বহু পথে বৃথা ফিরিয়াছি প্রভু | Bohu pothe britha firiyachi provu | গীতি শতদল গ্রন্থটির প্রকাশক ছিলেন ডি এম লাইব্রেরি। ৮+১০৪ পৃষ্ঠার বইটির মূল্য ছিল দেড় টাকা। প্রথম সংস্করণ প্রকাশিত হয় ১৯৩৪ সালের এপ্রিলে (১৩৪১ বঙ্গাব্দের বৈশাখ)। নজরুল ইসলাম এই গ্রন্থের প্রারম্ভে ‘দুটি কথা’ শীর্ষক ভূমিকায় লেখেন “গীতিশতদলে’র সমস্ত গানগুলিই গ্রামোফোন ও স্বদেশী মেগাফোন কোম্পানীর রেকর্ড়ে রেখাবদ্ধ হইয়া গিয়াছে। আমার বহু গীতি-শিল্পী বন্ধুর কল্যাণে ‘রেডিও’ প্রভৃতিতে গীত হওয়ায় এই গানগুলি ইতোমধ্যে জনপ্রিয় হইয়া উঠিয়াছে। এই অবসরে তাঁহাদের সকলকে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করিতেছি।
ভজন

বহু পথে বৃথা ফিরিয়াছি প্রভু গানের কথাঃ
বহু পথে বৃথা ফিরিয়াছি প্রভু
আর হইব না পথহারা।
বন্ধু-স্বজন সব ছেড়ে যায়
তুমি একা জাগো ধ্রুবতারা॥
মায়ারূপী হায় কত স্নেহনদী
জড়াইয়া মোরে ছিল নিরবধি,
সব ছেড়ে গেল হারাইল যদি
তুমি এসো প্রাণে প্রেমধারা॥
ভ্রান্ত পথের শ্রান্ত পথিক লুটায় তোমার মন্দিরে,
প্রভু, আরও যাহা কিছু আছে মোর প্রিয়
লও বাঁচায়ে বন্দিরে!
জগতের এই প্রেম বিষ-মিশা,
মিটে না তাহাতে অগস্ত্য-তৃষা;
হে প্রেমসিন্ধু, মিটাও পিপাসা
চাহি না বন্ধু-সুত-দারা॥
কী হবে লয়ে এ মায়ার খেলনা
কী হবে লয়ে এ তাসের ঘর,
ছুঁতে ভেঙে যায় তবু শিশুপ্রায়
ভুলাও মোদেরে নিরন্তর।
ডাকি লও মোরে মুক্ত আলোকে
তব আনন্দ-নন্দন-লোকে
শান্ত হোক এ ক্রন্দন, আর
সহে না এ বন্ধন-কারা॥

কাজী নজরুল ইসলাম (২৪ মে ১৮৯৯ – ২৯ আগস্ট ১৯৭৬; ১১ জ্যৈষ্ঠ ১৩০৬ – ১২ ভাদ্র ১৩৮৩ বঙ্গাব্দ) বিংশ শতাব্দীর প্রধান বাঙালি কবি ও সঙ্গীতকার। তার মাত্র ২৩ বৎসরের সাহিত্যিক জীবনে সৃষ্টির যে প্রাচুর্য তা তুলনারহিত। সাহিত্যের নানা শাখায় বিচরণ করলেও তার প্রধান পরিচয় তিনি কবি।তার জীবন শুরু হয়েছিল অকিঞ্চিতকর পরিবেশে। স্কুলের গণ্ডি পার হওয়ার আগেই ১৯১৭ খ্রিষ্টাব্দে তিনি ব্রিটিশ ভারতীয় সেনাবাহিনীতে যোগ দিয়েছিলেন।

