Editor's Choice

ঝিঙেফুল কাব্যগ্রন্থের ‘খুকি ও কাঠবেড়ালি’ কবিতা — কাজী নজরুল ইসলাম

কবিতার মূল তথ্য:

বিষয়বিবরণ
কবিতার নামখুকি ও কাঠবেড়ালি
কবির নামকাজী নজরুল ইসলাম
মূল কাব্যগ্রন্থঝিঙেফুল
প্রকাশের বছর১৯২৬ (আশ্বিন ১৩৩৩ বঙ্গাব্দ, ডি এম লাইব্রেরি, কলকাতা)
কবিতার ধরনশিশুতোষ ও হাস্যরসাত্মক লিরিক কবিতা (Children’s Humorous Lyric)

কবি ও গ্রন্থ পরিচিতি:

১৯২৬ সালের সেপ্টেম্বর মাসে (আশ্বিন ১৩৩৩ বঙ্গাব্দ) প্রকাশিত ‘ঝিঙেফুল’ কাব্যগ্রন্থটি নজরুল ইসলামের এক অপরূপ শিশুতোষ ও রোমান্টিক সৃষ্টি। ডি এম লাইব্রেরি থেকে প্রকাশিত এই গ্রন্থটি কবি উৎসর্গ করেছিলেন ‘বীর বাদলকে’। এই কাব্যগ্রন্থের কবিতাগুলোতে শিশুদের মনের সরলতা, কৌতূহল এবং প্রকৃতির সাথে তাদের সখ্য অত্যন্ত সুন্দরভাবে ফুটে উঠেছে। ‘খুকি ও কাঠবেড়ালি’ কবিতায় খুকি কাঠবেড়ালিকে পেয়ারা, গুড়-মুড়ি বা বাতাবি-নেবু একা খাওয়ার জন্য বকছে, তাকে ‘হোঁৎকা পেটুক’ ও ‘ডাইনি’ বলে রাগ দেখাচ্ছে, আবার পরক্ষণেই তাকে নিজের ছোড়দি বা বৌদি বানানোর আবদার করছে এবং পেয়ারা চাইছে। শিশুদের এই ক্ষণিকের রাগ আর ক্ষণিকের ভালোবাসার নিখুঁত মনস্তাত্ত্বিক চিত্র এই কবিতাকে বাংলা শিশুসাহিত্যে অমর করে রেখেছে।

খুকি ও কাঠবেড়ালি কবিতা (সম্পূর্ণ)

কাঠবেড়ালি! কাঠবেড়ালি! পেয়ারা তুমি খাও?
গুড়-মুড়ি খাও? দুধ-ভাত খাও? বাতাবি-নেবু? লাউ?
বেড়াল-বাচ্চা? কুকুর-ছানা? তাও-

ডাইনি তুমি হোঁৎকা পেটুক,
খাও একা পাও যেথায় যেটুক!
বাতাবি-নেবু সকলগুলো
একলা খেলে ডুবিয়ে নুলো!
তবে যে ভারি ল্যাজ উঁচিয়ে পুটুস পাটুস চাও?
ছোঁচা তুমি! তোমার সঙ্গে আড়ি আমার! যাও!

কাঠবেড়ালি! বাঁদরীমুখী! মারবো ছুঁড়ে কিল?
দেখবি তবে? রাঙাদাকে ডাকবো? দেবে ঢিল!

পেয়ারা দেবে? যা তুই ওঁচা!
তাই তো তোর নাকটি বোঁচা!
হুতমো-চোখী! গাপুস গুপুস
একলাই খাও হাপুস হুপুস!
পেটে তোমার পিলে হবে! কুড়ি-কুষ্টি মুখে!
হেই ভগবান! একটা পোকা যাস পেটে ওর ঢুকে!
ইস! খেয়ো না মস্তপানা ঐ সে পাকাটাও!
আমিও খুবই পেয়ারা খাই যে! একটি আমায় দাও!

কাঠবেড়ালি! তুমি আমার ছোড়দি’ হবে? বৌদি হবে? হুঁ!
রাঙা দিদি? তবে একটা পেয়ারা দাও না! উঃ!
এ রাম! তুমি ন্যাংটা পুঁটো?
ফ্রকটা নেবে? জামা দুটো?
আর খেয়ো না পেয়ার তবে,
বাতাবি-নেবুও ছাড়তে হবে!
দাঁত দেখিয়ে দিচ্ছ ছুট? অ’মা দেখে যাও!-
কাঠবেড়ালি! তুমি মর! তুমি কচু খাও!!

