লোকসঙ্গীতের বিবর্তন : লোকসঙ্গীতের জন্মদিন হারিয়ে গেছে। সেই আদিম যুগ থেকে শুরু হলেও শ্রুতিনির্ভর বলে হয়তো তার অনেকখানি আমরা হারিয়ে ফেলেছি। আজ শিক্ষা বিস্তারের ফলে যে ইতিহাসের তথ্য আমাদের আয়ত্ত্ব, তাতে পাই শ্রুতিনির্ভর ও উত্তরাধিকার বা পরম্পরা সূত্রে আগত লোক সঙ্গীত সংরক্ষণে, যা কোনো দূরদর্শী উদ্যোগ ।

লোকসঙ্গীতের বিবর্তন । নজরুলের ভাবনা
সঙ্গীতের উৎপত্তির পাশপাশি দেশী সঙ্গীতও আত্মপ্রকাশ করে। গবেষনায় দেখা গেছে যে, লোকসঙ্গীতের ভিত্তি সঙ্গীতের উৎপত্তির সময়েই উপস্থাপিত হয়। মার্গসঙ্গীতের বিভক্তির পাশপাশি দেশী সঙ্গীতের একটি পর্যায় হিসাবে লোকসঙ্গীতের বিস্তৃতি আজও বিবর্তনের ক্ষেত্রে ভিন্নতর বৈশিষ্ট্যের দাবি রাখে। আমরা বাংলা লোকসঙ্গীতের বিবর্তনের ক্ষেত্রে বিভিন্ন প্রমাণিক তথ্য উপস্থাপনের চেষ্টা করব।
বিবর্তন বাদ :
বিবর্তন বলতে আমর বুঝি, পর্যায়ক্রমিকভাবে পরিবর্তনশীল। ধাতুগত অর্থে যা পবিরর্তনের মধ্য দিয়ে নতুনত্ব লাভ করে তাই বিবর্তন।
মতবাদ :
লোক সঙ্গীতের ঐতিহ্যগতদিক গবেষণা করতে গিয়ে বিভিন্ন গবেষক সঙ্গীতজ্ঞ বিভিন্ন মত প্রকাশ করেছেন। এক্ষেত্রে-
“আজকের যা লোকসঙ্গীত তা সিন্ধু সভ্যতার যুগে দেশী সঙ্গীত হিসাবে প্রচলিত ছিল । যার বয়ন মুখে মুখে প্রচলিত ছিল।”
-সুখময় চট্টোপাধ্যায়, ১৯৮১ সালের পশ্চিম বঙ্গীয় লোকসঙ্গীত উৎসব স্মরণিকা।

লোকসঙ্গীত রচনার প্রেক্ষাপট:
সব পর্যায়ের গান রচনার উৎস ও প্রেক্ষাপট অবশ্যই থাকে যা দর্শনতাত্ত্বিক আলোকে প্রতিফলিত। লোকসঙ্গীতের বৈচিত্র্যতার প্রেক্ষাপটে উৎসব, বিভক্তি দেখা যায়। কখন লহীন প্রেক্ষাপট, কখনও মানব মানবীর প্রেম, মাঝি-মাল্লার মনের কথা প্রভৃতি লোকসঙ্গীতের উৎস হিসাবে ধরে নেয়া যায়। আদিম লোকায়ত সমাজের বিশ্বাস, সংস্কার, আচার, প্রথা, অনুষ্ঠান ও জীবন ছন্দ মিশ্রিত বিভিন্ন কথা, সুর বাক্য ধ্বনির মধ্যে লোকসঙ্গীত খুঁজে পাওয়া যায়।
রচনার প্রাথমিক পর্যায়
সিন্ধু সভ্যতার (৩০০০ খ্রিঃ পূঃ ২৫০০ খ্রিঃ পূঃ) সময় থেকে মার্গ সঙ্গীত রচনার পাশাপাশি দেশী সঙ্গীত হিসাবে রচিত হয় লোকসঙ্গীত। ইহা লোকসঙ্গীত রচনার প্রাথমিক স্তর হিসাবে ধরে নেওয়া যায়।
বৈদিক যুগে লোক সঙ্গীত
অধিকাংশ পণ্ডিতরা মনে করেন খ্রিঃপূঃ ২০০০ অব্দে ভারতে আর্যরা প্রথম পদার্পণ করেন। বেদকে ভিত্তি করে আর্য সভ্যতার বিকাশ ঘটে বলে মনে করা হয়। ২০০০-১০০০ খ্রিঃ পূঃ অব্দ পর্যন্ত সময়কে বৈদিক যুগ বলা হয়। তৎকালীন সময়ে মার্গ সঙ্গীতের পাশাপাশি লোকসঙ্গীত প্রকাশ পায় যদিও বৈচিত্র্যতার ক্ষেত্রে তা ছিল খুব সামান্য। এ সম্পর্কে ড: ফেলবার বলেছেন-
“Speech and music has decended from a common origin in a premitive language which was neiher spelling and singing but something both.”
