কাজী নজরুলের ৫টি লোকসঙ্গীতের পরিচয়ঃ লোক সঙ্গীত বাংলাদেশের সঙ্গীতের একটি অন্যতম ধারা। এটি মূলত বাংলার নিজস্ব সঙ্গীত। গ্রাম বাংলার মানুষের জীবনের কথা, সুখ দুঃখের কথা ফুটে ওঠে এই সঙ্গীতে। এর আবার অনেক ভাগ রয়েছে। এটি একটি দেশের বা দেশের যেকোনো অঞ্চলের সংস্কৃতিকে তুলে ধরে। যেমন ভাওয়াইয়া, ভাটিয়ালি, পল্লীগীতি, গম্ভীরা ইত্যাদি।
১৯৩৮ সালে কাজী নজরুল ইসলাম কলকাতা বেতার কেন্দ্রের সঙ্গে আনুষ্ঠানিকভাবে যুক্ত হন। সেখানে তিনটি অনুষ্ঠান যথাক্রমে ‘হারামণি’, ‘নবরাগমালিকা’ ও ‘গীতিবিচিত্রা’র জন্য তাকে প্রচুর গান লিখতে হতো। ‘হারামণি’ অনুষ্ঠানটি কলকাতা বেতার কেন্দ্রে প্রতি মাসে একবার করে প্রচারিত হতো যেখানে তিনি অপেক্ষাকৃত কম প্রচলিত ও বিলুপ্তপ্রায় রাগরাগিণী নিয়ে গান পরিবেশন করতেন।

কাজী নজরুলের ৫টি লোকসঙ্গীতের পরিচয় । নজরুলের ভাবনা
কাজী নজরুল প্রবর্তিত ৫টি লোকসঙ্গীতের পরিচিতি নিম্নরূপ :
(১) কালো জল ঢালিতে সই
গ্রন্থ : নজরুল গীতি সন্ধানে
প্রকাশ কাল : জুলাই ১৯৩৮
শিল্পী : সিদ্ধেশ্বর মুখোপাধ্যায়
রেকর্ড নং :এন ১৭১৬৩ পর্যায় লোকসঙ্গীত
তাল মাদলে ব্যবহৃত
৬ মাত্রার লোকতাল

(২) কুঁচ বরণ কন্যা রে তার
পত্রিকা: সঙ্গীতবিজ্ঞান প্রবেশিকা, ২য় সংখ্যা জ্যৈষ্ঠ-১৩৩৯ স্বরলিপিকার: শৈলেশ দত্তগুপ্ত।
গ্রন্থ সুরসাকী
প্রকাশ কাল : সেপ্টেম্বর ১৯৩২
শিল্পী : উমাপদ ভট্টচাৰ্য
রেকর্ড নং : (ক) এইচ-৭
(খ) এফটি-২২২৭
শিল্পী : আব্বাসউদ্দীন আহমেদ
পর্যায় : লোকগীতি (ভাটিয়ালি)
তাল: কাহারবা

(৩) কে দিল গোপাতে
গ্রন্থ : নজরুল গীতি (অখণ্ড)
প্রকাশ কাল : ১৯৩৪ ডিসেম্বর
নাটক : মহুয়া
শিল্পী আঙ্গুরবালা
রেকর্ড নং : এন ৭৩০৩
পর্যায় লোকসঙ্গীত (ঝুমুর)
তাল : মাদলে ৬ মাত্রার লোকতাল ।

(৪) চিকনকালো বেদের কুমার
গ্রন্থ নজরুল গীতি (অখণ্ড)
স্বরলিপি পটদীপ
প্রকাশ কাল- এপ্রিল ১৯৪২
শিল্পী : বীনা চৌধুরী
রেকর্ড নং – এন ২৭২৬২
পর্যায় লোকসঙ্গীত
তাল: দাদরা
(৫) তোমায় কুলে তুলে বন্ধু
রচনাকাল ও স্থান – জানুয়ারি, ১৯২৯। চট্টগ্রাম।
পত্রিকা বুলবুল ফাল্গুন-১৩৩৪
শিরোনাম চট্টগীতিকা গ্রন্থ চোখের চাতক
স্বরলিপি সুরলিপি
প্রকাশ কাল জুন, ১৯৩২ শিল্পী ধীরেন দাস
রেকর্ড নং। এন ৭০০২
পর্যায় – লোকসঙ্গীত (ভাটিয়ালি)
তাল: কাহারবা

