কাজী নজরুলের একটি শরৎঋতুর গানের বাণী : নজরুলগীতি বা নজরুল সঙ্গীত বাংলাভাষার অন্যতম প্রধান কবি ও সংগীতজ্ঞ কাজী নজরুল ইসলাম লিখিত গান। তার সীমিত কর্মজীবনে তিনি ৩০০০-এরও বেশি গান রচনা করেছেন। এসকল গানের বড় একটি অংশ তারই সুরারোপিত।

কাজী নজরুলের একটি শরৎঋতুর গানের বাণী
(২) শরৎঋতুর গান
“এসো সারদ প্রাতের পথিক”
পর্যায় ঋতু সঙ্গীত (শরতের গান)
রেকর্ড নাম্বার- এন ৭২০৩
তাল: দাদরা
গ্রন্থ- গীতিশতদল রাগ: মিশ্র
শিল্পী অনিমা বাদল
স্থায়ী
এসো সারদ প্রাতের পথিক
এসো শিউলী বিছানো পথে
এসো ধুইয়া চরণ শিশিরে
এসো অরুণ কিরণ রথে
শরতের সকালে প্রকৃতি যখন আপন সৌন্দর্যে মহিমান্বিত, ঝরা শিউলী যখন পথে পরে সকালের সৌন্দর্যকে আরও সৌন্দর্যমণ্ডিত করে তোলে কবি তখন প্রিয়জনকে আসার আমন্ত্রণ জানিয়েছেন। সকালের শিশিরে পা ধুয়ে সূর্যের আলোর বাহনে চড়ে কবির প্রিয়জনকে আসতে বলেছেন।

অন্তরা
দলি শাপলা শালুক শতদল
এসো রাঙায়ে তোমার পদতল
নীল লাবণী ঝরায়ে ঢলো ঢল
এসো অরণ্য পর্বতে (1)
কবি তাঁর প্রিয়জনকে শাপলা শালুকসহ শতশত সৌন্দর্যকে রাঙিয়ে নীল পানির ঢলঢল লাবণ্য ঝরিয়ে পর্বত বনভূমির পথ ধরে আসার জন্য আমন্ত্রণ জানিয়েছেন।

সঞ্চারী:
এসো ভাদরের ভরা নদীতে ভাসায়ে
কেতকী পাতার তরণী
(এসো) বলাকার রং পালক কুরায়ে
বাহি ছায়া পথ সরণী
ভাদ্র মাসের ভরা নদীতে কেতকী পাতার নৌকায় ভেসে বলাকার পালকের রং নিয়ে ছায়াপথ সরণী হয়ে কবি তাঁর প্রিয়জনকে আসার আহ্বান জানিয়েছেন।
আভোগ
শ্যাম সরসে কুসুম হাসিয়া
এসো হিমেল হাওয়ায় ভাসিয়া
এসো ধরণীরে ভালবাসিয়া।
দূর নন্দন তীর হতে।।
ফসল ভরা মাঠে সূর্যের আলো পরে যে সুন্দর হাসি মাখা সৌন্দর্যের রূপ প্রকাশ পায় সেই পথ ধরে হিমেল হাওয়ায় ভেসে অসীম সৌন্দর্যের তীর হতে পৃথিবীকে ভালবেসে প্রিয়জনকে আসার জন্য কবি অনুনয় করেছেন ।

