Editor's Choice

চক্রবাক কাব্যগ্রন্থের ‘চক্রবাক’ কবিতা — কাজী নজরুল ইসলাম

কবিতার মূল তথ্য:

বিষয়বিবরণ
কবিতার নামচক্রবাক
কবির নামকাজী নজরুল ইসলাম
মূল কাব্যগ্রন্থচক্রবাক
প্রকাশের বছর১৯২২
কবিতার ধরনরোমান্টিক ও পৌরাণিক প্রতীকী লিরিক কবিতা (Romantic / Symbolic Lyric)

কবি ও গ্রন্থ পরিচিতি:

১৯২২ সালে প্রকাশিত ‘চক্রবাক’ কাব্যগ্রন্থটি নজরুল ইসলামের সাহিত্যিক জীবনের এক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। যদিও নজরুল মূলত বিদ্রোহী ও ওজস্বী কবিতার জন্য বিশ্ববিখ্যাত, তাঁর কবিমানসের অন্য পিঠেই রয়েছে এক সুকোমল রোমান্টিকতা, সৌন্দর্যপিপাসা এবং অতিন্দ্রিয় প্রেমের ব্যাকুলতা। ‘চক্রবাক’ কবিতায় চক্রবাক ও চক্রবাকী পাখির পৌরাণিক মিথকে আশ্রয় করে কবি মানবাত্মার চিরন্তন বিরহ এবং জন্মান্তরের সুদূরপ্রসারী ভালোবাসাকে ফুটিয়ে তুলেছেন। এপার ওপার জুড়ে অন্ধকার আর মধ্যের অকূল রহস্য-পারাবারের মাঝে সঙ্গীকে খুঁজে ফেরার যে আকুতি, তা এই কবিতাকে এক অনন্য দার্শনিক উচ্চতা দিয়েছে।

চক্রবাক কবিতা (সম্পূর্ণ)

এপার ওপার জুড়িয়া অন্ধকার

মধ্যে অকূল রহস্য-পারাবার,
তারই এই কূলে নিশি নিশি কাঁদে জাগি
চক্রবাক সে চক্রবাকীর লাগি।
ভুলে যাওয়া কোন জন্মান্তর পারে
কোন সুখ-দিনে এই সে নদীর ধারে
পেয়েছিল তারে সারা দিবসের সাথি,
তারপর এল বিরহের চির-রাতি, –
আজিও তাহার বুকের ব্যথার কাছে,
সেই সে স্মৃতি পালক পড়িয়া আছে!

কেটে গেল দিন, রাত্রি কাটে না আর,
দেখা নাহি যায় অতি দূর ওই পার।
এপারে ওপারে জনম জনম বাধা,
অকূলে চাহিয়া কাঁদিছে কূলের রাধা।
এই বিরহের বিপুল শূন্য ভরি
কাঁদিছে বাঁশরি সুরের ছলনা করি!
আমরা শুনাই সেই বাঁশরির সুর,
কাঁদি – সাথে কাঁদে নিখিল ব্যথা-বিধুর।

কত তেরো নদী সাত সমুদ্র পার
কোন লোকে কোন দেশে গ্রহ-তারকার
সৃজন-দিনের প্রিয়া কাঁদে বন্দিনী,
দশদিশি ঘিরি নিষেধের নিশীথিনী।
এ পারে বৃথাই বিস্মরণের কূলে
খোঁজে সাথি তার, কেবলই সে পথ ভুলে।
কত পায় বুকে কত সে হারায় তবু –
পায়নি যাহারে ভোলেনি তাহারে কভু।

তাহারই লাগিয়া শত সুরে শত গানে
কাব্যে, কথায়, চিত্রে, জড় পাষাণে,
লিখিছে তাহার অমর অশ্রু-লেখা।
নীরন্ধ্র মেঘ বাদলে ডাকিছে কেকা !
আমাদের পটে তাহারই প্রতিচ্ছবি,
সে গান শুনাই – আমরা শিল্পী কবি।
এই বেদনার নিশীথ-তমসা-তীরে
বিরহী চক্রবাক খুঁজে খুঁজে ফিরে
কোথা প্রভাতের সূর্যোদয়ের সাথে
ডাকে সাথি তার মিলনের মোহানাতে।
আমরা শিশির, আমাদের আঁখি-জলে
সেই সে আশার রাঙা রামধনু ঝলে।

চক্রবাক কবিতার Romanized Version:

