চায়ের পিয়াসী পিপাসিত চিত আমারা চাতক দল | Chayer piyashi pipashito chito amara chatok dol | গীতি শতদল গ্রন্থটির প্রকাশক ছিলেন ডি এম লাইব্রেরি। ৮+১০৪ পৃষ্ঠার বইটির মূল্য ছিল দেড় টাকা। প্রথম সংস্করণ প্রকাশিত হয় ১৯৩৪ সালের এপ্রিলে (১৩৪১ বঙ্গাব্দের বৈশাখ)। নজরুল ইসলাম এই গ্রন্থের প্রারম্ভে ‘দুটি কথা’ শীর্ষক ভূমিকায় লেখেন “গীতিশতদলে’র সমস্ত গানগুলিই গ্রামোফোন ও স্বদেশী মেগাফোন কোম্পানীর রেকর্ড়ে রেখাবদ্ধ হইয়া গিয়াছে। আমার বহু গীতি-শিল্পী বন্ধুর কল্যাণে ‘রেডিও’ প্রভৃতিতে গীত হওয়ায় এই গানগুলি ইতোমধ্যে জনপ্রিয় হইয়া উঠিয়াছে। এই অবসরে তাঁহাদের সকলকে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করিতেছি।
চা-স্তোত্র

চায়ের পিয়াসী পিপাসিত চিত আমারা চাতক দল গানের কথাঃ
চায়ের পিয়াসি পিপাসিত চিত আমরা চাতক-দল।
দেবতারা কন সোমরস যারে সে এই গরম জল।
চায়ের প্রসাদে চার্বাক ঋষি বাক-রণে হল পাশ,
চা নাহি পেয়ে চার-পেয়ে জীব চর্বণ করে ঘাস।
লাখ কাপ চা খাইয়া চালাক
হয়, সে প্রমাণ চাও কত লাখ?
মাতালের দাদা আমরা চাতাল, বাচাল বলিস বল॥
চায়ের নামে যে সাড়া নাহি দেয় চাষাড়ে তাহারে কও,
চায়ে যে ‘কু’ বলে চাকু দিয়ে তার নাসিকা কাটিয়া লও।
যত পায় তত চায় বলে তাই
চা নাম হল এ সুধার ভাই।
চায়ের আদর করিতে হইল দেশে চাদরের চল॥
চা চেয়ে চেয়ে কাকা নাম ভুলে পশ্চিমে চাচা কয়,
এমন চায়ে যে মারিতে চাহে সে চামার সুনিশ্চয়।
চা করে করে ভৃত্য নফর
নাম হারাইয়া হইল চাকর,
চা নাহি খেয়ে বেচারা নাচার হয়েছে চাষা সকল॥
চায়ে এলে যায় চাল-কুমড়ো সে, চাঁদা করে মারো চাঁটি,
চা না খাইয়া চানা খায় আজ দেখহ অশ্ব-জাতি।
একদা মায়ের মুণ্ডেতে শিব
চা ঢেলে দেন, বের করে জিভ
চা-মুণ্ডা রূপ ধরিলেন দেবী সেইদিন রে পাগল॥
চায়ে পা ঠেকিয়ে সেদিন গদাই পড়িল মোটর চাপা,
চাঁট ও চাটনি চায়েরই নাতনি, লুকাতে পারো কি বাপা?
চায়ে সর বলে গালি দিয়ে মাসি
চামর ঢুলায় হয়ে আজ দাসী,
চাটিম চাটিম বুলি এই দাদা চায়ের নেশারই ফল॥

কাজী নজরুল ইসলাম (২৪ মে ১৮৯৯ – ২৯ আগস্ট ১৯৭৬; ১১ জ্যৈষ্ঠ ১৩০৬ – ১২ ভাদ্র ১৩৮৩ বঙ্গাব্দ) বিংশ শতাব্দীর প্রধান বাঙালি কবি ও সঙ্গীতকার। তার মাত্র ২৩ বৎসরের সাহিত্যিক জীবনে সৃষ্টির যে প্রাচুর্য তা তুলনারহিত। সাহিত্যের নানা শাখায় বিচরণ করলেও তার প্রধান পরিচয় তিনি কবি।তার জীবন শুরু হয়েছিল অকিঞ্চিতকর পরিবেশে। স্কুলের গণ্ডি পার হওয়ার আগেই ১৯১৭ খ্রিষ্টাব্দে তিনি ব্রিটিশ ভারতীয় সেনাবাহিনীতে যোগ দিয়েছিলেন।