মধ্য যুগে লোকসঙ্গীত :
ভারতীয় সঙ্গীতের ইতিহাসে মধ্য যুগের সঙ্গীত রচনা আজকের শাস্ত্রীয় ও লোকসঙ্গীতের ভিত্তি বটে। অঞ্চলভিত্তিক রচনা লঘু সঙ্গীতকে অলংকৃত লোক করেছে এবং আত্মপ্রকাশ করেছে লোকসঙ্গীত হিসেবে।

আধুনিক যুগে লোক সঙ্গীত :
বাংলা লোকসঙ্গীতের বিবর্তনের ক্ষেত্রে যে সকল সময় উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত রেখেছে তার মধ্যে আধুনিক যুগ শ্রেষ্ঠ। এই সময় উপমহাদেশের সঙ্গীতের বিস্তৃতি ঘটেছিল। যার ক্ষেত্র তৈরি হয়েছিল উপমহাদেশীয় মুসলিমদের অবদানের দ্বারাই। এই যুগেই লোকসঙ্গীতের সাঙ্গীতিক কাঠামো, গঠন প্রণালী, সুরের আঙ্গিক পরিবেশনা সঠিক পরিসরে উন্নতি লাভ করে।
চর্যাপদে লোকসঙ্গীত:
বাংলা ভাষা যেমন হাজার বছরের পুরোনো তেমনি বাংলা গান এবং বাংলা কবিতার আদি নিদর্শন চর্যাপদ। মহামহোপাধ্যায় হরপ্রসাদ শাস্ত্রী নেপালের রাজকীয় গ্রন্থাগার থেকে সংগ্রহ করেন। পুঁথি সম্পাদনা করে প্রকাশ করেন “হাজার বছরের পুরোনো বাংলা ভাষায় বৌদ্ধ গান ও দোঁহা নামে।” এর নাম চর্যাপদ বিনিশ্চয়। পুথিটির পদ বা গানগুলোই বাংলা ভাষার আদি গান।
হরপ্রসাদ শাস্ত্রী সংগৃহীত পুঁথিতে গীত সংখ্যা ছিল সাড়ে ছেচল্লিশ অর্থাৎ একটি গানের অর্ধেকটুকু পাওয়া যায় নি। বৌদ্ধধর্মের নানা গূঢ় লৌকিক সাধনতত্ত্ব এর বিষয়বস্তু হলেও কখনও উপেক্ষিত সাধারণ মানুষের দুঃখ বেদনার চিত্রও এতে স্থান পেয়েছে। এঁদের মধ্যে কিছু নাম কাহ্নপাদ, কুক্কুরীপাদ লুইপান, চাটিল পান, শান্তিপান, ধামপান প্রমুখ। চর্যাপদে সর্বাধিক ব্যবহৃত রাগ- পটমঞ্জরী। চর্যাপদের আঙ্গিক, ভাবার্থ ও ভাব দর্শনে লোকসঙ্গীতের বিভাজন পরিলক্ষিত হয়। তাতে অনুমেয় যে, চর্যাপদে লোকসঙ্গীতের প্রভাব রয়েছে ।
নাথগীতি ও লোকসঙ্গীত:
নাথগীতি চর্যাপদের সমকালীন আদি গান। নাথ সম্প্রদায় একটি যোগী সম্প্রদায়। তাদের ধর্মমত সম্প্রদায়ের মুখ্য গুরুদেব ও তাদের শিষ্যদের নিয়ে নানা লৌকিক ও অলৌকিক আখ্যান রচিত হয়েছে। শুধু বাংলায় নয়, হিন্দি, মারাঠি, গুজরাটি, পাঞ্জাবী ও অন্যান্য ভারতীয় ভাষাতেও এই সব কাহিনীর গান প্রচলিত। পৌরানিক হিন্দুধর্মের সঙ্গে বৌদ্ধধর্মের নানা লৌকিক বিশ্বাসের সংমিশ্রণে এই নতুন লৌকিক ধর্ম নাথধর্ম।
