মৃদুল বায়ে বকুল ছায়ে | Mridul bayo bokul chaye | নজরুলগীতি বা নজরুল সঙ্গীত বাংলাভাষার অন্যতম প্রধান কবি ও সংগীতজ্ঞ কাজী নজরুল ইসলাম লিখিত গান। তার সীমিত কর্মজীবনে তিনি ৩০০০-এরও বেশি গান রচনা করেছেন। এসকল গানের বড় একটি অংশ তারই সুরারোপিত। তার রচিত চল্ চল্ চল্, ঊর্ধ্বগগণে বাজে মাদল বাংলাদেশের রণসংগীত।
সিন্ধু-ভৈরবী — কাহারবা

মৃদুল বায়ে বকুল ছায়ে গানের কথা:
মৃদুল বায়ে বকুল ছায়ে গোপন পায়ে কে ওই আসে। আকাশ-ছাওয়া চোখের চাওয়া উতল হাওয়া কেশের বাসে॥ উষার রাগে সাঁঝের ফাগে যুগল তাহার কপোল রাঙে, কমল দুলে সূরয শশী নিশীথ-চুলে আঁধার-রাশে॥ চরণ-ছোঁয়ায় পাতার ঠোঁটে মুকুল কাঁপে কুসুম ফোটে, আঁখির পলক- পতন-ছাঁদে নিশীথ কাঁদে দিবস হাসে॥ গ্রহের মালা অলখ-খোঁপায়, কপোল শোভে তারার টোপায়, কুসুম-কাঁটায় আঁচল বাধে রুমাল লুটায় সবুজ ঘাসে॥ সাঁঝের শাখায় কানন মাঝে বালার বিহগ- কাঁকন বাজে, জীবন তাহার সোনার স্বপন দোলায় ঘুমায় শিশুর পাশে॥ তোমার লীলা- কমল করে নিখিল-রানি! দুলাও মোরে। ঢুলাও আমার সুবাসখানি তোমার মুখের মদির-শ্বাসে॥![]()
কাজী নজরুল ইসলাম (২৪ মে ১৮৯৯ – ২৯ আগস্ট ১৯৭৬; ১১ জ্যৈষ্ঠ ১৩০৬ – ১২ ভাদ্র ১৩৮৩ বঙ্গাব্দ) বিংশ শতাব্দীর প্রধান বাঙালি কবি ও সঙ্গীতকার। তার মাত্র ২৩ বৎসরের সাহিত্যিক জীবনে সৃষ্টির যে প্রাচুর্য তা তুলনারহিত। সাহিত্যের নানা শাখায় বিচরণ করলেও তার প্রধান পরিচয় তিনি কবি।

নজরুলগীতি বা নজরুল ‘সঙ্গীত বাংলাভাষার অন্যতম প্রধান কবি ও সংগীতজ্ঞ কাজী নজরুল ‘ইসলাম লিখিত গান। তার সীমিত কর্মজীবনে তিনি ৩০০০-এরও বেশি গান রচনা করেছেন।
তার কিছু গান জীবদ্দশায় গ্রন্থাকারে সংকলিত হয়েছিল যার মধ্যে রয়েছে গানের মালা, গুল বাগিচা, গীতি শতদল, বুলবুল ইত্যাদি। পরবর্তীকালে আরো গান সংগ্রন্থিত হয়েছে। তবে তিনি প্রায়শ তাৎক্ষণিকভাবে লিখতেন; একারণে অনুমান করা হয় প্রয়োজনীয় সংরক্ষণের অভাবে বহু গান হারিয়ে গেছে। তার কিছু কালজয়ী গানগুলো হলো ‘ও মন রমজানের ঐ রোজার শেষে এলো খুশির ঈদ’, ‘চল চল চল’, ‘ত্রিভুবনের প্রিয় মুহাম্মদ’ ইত্যাদি।

