আচ লাচনের লেগেচে যে গাঁদি | Aach lachoner legeche je gadi | গীতি শতদল গ্রন্থটির প্রকাশক ছিলেন ডি এম লাইব্রেরি। ৮+১০৪ পৃষ্ঠার বইটির মূল্য ছিল দেড় টাকা। প্রথম সংস্করণ প্রকাশিত হয় ১৯৩৪ সালের এপ্রিলে (১৩৪১ বঙ্গাব্দের বৈশাখ)। নজরুল ইসলাম এই গ্রন্থের প্রারম্ভে ‘দুটি কথা’ শীর্ষক ভূমিকায় লেখেন “গীতিশতদলে’র সমস্ত গানগুলিই গ্রামোফোন ও স্বদেশী মেগাফোন কোম্পানীর রেকর্ড়ে রেখাবদ্ধ হইয়া গিয়াছে।
পল্লি নৃত্যের গান

আচ লাচনের লেগেচে যে গাঁদি গানের কথাঃ
আজ লাচনের লেগেছে যে গাঁদি গো
আজ লাচনের লেগেছে গাঁদি।
আমার কোমর কাঁকাল ভেঙে গেছে
লেচে লেচে ও দাদি।
আজ লাচনের লেগেছে গাঁদি॥
মাদলের বোল : হুর্র্ হুর্রে দাদা, দাদারে দাদা!
তিন দাদা পুত নাতিন নাচে
দাদারে দাদা!
নাতিন নাচে পুতিন নাচে
সতিন নাচে শ্যাওড়া গাছে দাদারে দাদা!
তিন দাদা পুত নাতিন নাচে॥
বড়কি নাচে ছুটকি নাচে
মুটকি নাচে ধাতিং তিং,
শুঁটকি নাচে থুপি নাচে
নাচে সাথে আহ্লাদি।
আজ লাচনের লেগেছে গাঁদি॥
মাদলের বোল : ও গিজে, মুড়কি ভিজে!
ও গিজে রেল ঠুকে দে!
শিরীষের বাগান-ধারে
হাত বাড়ালে পয়সা পড়ে!
ওরে আমার ফকির চাঁদ
গাই দুয়োব বাছুর বাঁধ॥
বুড়ি নাচে ভুঁড়ি নাচে নাচে ছোঁড়াছুঁড়ি গো,
গোদা পায়ে ঘুঙুর বাঁধে নাচিছে খাঁদা-খাঁদি।
আজ লাচনের লেগেছে গাঁদি॥
মাদলের বোল : ও গিজে যাসনে ভিজে,
ও গিজে ঠানদিদি যে!
সাবাস বেটি বকন-ছা
কলামোচায় ফড়িং খা।
ও গিজে তাল ভটাভট!
ও গিজাং ঘিচতা ঘিচাং ঘিচতা ঘিচাং!
ও গিজে যাচ্চলে যা বরিশাল্যা
পাবনা ঢাকা খুলন্যে জেলা!
তেহাই : পিঁয়াজ পিঁয়াজ রসুন খাক
যার পাঁঠা তার বাপের গোয়ালে যাক,
খাক কাঁকুড় খাক
তোর ছেলে তোর দাদার ছেলে॥
হুল্লোড় ধ্বনি : দে গোরুর গা ধুইয়ে!

নজরুলগীতি বা নজরুল ‘সঙ্গীত বাংলাভাষার অন্যতম প্রধান কবি ও সংগীতজ্ঞ কাজী নজরুল ‘ইসলাম লিখিত গান। তার সীমিত কর্মজীবনে তিনি ৩০০০-এরও বেশি গান রচনা করেছেন। এসকল গানের বড় একটি অংশ তারই সুরারোপিত। তার রচিত চল্ চল্ চল্, ঊর্ধ্বগগণে বাজে মাদল বাংলাদেশের রণসংগীত।তার কিছু গান জীবদ্দশায় গ্রন্থাকারে সংকলিত হয়েছিল যার মধ্যে রয়েছে গানের মালা, গুল বাগিচা, গীতি শতদল, বুলবুল ইত্যাদি। পরবর্তীকালে আরো গান সংগ্রন্থিত হয়েছে।

