, তাল: তেওড়া | বুলবুল / গীতিনাট্য সেতু-বন্ধন (পাখোয়াজ ব্যবহৃত) |
| বৈষ্ণবীয় কীর্তন | আমি কলহেরী তরে কলহ করেছি | তাল: ফেরতা (তাল-ফেরতা) | স্বরলিপিকার: সুধীন দাস (শিল্পী: নীলিমা বন্দ্যোপাধ্যায়) |
| সরস্বতী বন্দনা | জয় বাণী বিদ্যাদায়িনী | রাগ: খাম্বাজ, তাল: একতাল | চন্দ্রবিন্দু (নজরুল স্বরলিপি ৫ম খণ্ড) |
| শ্রীরামচন্দ্র প্রসঙ্গ | মন জপ নাম শ্রী রঘু, পতি রাম | রাগ: মিশ্র তিলং, তাল: ঝাঁপতাল | সন্ধ্যামালতি (রেকর্ড: ১২১৯৬) |
| শ্রীরামকৃষ্ণ বন্দনা | জয়তু শ্রী রাম কৃষ্ণ নমঃ নমঃ | রাগ: ইমন, তাল: একতাল | নজরুল গীতি অখণ্ড (শিল্পী: ভবানী চন্দ্র দাস) |
| স্বামী বিবেকানন্দ | সন্ন্যাসী বীর | তাল: তেওড়া | বনগীতি, ১৯৩৭ (শিল্পী: যূথিকা রায় ও কমল দাশ) |
সমাপ্তি
কাজী নজরুল ইসলামের রচিত সনাতন ধর্মভিত্তিক ভক্তিগীতিগুলো কেবল কোনো একটি বিশেষ সম্প্রদায়ের প্রার্থনাসংগীত নয়; তা হলো সমগ্র বাংলা সংগীত সাহিত্যের এক অমূল্য ও অবিনাশী সম্পদ। ধর্মকে গোঁড়ামির খাঁচা থেকে বের করে এনে নজরুল তাকে মিলিয়েছিলেন সর্বজনীন প্রেম, কাব্যিক নান্দনিকতা ও শাস্ত্রীয় সুরের লহমায়।
ইসলামি গানের পাশাপাশি সনাতন ধর্মের গান সৃষ্টিতে তাঁর এই অনন্য পারদর্শিতা প্রমাণ করে যে, প্রকৃত শিল্পীর কাছে কোনো ধর্মীয় দেয়াল থাকে না। নজরুলের ভক্তিগীতি যুগে যুগে বাঙালিকে অসাম্প্রদায়িক হতে, মানুষকে ভালোবাসতে এবং সুরের ভাবরসে ঈশ্বরকে নিজের অন্তরে অনুভব করতে প্রেরণা যুগিয়ে যাবে।

সুফি ফারুক ইবনে আবুবকর একজন প্রবিশিষ্ট তথ্যপ্রযুক্তিবিদ, শিক্ষা ও আইসিটি উদ্যোক্তা, লেখক, সমাজসেবক এবং অসাম্প্রদায়িক সাংস্কৃতিক চেতনার অনুরাগী। জাতীয় পর্যায়ে তরুণদের দক্ষতা উন্নয়ন এবং প্রযুক্তিভিত্তিক শিক্ষা প্রসারে অবদানের পাশাপাশি তিনি আবহমান বাঙালি সংস্কৃতি ও কাজী নজরুল ইসলামের সাম্যবাদী ভাবধারাকে দেশ ও দেশের বাইরের মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার প্রয়াসে এই উদ্যোগের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রকাশক হিসেবে ভূমিকা পালন করছেন।
পেশাগত জীবনে তিনি একটি শীর্ষস্থানীয় টেলিকম প্রতিষ্ঠানের প্রধান তথ্যপ্রযুক্তি কর্মকর্তা (সিআইও) হিসেবে দীর্ঘ সময় কৃতিত্বের সাথে দায়িত্ব পালন করেছেন। প্রযুক্তি ও কারিগরি শিক্ষাকে দেশের তৃণমূল পর্যায়ে পৌঁছে দিতে তিনি প্রতিষ্ঠা করেন ‘গুরুকুল নেটওয়ার্ক’। এর অধীনে ‘গুরুকুল অনলাইন লার্নিং নেটওয়ার্ক’, ‘গুরুকুল ক্যাম্পাস লার্নিং