খুকি ও কাঠবেড়ালি কবিতার Romanized Version:

Kathberali! Kathberali! Peyara tumi khow?
Gur-muri khow? Dudh-bhat khow? Batabi-nebu? Lau?
Bedal-bachcha? Kukur-chhana? Tao-
Daini tumi hontka petuk,
Khow eka pao jethay jetuk!
Batabi-nebu shokolgulo
Ekla khele dubiye nulo!
Tobbe je bhari lyaj unchiye putus patus chow?
Chhoncha tumi! Tomar shonge ari amar! Jao!
Kathberali! Bandorimukhi! Marbo chhure kil?
Dekhbi tobe? Rangadake dakbo? Debe dhil!
Peyara debe? Ja tui oncha!
Tai to tor nakti boncha!
Hutmo-chokhi! Gapus gupus
Eklai khow hapus hupus!
Pete tomar pile hobe! Kuri-kushti mukhe!
Hei bhagoban! Ekti poka jas pete or dhuke!
Ish! Kheyo na mostopana oi she pakatao!
Amio khubi peyara khai je! Ekti amay daw!
Kathberali! Tumi amar chhordi’ hobe? boudi hobe? hun!
Ranga didi? Tobe ekti peyara daw na! U-h!
E ram! Tumi nyangta puto?
Frokta nebe? Jama duto?
Ar kheyo na peyara tobe,
Batabi-nebuo chhärte hobe!
Dant dekhiye dichchho chhut? O’ma dekhe jao!-
Kathberali! Tumi mor! Tumi kochu khow!!

কবিতার মূল ভাব ও বিশ্লেষণ:

  • শিশুমন ও প্রাণীর সখ্য: শিশুদের সরল কল্পনা এবং কাঠবেড়ালির মতো চঞ্চল প্রাণীদের সাথে তাদের ঝগড়া ও বন্ধুত্বের এক মধুর রূপায়ণ।
  • খুনসুটি ও অভিমান: পেয়ারা খাওয়া নিয়ে কাঠবেড়ালির ওপর রাগ দেখানো এবং পরক্ষণেই তাকে আপন করে নেওয়ার শিশুসুলভ আকুতির এক অনন্য প্রকাশ—এই কবিতার মূল প্রাণ।

উৎস:

কবিতাটির প্রামাণ্য পাঠ, বানানরীতি এবং ঐতিহাসিক তথ্যাবলি কাজী নজরুল ইসলামের সংকলিত ‘রবীন্দ্র-নজরুল রচনাবলী’ ও ‘ঝিঙেফুল’ কাব্যগ্রন্থের প্রথম প্রকাশনা (ডি এম লাইব্রেরি, ১৯২৬) থেকে সতর্কতার সাথে সংগ্রহ ও বিন্যস্ত করা হয়েছে।

Tags :

কাজী নজরুল ইসলাম

<div id="model-response-message-contentr_6711829050503afa" class="markdown markdown-main-panel md-content enable-luminous-fast-follows enable-updated-hr-color tutor-markdown-rendering" dir="ltr" aria-live="polite"> <div>বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে কাজী নজরুল ইসলাম (১৮৯৯–১৯৭৬) এক যুগান্তকারী ও বৈপ্লবিক ব্যক্তিত্ব, যিনি ‘বিদ্রোহী কবি’ এবং বাংলাদেশের জাতীয় কবি হিসেবে চিরস্মরণীয়। পরাধীন ভারতে শৃঙ্খলিত মানুষের স্বাধিকার আন্দোলন ও গোঁড়ামির বিরুদ্ধে তাঁর ক্ষুরধার লেখনী সাম্যবাদ, সাম্য ও অসাম্প্রদায়িক মানবতাবোধের এক অনবদ্য দলিল। সাহিত্য ও সংগীতের নানা শাখায় তাঁর অবাধ বিচরণ ছিল বিস্ময়কর; একদিকে যেমন তাঁর রচিত ‘বিদ্রোহী’ বা ‘প্রলয়োল্লাস’-এর মতো কবিতা পরাধীনতার বিরুদ্ধে দ্রোহের আগুন জ্বালিয়েছে, অন্যদিকে তাঁর সৃষ্ট চার সহস্রাধিক গান (নজরুল গীতি) বাংলা কাব্যসংগীতকে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে গেছে। আরবি-ফার্সি শব্দের সুনিপুণ ব্যবহারে বাংলা গজলকে জনপ্রিয় করার পাশাপাশি তিনি সমান মমতায় ইসলামি হামদ-নাত এবং শাক্ত ভাবধারার শ্যামাসঙ্গীত রচনা করে বাংলা সংস্কৃতিতে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির এক কালজয়ী উদাহরণ স্থাপন করেছেন। প্রেম, বিরহ, প্রকৃতি এবং অন্যায়ের বিরুদ্ধে আপসহীন সংগ্রামী সুরকে একসূত্রে বেঁধে নজরুল বিংশ শতাব্দীর শিল্প-সাহিত্যকে কেবল সমৃদ্ধই করেননি, বরং আজও তিনি মুক্তিকামী ও বঞ্চিত মানুষের হৃদয়ে ন্যায়বিচার ও মানবিক মর্যাদার চিরন্তন প্রেরণা হয়ে বেঁচে আছেন।</div> </div>

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

খুঁজুন

জনপ্রিয় লেখা

বিভাগসমূহ

সর্বশেষ খবর

সর্বশেষ লেখা সরাসরি ই-মেইলে পেতে সাবস্ক্রাইব করুন!



    সাম্প্রতিক লেখা

    © ২০২৬ আমার নজরুল, GOLN — সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত

    Join Us!

    Hey there! Here’s a neat way to recieve our latest posts & updates – just subscribe to our newsletter.

    Error: Contact form not found.

    Zero spam, Unsubscribe at any time.