Epar opar juriya andhorokar
Modhye okuls rohoshyo-parabar,
Tari ei kule nishi nishi kande jagi
Chokrobak se chokrobakir lagi.
Bhule jawa kon jonmantor pare
Kon sukh-dine ei se nodir dhare
Peyechhilo tare shara diboser shathi,
Tarpor elo biroher chiro-rathi, –
Aji tahar buker byathar kache,
Sei se smriti palok poriya ache!
Kete gelo din, ratri kate na ar,
Deka nahi jay oti dur oi par.
Epare opare jonom jonom badha,
Okule chahiya kandiche kuler radha.
Ei biroher bipul shunyo vhori
Kandiche banshori shurer cholona kori!
Amra shunai sei banshorir shur,
Kande – sathe kande nikhil byatha-bidhur.
Koto tero nodi shat shomudro par
Kon loke kon deshe groho-tarokar
Srisjon-diner priya kande bondini,
Dosh-dishi ghiri nishedher nishithini.
E pare vrithay bishmoroner kule
Khoje sathi tar, keboli se poth bhule.
Koto pay buke koto se haray tobu –
Payni jahare boleni tahare kobhu.
Tahar-i lagiia shoto shure shoto gane
Kabye, kothay, chitre, joro pashane,
Likhihe tahar omor oshru-lekha.
Nirondhro megh badale dakiche keka !
Amra pote tahari protichhobi,
Se gan shunai – amra shilpi kobi.
Ei bedonar nishith-tamosha-tire
Birohi chokrobak khuje khuje fire
Kotha probhater shurjodoyer sathe
Dake sathi tar miloner mohanate.
Amra shishir, amerd rakhi-jole
Sei se ashar ranga ramdhonu jhole.

কবিতার মূল ভাব ও বিশ্লেষণ:

  • বিরহ ও জন্মান্তরের প্রেম: চক্রবাক ও চক্রবাকীর পৌরাণিক মিথের আড়ালে মানবাত্মার চিরন্তন বিরহ এবং জন্মান্তর পেরিয়ে প্রিয়জনকে খুঁজে পাওয়ার ব্যাকুলতা।
  • শিল্পীর বেদনা ও সৃষ্টি: বিরহের এই অন্ধকার রাত পেরিয়ে মিলনের মোহানায় পৌঁছানোর আশার আলো এবং শিল্পীর কাব্যিক ভাষায় সেই সুন্দরের অমর প্রকাশই এই কবিতার মূল প্রাণ।

উৎস:

কবিতাটির প্রামাণ্য পাঠ, বানানরীতি এবং ঐতিহাসিক তথ্যাবলি কাজী নজরুল ইসলামের প্রামাণ্য রচনাবলী ও ‘চক্রবাক’ কাব্যগ্রন্থের প্রথম প্রকাশনা (১৯২২) থেকে সতর্কতার সাথে সংগ্রহ ও বিন্যস্ত করা হয়েছে।

Tags :

কাজী নজরুল ইসলাম

<div id="model-response-message-contentr_6711829050503afa" class="markdown markdown-main-panel md-content enable-luminous-fast-follows enable-updated-hr-color tutor-markdown-rendering" dir="ltr" aria-live="polite"> <div>বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে কাজী নজরুল ইসলাম (১৮৯৯–১৯৭৬) এক যুগান্তকারী ও বৈপ্লবিক ব্যক্তিত্ব, যিনি ‘বিদ্রোহী কবি’ এবং বাংলাদেশের জাতীয় কবি হিসেবে চিরস্মরণীয়। পরাধীন ভারতে শৃঙ্খলিত মানুষের স্বাধিকার আন্দোলন ও গোঁড়ামির বিরুদ্ধে তাঁর ক্ষুরধার লেখনী সাম্যবাদ, সাম্য ও অসাম্প্রদায়িক মানবতাবোধের এক অনবদ্য দলিল। সাহিত্য ও সংগীতের নানা শাখায় তাঁর অবাধ বিচরণ ছিল বিস্ময়কর; একদিকে যেমন তাঁর রচিত ‘বিদ্রোহী’ বা ‘প্রলয়োল্লাস’-এর মতো কবিতা পরাধীনতার বিরুদ্ধে দ্রোহের আগুন জ্বালিয়েছে, অন্যদিকে তাঁর সৃষ্ট চার সহস্রাধিক গান (নজরুল গীতি) বাংলা কাব্যসংগীতকে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে গেছে। আরবি-ফার্সি শব্দের সুনিপুণ ব্যবহারে বাংলা গজলকে জনপ্রিয় করার পাশাপাশি তিনি সমান মমতায় ইসলামি হামদ-নাত এবং শাক্ত ভাবধারার শ্যামাসঙ্গীত রচনা করে বাংলা সংস্কৃতিতে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির এক কালজয়ী উদাহরণ স্থাপন করেছেন। প্রেম, বিরহ, প্রকৃতি এবং অন্যায়ের বিরুদ্ধে আপসহীন সংগ্রামী সুরকে একসূত্রে বেঁধে নজরুল বিংশ শতাব্দীর শিল্প-সাহিত্যকে কেবল সমৃদ্ধই করেননি, বরং আজও তিনি মুক্তিকামী ও বঞ্চিত মানুষের হৃদয়ে ন্যায়বিচার ও মানবিক মর্যাদার চিরন্তন প্রেরণা হয়ে বেঁচে আছেন।</div> </div>

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

খুঁজুন

জনপ্রিয় লেখা

বিভাগসমূহ

সর্বশেষ খবর

সর্বশেষ লেখা সরাসরি ই-মেইলে পেতে সাবস্ক্রাইব করুন!



    সাম্প্রতিক লেখা

    © ২০২৬ আমার নজরুল, GOLN — সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত

    Join Us!

    Hey there! Here’s a neat way to recieve our latest posts & updates – just subscribe to our newsletter.

    Error: Contact form not found.

    Zero spam, Unsubscribe at any time.