Editor's Choice

কাজী নজরুলের সন্তান ও নাতি-নাতনীদের পরিচয় । আমার নজরুল

কাজী নজরুল ইসলাম বিংশ শতাব্দীর অন্যতম প্রধান বাঙালি কবি, গীতিকার ও সুরস্রষ্টা। মাত্র ২৩ বছরের স্বল্পদৈর্ঘ্য সক্রিয় সৃষ্টিশীল জীবনে তিনি যে বিশাল সাহিত্য ও সংগীত সম্ভার উপহার দিয়েছেন, তা বিশ্বসাহিত্যে অনন্য। সাহিত্যের নানা শাখায় বিচরণ থাকলেও তিনি মূলত ‘বিদ্রোহী কবি’ ও ‘সাম্যবাদের কবি’ হিসেবে সর্বজনমান্য।

কবি ও তাঁর স্ত্রী প্রমিলা দেবীর দাম্পত্য জীবনে চার পুত্রসন্তানের জন্ম হয়েছিল; তাঁদের কোনো কন্যা সন্তান ছিল না। সাম্যবাদ ও ধর্মনিরপেক্ষতার অনন্য পথিকৃৎ নজরুল মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেও নিজের সন্তানদের নামকরণে বাংলা, সংস্কৃত, আরবি ও ফারসি সংস্কৃতির এক অপূর্ব সংমিশ্রণ ঘটিয়েছিলেন—যা তাঁর অসাম্প্রদায়িক চেতনার প্রমান বহন করে।
কাজী নজরুলের ছেলেমেয়ে ও নাতি-নাতনীদের পরিচয়

কাজী নজরুলের চার পুত্রের পরিচয়

১. প্রথম পুত্র: আজাদ কামাল (কৃষ্ণ মুহাম্মদ)

নজরুল ও প্রমিলা দেবীর প্রথম সন্তান। তাঁর নামকরণে কবি ধর্মীয় সংকীর্ণতার ঊর্ধ্বে উঠে ‘আজাদ কামাল’ ও ‘কৃষ্ণ মুহাম্মদ’ নামটি রেখেছিলেন। তবে জন্মের অল্প কিছুদিনের মধ্যেই এই শিশুটি অকালে মৃত্যুবরণ করে।

২. দ্বিতীয় পুত্র: অরিন্দম খালেদ (বুলবুল)

১৯২৬ সালের ৯ সেপ্টেম্বর জন্মগ্রহণ করেন নজরুলের দ্বিতীয় পুত্র অরিন্দম খালেদ, যিনি ‘বুলবুল’ নামে সকলের কাছে পরিচিত ছিলেন। কবি পরিবারের এই অত্যন্ত আদরের ও নিবেদিত শিশুটি ১৯৩০ সালে মাত্র চার বছর বয়সে বসন্ত রোগে (Smallpox) আক্রান্ত হয়ে অকালে প্রাণ হারায়। বুলবুলের এই করুণ প্রয়াণ নজরুলের জীবন ও গানে এক গভীর বেদনার জন্ম দিয়েছিল, যা পরবর্তীতে কবিকে আধ্যাত্মিক সংগীত ও শ্যামাসংগীত রচনায় ব্যাপকভাবে প্রভাবিত করে।

৩. তৃতীয় পুত্র: কাজী সভ্যসাচী (ডাকনাম: সানি)

কাজী সভ্যসাচী ছিলেন নজরুলের তৃতীয় পুত্র। তিনি বাংলা আবৃত্তি অঙ্গনে এক প্রখ্যাত ও কিংবদন্তি নাম। তাঁর গভীর ও ব্যঞ্জনাময় কণ্ঠে নজরুলের ‘বিদ্রোহী’ সহ বহু কবিতার আবৃত্তি বিশ্বজুড়ে বাঙালিকে আজও আলোড়িত করে। আকাশবাণী ও সাংস্কৃতিক মঞ্চে তিনি নজরুল সাহিত্য প্রসারে বড় ভূমিকা রাখেন। ১৯৭৯ সালের ৩ মার্চ এই মহান আবৃত্তিশিল্পীর মৃত্যু হয়।

৪. চতুর্থ পুত্র: কাজী অনিরুদ্ধ (ডাকনাম: নিনি)

নজরুলের কনিষ্ঠ পুত্র কাজী অনিরুদ্ধ ছিলেন একজন প্রখ্যাত সংগীতশিল্পী, গিটারবাদক ও সুরকার। নজরুলসংগীতের স্বরলিপি প্রমিতকরণ ও আধুনিক বাদ্যযন্ত্রের (বিশেষ করে গিটার) মাধ্যমে নজরুলের সুরকে তুলে ধরার ক্ষেত্রে তাঁর অবদান ছিল অপরিসীম। ১৯৭৪ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি তিনি অকালে মৃত্যুবরণ করেন।

নজরুলের নাতি-নাতনীদের (দৌহিত্র ও দৌহিত্রী) পরিচয়

কাজী নজরুলের দুই পুত্র কাজী সভ্যসাচী ও কাজী অনিরুদ্ধের মাধ্যমেই কবির বংশধারা ও সাংস্কৃতিক উত্তরাধিকার বিস্তৃত হয়েছে।