নেটওয়ার্ক’, ‘গুরুকুল আইটি এনাবলড সার্ভিসেস’ ও ‘গুরুকুল কমার্শিয়াল’-এর মতো বহুমুখী কারিগরি ও প্রশিক্ষণমূলক প্রতিষ্ঠান পরিচালিত হচ্ছে। জাতীয় পর্যায়ে শিক্ষানীতি ও প্রশাসনিক কার্যক্রমে অবদানের অংশ হিসেবে তিনি বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের পরিচালনা পরিষদের সদস্য এবং সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজির ট্রাস্টি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। এছাড়া রাষ্ট্রীয় প্রশাসনিক অভিজ্ঞতার অংশ হিসেবে তিনি ‘বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম এক্সপ্লোরেশন অ্যান্ড প্রোডাকশন কোম্পানি লিমিটেড’ (বাপেক্স)-এর পরিচালনা পর্ষদের পরিচালক ছিলেন।
গণমাধ্যম ও চিন্তা-সাহিত্যের অঙ্গনেও তাঁর পদচারণা সুদীর্ঘ। তিনি ‘দৈনিক আজকের আলো’ পত্রিকার সাবেক সম্পাদক এবং জাতীয় অনলাইন পোর্টাল ‘জিলাইভ’ ও ‘দৈনিক খবরওয়ালা’ পত্রিকার সাবেক সম্পাদক ও প্রকাশক হিসেবে সংবাদমাধ্যমের পরিচালনায় যুক্ত ছিলেন। প্রযুক্তিভিত্তিক দেশ গঠন এবং বাঙালি জাতির অসাম্প্রদায়িক ঐতিহাসিক পরিচয়কে একসূত্রে গেঁথে তিনি একাধিক গ্রন্থ ও নিবন্ধ প্রকাশ করেছেন। বিশেষ করে ‘ডিজিটাল বাংলাদেশ’ ও ‘স্মার্ট বাংলাদেশ’ ভাবনাকেন্দ্রিক তাঁর রচিত গ্রন্থাবলী ও নিবন্ধগুলো নীতি-নির্ধারণী মহলে সমাদৃত। একই সাথে, বাঙালি সংস্কৃতির শেকড় ও ঐতিহ্যকে তরুণ প্রজন্মের সামনে তুলে ধরতে তাঁর রচিত ‘আমার সংস্কৃতি’ গবেষণা সিরিজ সাহিত্যপ্রেমীদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে; যারই প্রত্যক্ষ ফসল হিসেবে বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলামের জীবন, দর্শন ও সৃষ্টিকে সংরক্ষণের জন্য এই ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের আত্মপ্রকাশ।
সামাজিক দায়বদ্ধতা থেকে তিনি গড়ে তুলেছেন ‘সুফি ওয়েলফেয়ার ফাউন্ডেশন’, যার মাধ্যমে সাধারণ মানুষকে স্বাবলম্বী করা, যুবসমাজকে প্রযুক্তিদক্ষ করে গড়ে তোলা এবং ক্যারিয়ার গাইডলাইন প্রদানে ধারাবাহিক কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। একই সাথে তিনি নিজ জন্মভূমি কুষ্টিয়া-৪ (কুমারখালী-খোকসা) অঞ্চলের শিক্ষা, প্রযুক্তি, তরুণ উদ্যোক্তা তৈরি ও রাজনৈতিক অগ্রযাত্রায় সক্রিয় অবদান রেখে চলেছেন। আধুনিক প্রযুক্তি, উচ্চমানসম্পন্ন শিক্ষা ও জাতীয় সংস্কৃতির মেলবন্ধনে একটি স্বাবলম্বী ও প্রগতিশীল সমাজ গড়ে তোলাই তাঁর মূল লক্ষ্য।





















