নজরুল রচিত ইসলামী গানের বৈশিষ্ট্যঃ কাজী নজরুল ইসলাম বাংলার ইসলামী সংগীতে দিয়েছেন নতুন প্রাণ নতুন সুর। তাঁর লেখা সংগীত ছাড়া বাংলা ভাষায় ইসলামী সংগীত ভাবাই যায় না। তাঁর সমসাময়িককালে কবি গোলাম মোস্তফা ও অন্যান্য দু’-একজন কবি ইসলামী সংগীত লিখলেও কাজী নজরুলই ইসলামী সংগীতের ভান্ডারকে কানায় কানায় পূর্ণ করেছেন। যা আজ ও আগামী প্রজন্মের জন্য নক্ষত্রের উজ্জ্বলতায় জ্বলজ্বল করবে নি:সন্দেহে।
কাজী নজরুল ইসলাম ১৯৩০ পরবর্তী সালে গ্রামোফোন কোম্পানির সাহচর্যে আসার পর থেকে লোকগীতি সম্রাট আব্বাস উদ্দীন আহমদের তাগিদে ইসলামী গান রচনায় মনোনিবেশ করেন।

নজরুল রচিত ইসলামী গানের বৈশিষ্ট্য । নজরুলের ভাবনা
নজরুল রচিত ইসলামী গানের বৈশিষ্ট্যগুলি নিম্নে আলোচনা করা হলো-
বৈশিষ্ট্য :
১. বিচিত্র পর্যায়ের গান।
২. ২০০টির বেশি গান রচনা।
৩. বাণী ও সুরের অপূর্ব সম্মিলন।
৪. শেয়রের বিশেষ পরিবেশনা।
৫. তদ্ধ, শালংক ও সংকীর্ণ শ্রেণীর রাগের প্রয়োগ।

৬. দেশি ও বিদেশি ভাষার সংমিশ্রণে রচিত ইসলামী গান
৭. হামন ও নাথের ক্ষেত্রে বিশেষ সার্থকতা অর্জন ।
৮. তাল বৈচিত্র্যের ক্ষেত্রে নজরুলের ইসলামী গান বিশেষ বৈশিষ্ট্য বহন করে।
৯. বিদেশি সুর ব্যবহার নজরুলের ইসলামী গানের অন্যতম বৈশিষ্ট্য।
১০. ইসলামী সঙ্গীত হিসেবে নজরুলের ইসলামী গানের বিষয়বস্তু ইসলাম ধর্মের তথ্য ভিত্তিক ।
১১. ধর্মীয় প্রভাবের কারণে শব্দ ও বাক্য সার্বিকভাবে ইসলামিক

১২. নজরুল রচিত ইসলামী গানের প্রচার ও প্রসারের ক্ষেত্রে বেশ পরিবেশনা লক্ষ করা যায়।
১৩. বাংলা গানের বিবর্তনের ক্ষেত্রে ধর্মীয় ভাবকে প্রাধান্য দিয়ে রচিত নারুল সৃষ্ট ইসলামী গানের ধারাবাহিক পর্যায় বাংলা গানকে প্রভাবিত করেছে।
১৪. তথ্যভিত্তিক উপস্থাপনের জন্য এর প্রকাশ বাস্তবমুখী।
১৫. নজরুল সৃষ্ট ইস-লামী গান লঘু সঙ্গীত পর্যায়ের।
১৬. মহাবিদ্যালয় ও বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঠ্যসূচিতে নজরুলের ইসলামী গান অন্তর্ভুক্ত।