কাজী সভ্যসাচীর সন্তানগণ (দুই কন্যা ও এক পুত্র)

১. খিলখিল কাজী (কন্যা): তিনি একজন প্রখ্যাত নজরুলসংগীত শিল্পী, গবেষক ও সংগঠক। নজরুল সাহিত্য ও সংগীতকে তরুণ প্রজন্মের কাছে ছড়িয়ে দিতে তিনি নিরলস কাজ করে যাচ্ছেন।

২. মিষ্টি কাজী (কন্যা): কাজী সভ্যসাচীর দ্বিতীয় কন্যা, যিনি সাংস্কৃতিক অঙ্গনে নিজের পরিচয় ধরে রেখেছেন।

৩. বাবুল কাজী (পুত্র): কাজী সভ্যসাচীর একমাত্র পুত্র।

কাজী অনিরুদ্ধের সন্তানগণ (দুই পুত্র ও এক কন্যা)

১. কাজী অরিন্দম (পুত্র): পিতা অনিরুদ্ধের মতোই তিনি একজন দক্ষ গিটারবাদক ও সংগীতশিল্পী, যিনি নজরুলসংগীতের সাঙ্গীতিক চর্চায় যুক্ত।

২. কাজী অনির্বাণ (পুত্র): কাজী অনিরুদ্ধের দ্বিতীয় পুত্র।

৩. অনিন্দিতা কাজী (কন্যা): বিশিষ্ট নজরুলসংগীত শিল্পী, বাচিক শিল্পী ও বেতার/টিভি সঞ্চালক। তিনি দেশ-বিদেশে নজরুলের সুর ও বাণীর বার্তা পৌঁছে দিচ্ছেন।

একনজরে নজরুলের পরিবার রূপরেখা

সদস্যের নামপরিচিতি ও সম্পর্কবিশেষ তথ্য/জীবনকাল
আজাদ কামাল (কৃষ্ণ মুহাম্মদ)প্রথম পুত্রশৈশবেই অকালপ্রয়াণ
অরিন্দম খালেদ (বুলবুল)দ্বিতীয় পুত্রজন্ম: ৯ সেপ্টেম্বর ১৯২৬, মৃত্যু: ১৯৩০ (বসন্ত রোগে)
কাজী সভ্যসাচী (সানি)তৃতীয় পুত্রবিশিষ্ট আবৃত্তিশিল্পী, মৃত্যু: ৩ মার্চ ১৯৭৯
কাজী অনিরুদ্ধ (নিনি)চতুর্থ পুত্রপ্রখ্যাত সুরকার ও গিটারবাদক, মৃত্যু: ২২ ফেব্রুয়ারি ১৯৭৪
খিলখিল কাজীনাতনী (সভ্যসাচীর কন্যা)নজরুলসংগীত শিল্পী ও গবেষক
মিষ্টি কাজীনাতনী (সভ্যসাচীর কন্যা)সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব
বাবুল কাজীনাতি (সভ্যসাচীর পুত্র)পরিবারের বংশধর
কাজী অরিন্দমনাতি (অনিরুদ্ধের পুত্র)গিটারবাদক ও সংগীতশিল্পী
কাজী অনির্বাণনাতি (অনিরুদ্ধের পুত্র)পরিবারের বংশধর
অনিন্দিতা কাজীনাতনী (অনিরুদ্ধের কন্যা)প্রখ্যাত সংগীত ও আবৃত্তিশিল্পী

 

কাজী নজরুল ইসলামের পরিবার কেবল কবির রক্তজৈবিক ধারাই রক্ষা করেনি; তাঁর নাতি-নাতনীরা নিজস্ব শিল্প-সাধনা ও সংগীত চর্চার মাধ্যমে বিদ্রোহী কবির অবিনাশী স্মৃতি ও সাম্যবাদী সুরকে আজও প্রপ্রজন্মের হৃদয়ে সজীব রেখে চলেছেন।

Tags :

