নজরুলের বাজেয়াপ্ত গ্রন্থঃ করাচি সেনানিবাসে বসে নজরুল যে রচনাগুলো সম্পন্ন করেন তার মধ্যে রয়েছে, বাউণ্ডুলের আত্মকাহিনী (প্রথম গদ্য রচনা), মুক্তি (প্রথম প্রকাশিত কবিতা); গল্প: হেনা, ব্যথার দান, মেহের নেগার, ঘুমের ঘোরে, কবিতা সমাধি ইত্যাদি। এই করাচি সেনানিবাসে থাকা সত্ত্বেও তিনি কলকাতার বিভিন্ন সাহিত্য পত্রিকার গ্রাহক ছিলেন।

নজরুলের বাজেয়াপ্ত গ্রন্থ
এর মধ্যে রয়েছে প্রবাসী, ভারতবর্ষ, ভারতী, মানসী, মর্ম্মবাণী, সবুজপত্র, সওগাত এবং বঙ্গীয় মুসলমান সাহিত্য পত্রিকা। এই সময় তার কাছে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় এবং ফার্সি কবি হাফিজের কিছু বই ছিল। এ সূত্রে বলা যায় নজরুলের সাহিত্য চর্চার হাতেখড়ি এই করাচি সেনানিবাসেই।
নজরুলের প্রথম গদ্য রচনা ছিল “বাউণ্ডুলের আত্মকাহিনী”। ১৯১৯ সালের মে মাসে এটি সওগাত পত্রিকায় প্রকাশিত হয়। সৈনিক থাকা অবস্থায় করাচি সেনানিবাসে বসে এটি রচনা করেছিলেন। এখান থেকেই মূলত তার সাহিত্যিক জীবনের সূত্রপাত ঘটেছিল।

এখানে বসেই বেশ কয়েকটি গল্প লিখেছেন। এর মধ্যে রয়েছে: “হেনা, ব্যথার দান, মেহের নেগার, ঘুমের ঘোরে”। ১৯২২ সালে নজরুলের একটি গল্প সংকলন প্রকাশিত হয় যার নাম ব্যথার দান- এছাড়া একই বছর প্রবন্ধ-সংকলন যুগবাণী প্রকাশিত হয়।
ব্রিটিশ শাসিত পরাধীন ভারতে ১৮৯৯ সালে কবি নজরুল জন্মগ্রহণ করেন। জন্মলগ্ন হতেই পরাধীনতার বিরুদ্ধে ভারতীয় জনগণের শ্লোগান নজরুলের কানে শ্রবণের অনুভূতি জাগিয়েছিল। বিদ্রোহমূলক লেখনীর জন্যে তৎকালীণ ব্রিটিশ সরকার নজরুলের ৩টি কাব্যগ্রন্থ, ১টি সঙ্গীতগ্রন্থ ও ১টি প্রবন্ধ গ্রন্থ বাজেয়াপ্ত করেন ।

(১) যুগবাণী প্রবন্ধ গ্রন্থ বাজেয়াপ্ত ১৯২২।
(২) বিশের বাঁশী কাব্যগ্রন্থ বাজেয়াপ্ত ১৯২৪ ।
(৩) ছায়ানট কাব্যগ্ৰন্থ বাজেয়াপ্ত ১৯২৫।
(৪) প্রলয়শিখা কাব্যগ্রন্থ বাজেয়াপ্ত ১৯৩০।
(৫) চন্দ্রবিন্দু সঙ্গীতগ্রন্থ বাজেয়াপ্ত ১৯৩০।
