ভবের এই পাশা খেলায় | Vober ei pasha khelay | গীতি শতদল গ্রন্থটির প্রকাশক ছিলেন ডি এম লাইব্রেরি। ৮+১০৪ পৃষ্ঠার বইটির মূল্য ছিল দেড় টাকা। প্রথম সংস্করণ প্রকাশিত হয় ১৯৩৪ সালের এপ্রিলে (১৩৪১ বঙ্গাব্দের বৈশাখ)। নজরুল ইসলাম এই গ্রন্থের প্রারম্ভে ‘দুটি কথা’ শীর্ষক ভূমিকায় লেখেন “গীতিশতদলে’র সমস্ত গানগুলিই গ্রামোফোন ও স্বদেশী মেগাফোন কোম্পানীর রেকর্ড়ে রেখাবদ্ধ হইয়া গিয়াছে। আমার বহু গীতি-শিল্পী বন্ধুর কল্যাণে ‘রেডিও’ প্রভৃতিতে গীত হওয়ায় এই গানগুলি ইতোমধ্যে জনপ্রিয় হইয়া উঠিয়াছে। এই অবসরে তাঁহাদের সকলকে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করিতেছি।

নজরুলগীতি বা নজরুল ‘সঙ্গীত বাংলাভাষার অন্যতম প্রধান কবি ও সংগীতজ্ঞ কাজী নজরুল ‘ইসলাম লিখিত গান। তার সীমিত কর্মজীবনে তিনি ৩০০০-এরও বেশি গান রচনা করেছেন। এসকল গানের বড় একটি অংশ তারই সুরারোপিত। তার রচিত চল্ চল্ চল্, ঊর্ধ্বগগণে বাজে মাদল বাংলাদেশের রণসংগীত।তার কিছু গান জীবদ্দশায় গ্রন্থাকারে সংকলিত হয়েছিল যার মধ্যে রয়েছে গানের মালা, গুল বাগিচা, গীতি শতদল, বুলবুল ইত্যাদি। পরবর্তীকালে আরো গান সংগ্রন্থিত হয়েছে।
বাউল লোফা

ভবের এই পাশা খেলায় গানের কথাঃ
ভবের এই পাশা খেলায়
খেলতে এলি, হায় আনাড়ি।
হাতে তোর দান পড়ে না
হাত খোলে না তাড়াতাড়ি॥
তুই আর তোর সাথি ভাই
কাঁচা খেলোয়াড় দু-জনাই,
মায়া-রিপুর সাথে তাই
নিত্য হেরে ফিরিস বাড়ি॥
তোরই সে চালের দোষে
যায় কেঁচে তোর পাকা ঘুঁটি,
ফিরিতে হয় অমনি
যেমনি যাস ঘরে উঠি।
ও হাতে হরদম চক ছয়-তিন-নয় পড়ছে আড়ি॥
সংসার-ছক পেতে হায়,
বসে রোস মোহের নেশায়,
হেরে যে সব খোয়ালি
যাসনে তবু খেলা ছাড়ি॥
প্রাণ মন দুই ঘুঁটিতে যুগ বেঁধে তুই যা এগিয়ে,
দেহ তোর একলা ঘুঁটি রাখ আড়িতে মার বাঁচিয়ে।
আড়িতে মার খেলে তুই স্বর্গে যাবি জিতবি হারি॥