সুফি ফারুক ইবনে আবুবকর

<div id="model-response-message-contentr_3bfb88af94641716" class="markdown markdown-main-panel md-content enable-luminous-fast-follows enable-updated-hr-color tutor-markdown-rendering" dir="ltr" aria-live="polite">সুফি ফারুক ইবনে আবুবকর একজন প্রবিশিষ্ট তথ্যপ্রযুক্তিবিদ, শিক্ষা ও আইসিটি উদ্যোক্তা, লেখক, সমাজসেবক এবং অসাম্প্রদায়িক সাংস্কৃতিক চেতনার অনুরাগী। জাতীয় পর্যায়ে তরুণদের দক্ষতা উন্নয়ন এবং প্রযুক্তিভিত্তিক শিক্ষা প্রসারে অবদানের পাশাপাশি তিনি আবহমান বাঙালি সংস্কৃতি ও কাজী নজরুল ইসলামের সাম্যবাদী ভাবধারাকে দেশ ও দেশের বাইরের মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার প্রয়াসে এই উদ্যোগের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রকাশক হিসেবে ভূমিকা পালন করছেন।পেশাগত জীবনে তিনি একটি শীর্ষস্থানীয় টেলিকম প্রতিষ্ঠানের প্রধান তথ্যপ্রযুক্তি কর্মকর্তা (সিআইও) হিসেবে দীর্ঘ সময় কৃতিত্বের সাথে দায়িত্ব পালন করেছেন। প্রযুক্তি ও কারিগরি শিক্ষাকে দেশের তৃণমূল পর্যায়ে পৌঁছে দিতে তিনি প্রতিষ্ঠা করেন ‘গুরুকুল নেটওয়ার্ক’। এর অধীনে ‘গুরুকুল অনলাইন লার্নিং নেটওয়ার্ক’, ‘গুরুকুল ক্যাম্পাস লার্নিং নেটওয়ার্ক’, ‘গুরুকুল আইটি এনাবলড সার্ভিসেস’ ও ‘গুরুকুল কমার্শিয়াল’-এর মতো বহুমুখী কারিগরি ও প্রশিক্ষণমূলক প্রতিষ্ঠান পরিচালিত হচ্ছে। জাতীয় পর্যায়ে শিক্ষানীতি ও প্রশাসনিক কার্যক্রমে অবদানের অংশ হিসেবে তিনি বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের পরিচালনা পরিষদের সদস্য এবং সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজির ট্রাস্টি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। এছাড়া রাষ্ট্রীয় প্রশাসনিক অভিজ্ঞতার অংশ হিসেবে তিনি ‘বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম এক্সপ্লোরেশন অ্যান্ড প্রোডাকশন কোম্পানি লিমিটেড’ (বাপেক্স)-এর পরিচালনা পর্ষদের পরিচালক ছিলেন।গণমাধ্যম ও চিন্তা-সাহিত্যের অঙ্গনেও তাঁর পদচারণা সুদীর্ঘ। তিনি ‘দৈনিক আজকের আলো’ পত্রিকার সাবেক সম্পাদক এবং জাতীয় অনলাইন পোর্টাল ‘জিলাইভ’ ও ‘দৈনিক খবরওয়ালা’ পত্রিকার সাবেক সম্পাদক ও প্রকাশক হিসেবে সংবাদমাধ্যমের পরিচালনায় যুক্ত ছিলেন। প্রযুক্তিভিত্তিক দেশ গঠন এবং বাঙালি জাতির অসাম্প্রদায়িক ঐতিহাসিক পরিচয়কে একসূত্রে গেঁথে তিনি একাধিক গ্রন্থ ও নিবন্ধ প্রকাশ করেছেন। বিশেষ করে ‘ডিজিটাল বাংলাদেশ’ ও ‘স্মার্ট বাংলাদেশ’ ভাবনাকেন্দ্রিক তাঁর রচিত গ্রন্থাবলী ও নিবন্ধগুলো নীতি-নির্ধারণী মহলে সমাদৃত। একই সাথে, বাঙালি সংস্কৃতির শেকড় ও ঐতিহ্যকে তরুণ প্রজন্মের সামনে তুলে ধরতে তাঁর রচিত ‘আমার সংস্কৃতি’ গবেষণা সিরিজ সাহিত্যপ্রেমীদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে; যারই প্রত্যক্ষ ফসল হিসেবে বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলামের জীবন, দর্শন ও সৃষ্টিকে সংরক্ষণের জন্য এই ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের আত্মপ্রকাশ।সামাজিক দায়বদ্ধতা থেকে তিনি গড়ে তুলেছেন ‘সুফি ওয়েলফেয়ার ফাউন্ডেশন’, যার মাধ্যমে সাধারণ মানুষকে স্বাবলম্বী করা, যুবসমাজকে প্রযুক্তিদক্ষ করে গড়ে তোলা এবং ক্যারিয়ার গাইডলাইন প্রদানে ধারাবাহিক কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। একই সাথে তিনি নিজ জন্মভূমি কুষ্টিয়া-৪ (কুমারখালী-খোকসা) অঞ্চলের শিক্ষা, প্রযুক্তি, তরুণ উদ্যোক্তা তৈরি ও রাজনৈতিক অগ্রযাত্রায় সক্রিয় অবদান রেখে চলেছেন। আধুনিক প্রযুক্তি, উচ্চমানসম্পন্ন শিক্ষা ও জাতীয় সংস্কৃতির মেলবন্ধনে একটি স্বাবলম্বী ও প্রগতিশীল সমাজ গড়ে তোলাই তাঁর মূল লক্ষ্য।</div>

https://sufifaruq.com/

খুঁজুন

জনপ্রিয় লেখা

বিভাগসমূহ

সর্বশেষ খবর

সর্বশেষ লেখা সরাসরি ই-মেইলে পেতে সাবস্ক্রাইব করুন!



    সাম্প্রতিক লেখা

    © ২০২৬ আমার নজরুল, GOLN — সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত