নজরুলের শৈশব ও কৈশোরের উল্লেখযোগ্য ঘটনা : দারিদ্রপরিবারের জন্মগ্রহণ তথা দারিদ্রতার মধ্য দিয়ে বেড়ে ওঠা নজরুল আর ১০ জনের মতো জীবন পরিচালনা করতে পারেনি। তার মধ্যেও নজরুল শৈশব ও কৈশোরের দিনগুলি যেভাবে কাটিয়েছেন তার একটি সম্ভাব্য সময় নিম্নে উপস্থাপন করা হলো ১৯০৮ থেকে ১৯১৭ সাল পর্যন্ত কাজী নজরুলের জীবন এভাবে বিন্যস্ত হতে পারে।

নজরুলের শৈশব ও কৈশোরের উল্লেখযোগ্য ঘটনা
১৯০৮ সালে তাঁর বয়স যখন সবে ৯ বছর, তখন তিনি বাবাকে হারান।আর্থিক অনটনে একটানা পড়াশোনা করা তাঁর হয়ে ওঠে নি। সংসার চালানোর জন্য পরের বছর মক্তব পাশ করে সেখানেই কাজ শুরু করলেন দুখু মিঞা। বাবার মতই মাজারের খাদেম ও মসজিদের ইমামতির কাজ নিলেন।
কিন্তু মক্তবের ওই সামান্য আয়ে সংসার চালানো খুবই কষ্টসাধ্য ছিল।রুলিয়া অঞ্চলে চাচা কাজী বজলে করিমের এক লেটো গানের দল ছিল। চাচার সঙ্গে নজরুল ইসলামের খুব ভাব ছিল ছোটবেলা থেকেই। দলের জন্য কাজী বজলে করিম নিজেই গান লিখতেন। আরবি, ফার্সি আর বাংলা ভাষায় তাঁর ভাল দখল ছিল। তাঁর কাছেই নজরুলের হাতেখড়ি হয় পদ্য লেখায়। সে অঞ্চলে আরও কয়েকটি লেটো গানের দল ছিল।

নজরুলের লেখা গান-কবিতা তাদের ভাল লাগে। এভাবেই তিনি যোগ দিলেন লেটো গানের দলে (লেটো গান হচ্ছে কবিগানেরই একটি ধরন)। গানের দলের সাথে আশেপাশের বিভিন্ন অঞ্চলে যেতেন তিনি; তাদের সাথে অভিনয় শিখতেন এবং তাদের নাটকের জন্য গান ও কবিতা লিখতেন।দলের সাথে ঘুরে ঘুরেই তাঁর পরিচয় ঘটে নানা জাতের, বর্ণের, ধর্মের মানুষের সাথে।
এ সময় তিনি লিখেছেন বাংলা-উর্দু-ফারসি-ইংরেজি ভাষা মিশ্রিত গীতিকাব্য, প্রহসন, পাঁচালী, কবিগান। এসবের মধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিল: চাষার সঙ, শকুনীবধ, রাজপুত্রের গান, মেঘনাদ বধ, ইত্যাদি। তারপর একদিন গানের দল ছেড়ে আবার তিনি পড়াশোনায় ফিরে যান।
শৈশব ও কৈশোরের উল্লেখযোগ্য ঘটনা
(১) ১৯০৮ সালে লেটোর দলে শিক্ষানবিশ ও মক্তবে পাঠ।
(২) ১৯০৯-এ পিতার মৃত্যু ও মক্তবে মসজিদে আংশিক কর্মসংস্থান ও লেটো দলে যুক্ত থাকা।
(৩) ১৯১১ সালে মাথরুন গ্রামে নবীনচন্দ্র ইনস্টিটিউটে ছাত্র হওয়া।
(৪) ১৯১২ সালের প্রায় সবটুকু সময় লেটোদলে থাকা ।
(৫) ১৯১৩ সালে আসানসোল, সেখান থেকে ময়মনসিংহ হয়ে ১৯১৪ সালের bডিসেম্বরে প্রত্যাবর্তন এবং পুনরায় লেটো দলে যোগদান।
(৬) ১৯১৫ থেকে ১৯১৭ শিয়ারশোলে স্কুলজীবন এবং ৪৯নং বাঙালী রেজিমেন্টে যোগ দিয়ে সেনাবাহিনীতে করাচী চলে যান।