নাথসাহিত্যের দুটি প্রধান কাহিনী একটিতে গুরু মীননাথ ও তার শিষ্য গোরক্ষনাথ, অপরটিতে রাজা মানিকচন্দ্র রানী ময়নামতী ও তাদের পুত্র গোপীচনদ্ৰকে নিয়ে। নাথগীতি কেমন করে গাওয়া হত তা জানা যায় না। কাহিনী পাঁচালী পড়ার মতো সুর করে পড়া হত বলে ধারণা করা হয়। চর্যাগীতির মধ্যে যে রাগ-রাগিনীর কথা পাই তা নাথগীতিতে নেই হয়তো লৌকিক গীতিচর্চা হেতু সাঙ্গীতিক বিবেচনায় নাথগীতিকে চর্যাপদের পরবর্তী বলে অনুমান করা যায়।

জয়দেবের গীতগোবিন্দ ও লোকসঙ্গীত :
পশ্চিম বঙ্গের বীরভূম জেলার অজয় নদীর তীরে কেন্দুবিল্ব গ্রামে কবি জয়দেবের জন্ম। গীতগোবিন্দ তাঁর অমর কীর্তি। গীতগোবিন্দের গায়নের সাথে নৃত্য রূপায়নের কথা জানা যায়। গীতগোবিন্দের বারটি সর্গ রয়েছে এর বিভাগ ২৪টি। প্রতি বিভাগে ও রাগের নির্দেশ আছে। উত্তর ভারতে গীত গোবিন্দের গীতরূপ বিলুপ্ত হয়ে পড়লে মেবারের রাজা রানাবুঝ নতুন করে প্রচারের উদ্যোগ নেন।
গীতগোবিন্দের দুটি প্রধান গায়নরূপ একটি ধ্রুপদাঙ্গ অপরটি কীর্তনাঙ্গ। গ্রুপদাঙ্গ যে গীতগোবিন্দের আদি গীতরূপ তা সহজেই অনুমেয়। কীর্তনীয়াদের প্রভাবে গীতগোবিন্দ পরিণত হয় কীর্তনে। জয়দেবের গীতগোবিন্দেও লোকসঙ্গীতের আবেশ পরিলক্ষিত হয়। রাধাকৃষ্ণ, বৃন্দাবন, সখি প্রভৃতি নামের সাথে লোককীর্তনের সুরটি নান্দনিকতা পেয়েছে।
বন্ধু চণ্ডীদাসের শ্রীকৃষ্ণ কীর্তন ও লোকসঙ্গীত:
বসন্তরঞ্জন রায় ১৯১৬ সালে বঙ্গীয় সাহিত্যে পরিষদ থেকে যে পুঁথিটি প্রকাশ করেন তার নাম দেন শ্রীকৃষ্ণকীর্তন। এ গ্রন্থের রচয়িতা বিদিত হয়েছে বড়ু চণ্ডীদাস নানে। শ্রীকৃষ্ণ কীর্তনের রচনাকাল খ্রিস্টীয় গননায় দাঁড়ায় ১৬৮২ সাল। শ্রীকৃষ্ণ কীর্তণ কয়েকটি খণ্ডে বিভক্ত।
সেগুলো হলো জন্মখণ্ড, তাম্বুল খণ্ড, দান খণ্ড, নৌকা খণ্ড, ভার খণ্ড, ছত্র খণ্ড, বৃন্দাবন খণ্ড, বান খণ্ড, বংশী খণ্ড, রাধাবিরহ খণ্ড। একেকটি খণ্ড একেকটি পালার মতো। নানা তাল ও নানা রাগ, চর্যাপদের মতোই এতে পাওয়া যায়। প্রতি খণ্ডে রাধাকৃষ্ণের মিলন লীলার নানা পর্যায় রয়েছে।
বৈষ্ণব পদাবলি :
কৃষ্ণ লীলা ও শ্রীগৌরাঙ্গের জীবন কাহিনী অবলম্বনে পদ অর্থাৎ গান। সেই গানের ধারায় যে বিপুল পরিমাণ পদ, পদাবলি সাহিত্য, সঙ্গীত আচ্ছন্ন করে রইল বহুকাল, তারই নাম বৈষ্ণব পদাবলি, মহাজন পদাবলি, শুধু পদাবলি। পদাবলি রচয়িতা বৈষ্ণব বা বৈষ্ণব ভাবপন্ন ছিলেন বলে, বৈষ্ণব দর্শন ও রসশাস্ত্র পদাবলির স্রোত ধারা বিবেচনায় একে বলা হয় বৈষ্ণব পদাবলি।
পদাবলি শব্দটির সঙ্গে কীৰ্ত্তন কথাটিও যুক্ত গভীরভাবে। কীর্তন মহিমা বা যশসূচক। কীর্তনের প্রচলিত সংজ্ঞা হলো- ঈশ্বরের নাম, গুণ ও লীলা বিষয়ক পদ রাগ ও তালবদ্ধ হয়ে উচ্চস্বরে গীত হলে কীর্তন হয়। এতে আছে ধ্রুপদের প্রভাব। লোকসঙ্গীতও মিশে আছে কীর্তনের ঢঙে।
চৈতন্যদেবের প্রভাবে পদাবলির ব্যাপক প্রচলন ঘটে। নামকীর্তনের প্রবর্তন তিনিই করেন। বৈষ্ণব ধর্ম প্রচার এই নাম কীর্তনের সাথেই যুক্ত ছিল, তাই নবদ্বীপের সঙ্গীত আন্দোলন কোলকাতাতে এবং সমগ্র বাংলার পল্লীতে পল্লীতে অনুরণন তোলে একদিন। এ প্রসঙ্গে হরে কৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় বলেন-
“গীতিময় বিগ্রহ গানেই তিনি উপাসনার মন্ত্র রচনা করিলেন, গানেই তিনি দেশকে মাতাইয়া তুলিলেন, এই গানই বৈষ্ণব পদাবলি। ”
মঙ্গল কাব্য
বাংলা সাহিত্যের আদি ও মধ্যযুগে শক্তি দেব-দেবীর মাহাত্মসূচক এক শ্রেণীর আখ্যায়িকা কাৰ্য প্ৰচলিত ছিল। তাহাদিগকে মঙ্গল গান বল হয়। বর্তমানে ইহা মঙ্গলকাব্য নামে পরিচিত।
বাংলা বৈষ্ণব পদাবলিও মঙ্গল রাগে গীত হতো। যেমন-
প্রভু কন গাও কিছু কৃষ্ণের মঙ্গল
মুকুন্দ গায়েন প্রভু শুনিয়া বিহ্বল।
মঙ্গল গানের সঙ্গে মঙ্গল প্রবন্ধ গীতির সম্পর্ক আছে। মনসা মঙ্গল, চণ্ডী মঙ্গল, ধর্ম মঙ্গল, মঙ্গল কাব্যের তিনটি উল্লেখযোগ্য শাখা। মঙ্গল গান ধর্মীয় বিষয়ভিত্তিক উপখ্যান বলে অনেক ক্ষেত্রে ইহা লোকসঙ্গীতানুগ প্রকৃতির।
বাংলা কীর্তন ও লোকসঙ্গীত:
কীর্তন গানের মৌলিক রচনা শহরভিত্তিক নয়। উৎপত্তি ও ক্রমবিকাশে কীর্তন গ্রামীন পর্যায়ে বেশি বিকশিত। লোকজ আঙ্গিকের সুর ও বাক্য সমন্বয় বাংলা কীর্তনকে আরও নান্দনিক করেছে। বিভক্তিকরণে ইহা ভিন্নভাবে পরিবেশিত হলেও কীর্তন গান লোকসঙ্গীতধারাই একটি পর্যায়।
কবিগান ও লোকসঙ্গীত :
কবিগান মূলত ঐতিহাসিক, বর্তমান কাহিনী বিন্যাসে সুরের আঙ্গিকে রচিত একটি গীত রীতি যা পূর্ব ও পশ্চিম বাংলার প্রচলিত বাংলা গানে দেখা যায়। কবি গান মূলত পূর্ব ও পশ্চিম বাংলার বাংলা লোকসঙ্গীতের একটি ঐতিহ্যগত রূপ। উৎপত্তি যেভাবে হোক কবিগান পরিবেশন হয় মুখোমুখি। দুটি দল এবং দু’জন কবিয়াল বিভিন্ন তথ্যভিত্তিক প্রশ্নবোধক সঙ্গীত পরিবেশনে কবি গানকে স্বার্থক করে তোলে। এতেই প্রতীয়মান হয় যে বাংলা গানের বিবর্তনের পাশাপাশি লোকসঙ্গীতও বিবর্তিত হয়।
পঞ্চ-গীতি কবি ও লোকসঙ্গীত:
বাংলা গানের বিবর্তনের ধারায় পঞ্চ-গীতি কবির গান একটি অধ্যায় বটে। দিজেন্দ্রলাল রায়, রজনীকান্ত সেন, অতুল প্রসাদ সেন, কাজী নজরুল ইসলাম, বরীন্দ্রনাথ ঠাকুর এই পঞ্চ প্রদীপ বাংলা গানের ভাণ্ডারকে করেছে সমৃদ্ধ এবং ও গীতিময়। সার্বিক পর্যায়ে পদ্মা-কবির গান সুর- লালিত্যে মহাপূর্ণ হবার কারণে লোকসঙ্গীত রচনা বংলা গানকে নতুন মাত্রা এনে দিয়েছে।
বিবর্তনের ধারায় লোকসঙ্গীতের মূল্যায়ন:
সাঙ্গীতিক মূল্যবোধে বাংলা লোকসঙ্গীত লঘু পর্যায়ের সঙ্গীত। লঘু সঙ্গীত হলেও এর উৎপত্তি ক্রমবিকাশ একটি নিয়ম-তান্ত্রিক ধারা বহন করে আছে। বিবর্তনের সংজ্ঞ অনুসারে লোকসঙ্গীত বৈচিত্র্য বৈভবে আজকে এই অবস্থানে। রচনা, গঠন প্রণালী, সুর বিন্যাস, তাল-সংযোজন সব কিছু মিলে লোক সঙ্গীতের আঙ্গীক ঐশ্বর্যমণ্ডিত গীতময়।
উপসংহার:
উপরোক্ত আলোচনার সুবাদে আমরা এই সিদ্ধান্তে আসতে পারি যে, লোক সঙ্গীতের ইতিহাস বিবর্তনের মধ্যে দিয়ে রচিত বটে। সঙ্গীতের বৈশিষ্ট্য বৈচিত্র্য অবলম্বন করে। এটি বাংলা গানে স্বার্থক রূপ লাভ করেছে।

