এ কুঞ্চে পথ ভুলি কোন বুলবুলি গানটি কাজী নজরুল ইসলাম এর রচিত জনপ্রিয় একটি সঙ্গীত।
এ কুঞ্চে পথ ভুলি কোন বুলবুলি
এ কুঞ্জে পথ ভুলি কোন বুলবুলি আজ
গাইতে এলে গান।
বসন্ত গত মোর আজ পুস্প-বিহীন
লতিকা-বিতান॥
এলে কি দলিতে আজ ধূলি-ঢাকা
ফুল-সমাধি মোর,
নাহি আর চৈতি হাওয়া, বহে আজি
বৈশাখী তুফান॥
সাজায়ে ফুলের বাসর ছিনু তব পথ চেয়ে,
সে-বাসর বাসি হল, কেঁদে নিশি হল অবসান॥
বাজে মোর তোরণ-দ্বারে
খেলা-শেষের বিদায়-বাঁশরি,
ফিরে যাও শেষ-অতিথি,
দাও যেতে দাও লয়ে অভিমান॥

এ কুঞ্চে পথ ভুলি কোন বুলবুলি [ নজরুল সঙ্গীত ] – মন্টি সিনহা ঃ


বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে কাজী নজরুল ইসলাম (১৮৯৯–১৯৭৬) এক যুগান্তকারী ও বৈপ্লবিক ব্যক্তিত্ব, যিনি ‘বিদ্রোহী কবি’ এবং বাংলাদেশের জাতীয় কবি হিসেবে চিরস্মরণীয়। পরাধীন ভারতে শৃঙ্খলিত মানুষের স্বাধিকার আন্দোলন ও গোঁড়ামির বিরুদ্ধে তাঁর ক্ষুরধার লেখনী সাম্যবাদ, সাম্য ও অসাম্প্রদায়িক মানবতাবোধের এক অনবদ্য দলিল। সাহিত্য ও সংগীতের নানা শাখায় তাঁর অবাধ বিচরণ ছিল বিস্ময়কর; একদিকে যেমন তাঁর রচিত ‘বিদ্রোহী’ বা ‘প্রলয়োল্লাস’-এর মতো কবিতা পরাধীনতার বিরুদ্ধে দ্রোহের আগুন জ্বালিয়েছে, অন্যদিকে তাঁর সৃষ্ট চার সহস্রাধিক গান (নজরুল গীতি) বাংলা কাব্যসংগীতকে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে গেছে। আরবি-ফার্সি শব্দের সুনিপুণ ব্যবহারে বাংলা গজলকে জনপ্রিয় করার পাশাপাশি তিনি সমান মমতায় ইসলামি হামদ-নাত এবং শাক্ত ভাবধারার শ্যামাসঙ্গীত রচনা করে বাংলা সংস্কৃতিতে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির এক কালজয়ী উদাহরণ স্থাপন করেছেন। প্রেম, বিরহ, প্রকৃতি এবং অন্যায়ের বিরুদ্ধে আপসহীন সংগ্রামী সুরকে একসূত্রে বেঁধে নজরুল বিংশ শতাব্দীর শিল্প-সাহিত্যকে কেবল সমৃদ্ধই করেননি, বরং আজও তিনি মুক্তিকামী ও বঞ্চিত মানুষের হৃদয়ে ন্যায়বিচার ও মানবিক মর্যাদার চিরন্তন প্রেরণা হয়ে বেঁচে আছেন।





















