দেশপ্রেমিক নজরুল । নজরুলের ভাবনা

দেশপ্রেমিক নজরুল : একটি মাত্র কবিতার উদ্দেশ্যের সঙ্গে যথার্থভাবে পরিচিত হলেই বোঝা যাবে কবির দেশাত্মবোধের ভবিষ্যৎ রূপটি কি হবে। এটি সেই ভবিষ্যতের ভূমিকা মাত্র। এগিয়ে চলতে হলে আগে বিপ্লব ঘটাতে হবে এবং সেই বিপ্লব মনের বিপ্লব। এবং বহুদিনের সংস্কার-জর্জার মানুষের মনে ঘটাতে হবে সেই নকল বিধি-বিধান ওল্টানো বিপ্লব।

 

দেশপ্রেমিক নজরুল

 

দেশপ্রেমিক নজরুল । নজরুলের ভাবনা

মনের দিক দিয়ে এই পূর্ব প্রস্তুতি না থাকলে দেশপ্রেম দাঁড়াবে কোথায়? সীমাবদ্ধ দৃষ্টিতে দেখা সত্যের বাইরেও যে সত্য আছে তা দেখবার সহজ এবং একমাত্র উপায় এটি। হঠাৎ সব উল্টেপাল্টে দেওয়া। কিন্তু শুধু তাই নয়, এর প্রতি পদে স্মরণ করিয়ে দেওয়া হয়েছে—

“বল বীর
চির উন্নত মম শির!”

নতুন সৃষ্টির স্বপ্ন দেখেছেন কবি তাঁর এই “বিদ্রোহী” কবিতায় এতটা ভূমিকা করলাম শুধু নজরুলকে দেখাতে যে দেশপ্রেমিক কবি নজরুল কখনো তাঁর দেশের মানুষকে সস্তা সেন্টিমেন্টের ক্ষেত্রে ডাকেননি। তাঁর দেশাত্মবোধের শর্ত মনুষ্যত্ববোধ। এ কথাটা মনে রাখতে হবে।

 

দেশপ্রেমিক নজরুল

 

অতএব “বিদ্রোহী” কবিতার পাশে একবার দেখা যাক-

“সত্যকে হায় হত্যা করে অত্যাচারীর খাঁড়ায়,
নেই কি রে কেউ সত্য-সাধক বুক খুলে আজ দাঁড়ায়?
শিকলগুলো বিকল করে পায়ের তলায় মাড়ায়,—
বজ্র হাতে জিন্দানের ঐ ভিত্তিটাকে নাড়ায়?
নাজাত-পথের আজাদ মানব নেই কি রে কেউ বাঁচা,
ভাঙতে পারে ত্রিশ কোটি এই মানুষ-মেষের খাঁচা?
ঝুটার পায়ে শির লুটাবে, এতই ভীরু সাঁচা?’

 

দেশপ্রেমিক নজরুল

 

এখানেও দেখা যাবে কবির দেশাত্মবোধ ন্যায় ও সত্যের মহত্তর ভিত্তির উপর দাঁড়িয়ে আছে। বিদেশী শাসকের কারাগারে বন্দি থাকা হীন অপমান, কিন্তু এ কবিতার সেটাই শেষ কথা নয়। মিথ্যার পায়ে মাথা নত করবে, সত্য কি এতই ভীরু? কবি এই বৃহত্তর প্রশ্নটি তুলে তার দেশাত্মবোধের দিগন্ত বিস্তার করে দিয়েছেন। রবীন্দ্রনাথ যখন বলেছিলেন-

ওরে ভীরু তোমার হাতে নাই ভুবনের ভার”

 

google news logo

 

তখন তিনিও ভীরুকে লজ্জা দেবার চেষ্টা করেছিলেন, দেশাত্মবোধ থেকেই। সত্য কবি মাত্রই আপন চেতনার ভিতর দিয়ে সকল পরিচিত গণ্ডি ছাড়িয়ে সকল বন্ধন ভেঙে বিশ্বপরিক্রমা করে ফেলেন। তাই মানুষ্যত্বের প্রতি অতি মমত্বসম্পন্ন কবি কারাবন্ধনরূপ অপমানে বিচলিত হবেন, এতো খুবই স্বাভাবিক এবং তিনি কাজী নজরুল ইসলাম।

Leave a Comment