নজরুল রচিত একটি ঋতুভিত্তিক গানের বাণী : সৃষ্টিশীল প্রতিভার অধিকারী কাজী নজরুল রচিত ঋতুভিত্তিক পর্যায়ের গান নজরুলসঙ্গীতের ভাণ্ডারকে সমৃদ্ধ করেছে। বাংলা ভাষা-ভাষীদের অভ্যন্তরের পালিত ছয়টি ঋতুর ঐতিহ্যগত বর্ণনা নজরুলের ঋতুভিত্তিক গানে স্থান পেয়েছে।

Table of Contents
Toggleনজরুল রচিত একটি ঋতুভিত্তিক গানের বাণী
আমরা নিম্নে চারটি গানের পর্যায়ভিত্তিক বাণী বিশ্লেষণের মাধ্যমে ধারাবাহিক বর্ণনা উপস্থাপন করছি।
(১) হেমন্ত ঋতুর গান
“সবুজ শোভার ঢেউ খেলে যায়”
পর্যায় – ঋতুভিত্তিক দেশাত্ববোধক গান (হেমন্ত )
রেকর্ড নাম্বার- এন ৭২০৩
তাল- দাদরা
প্রকাশকাল : মার্চ, ১৯৩৪
রাগ: খাম্বাজ
শিল্পী অনিমা বাদল
স্থায়ী
দেশমাতৃকার রূপের বর্ণনা করতে গিয়ে হেমন্ত ঋতুর প্রসঙ্গকে কবি আপন মহিমায় বর্ণনা দিয়েছেন। সবুজের সমারোহে যেন ভালো লাগার ঢেউ খেলে যায়। নতুন আমন ধানের সবুজ ক্ষেতে সেই ঢেউ শোভা বর্ধন করে। হেমন্তের ফসল গায়ে ভেজা শিশুর নিয়ে হিমেল হাওয়ার পরশে যেন আনন্দে মেতে উঠে।

অন্তরা
টইটুম্বর ঝিলের জল
কাঁচা রোদের মানিক ঝলে
চন্দ্র ঘুমায় গগন তলে
সাদা মেঘের আঁচল পেতে।
ভরা ঝিলের পানিতে রোদের কিরণ পড়ে মানিকের মতো ঝিকিমিকি জ্বলে ওঠে। আকাশে যেন সাদা মেঘ আঁচল পেতে চাদ ