একটি উদ্দীপনামূলক গানের ভাবার্থ : নজরুলের গানের সংখ্যা চার হাজারের অধিক। নজরুলের গান নজরুল সঙ্গীত নামে পরিচিত। ১৯৩৮ সালে কাজী নজরুল ইসলাম কলকাতা বেতার কেন্দ্রের সঙ্গে আনুষ্ঠানিকভাবে যুক্ত হন। সেখানে তিনটি অনুষ্ঠান যথাক্রমে ‘হারামণি’, ‘নবরাগমালিকা’ ও ‘গীতিবিচিত্রা’র জন্য তাকে প্রচুর গান লিখতে হতো। ‘হারামণি’ অনুষ্ঠানটি কলকাতা বেতার কেন্দ্রে প্রতি মাসে একবার করে প্রচারিত হতো যেখানে তিনি অপেক্ষাকৃত কম প্রচলিত ও বিলুপ্তপ্রায় রাগরাগিণী নিয়ে গান পরিবেশন করতেন।

একটি উদ্দীপনামূলক গানের ভাবার্থ । নজরুলের ভাবনা
গানের বাণী : কারার ঐ লৌহ কপাট
তাল : দ্রুত দাদরা
পর্যায় : উদ্দীপনামূলক
ভাবার্থ:
১৮৯৯ সালের ২৪ মে কবি নজরুল পরাধীন ভারতবর্ষে জন্মগ্রহণ করেন। শৈশব হতেই তিনি পরাধীনতার শৃঙ্খল হতে মুক্তির প্রশ্নে বিভিন্ন প্রতিবাদী সঙ্গীত ও কাব্য রচনা করেন। অনেকে মনে করেন কবি এ গানটি জেলে বসে লিখেছেন আসলে তা সত্য নয়। দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন দাসের বাংলার কথা পত্রিকার জন্য একটি লেখার অনুরোধ আসে কবির কাছে। সময় ১৯২১ সাল। তখন দেশে অসহযোগ আন্দোলন চলেছে।

হাজার হাজার মুক্তিকামী মানুষ কারা বরণ করতে বাধ্য হচ্ছেন। তখন নজরুল এ বিখ্যাত গানটি রচনা করেন। গানটি ভাঙার গানে স্থান পেয়েছেন। রেকর্ড করেন গিরীন চক্রবর্তী। রেকর্ড নং-৭৫০৬ । গানটির মাধ্যমে কবি পরাধীনতার বিরুদ্ধে সোচ্চার প্রতিবাদের ধ্বনি পৌঁছে দিয়েছেন সমগ্র ভারতবর্ষে।
গানটির ৰাণীতে কবি বলেছেন কারার ঐ লৌহ কপাট লাথি মেরে ভেঙে বিজয় ছিনিয়ে আনতে। নজরুল বলেছেন প্রলয় যদি আনতে পার বিদ্রোহ যদি করতে পার তা হলে নিদ্রিত শিব জাগবেই বিজয় হবেই। গানটিতে কবি নিজের সত্ত্বাকে পাগলাভোলা বলেছেন। যারা আমাদের প্রলয় উল্লাসে দেখে আজ হাসছে তার একদিন ফাঁসী পরবে।
কালবৈশাখী যে আসছে তা তিনি দিব্য দৃষ্টিতে দেখেছিলেন তাই ভিত্তিহীনভাবে বসে না থেকে ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনে নিজেকে সক্রিয় হওয়ার জন্য নজরুল এ গানটিতে তাঁর অভিব্যক্তি বর্ণনা করেছেন এবং বলেছেন তালাভেঙে বন্দীদের মুক্তি দিয়ে বন্দীশালায় আগুন জ্বালাতে। ফলে সামনে আসবে একটি সুন্দর সকাল একটি স্বাধীন ভারতবর্ষ।
এ পর্যায়ে দেশের তরুণদেরকে প্রলয় বিষান বাজিয়ে ব্রিটিশ শাসনকে ধ্বংস করার আহ্বান ধ্বনিত হয়েছে গানটিতে। গানটির দর্শনতত্বে নজরুল মূলত পরাধীন ভারতবর্ষে স্বাধীনতার সূর্য উদীয়মান প্রশ্নে বন্দীশালার লৌহ কপাট ভেঙে বন্দীশালা হতে বন্দীদের মুক্তিদিয়ে ব্রিটিশদেরকে উৎখাত করে স্বাধীন সর্বভৌম প্রতিষ্ঠায় সবাইকে সাম্প্রদায়ীক প্রবণতা ভুলে এক পতাকা তলে আসার আহ্বান জানিয়েছেন।

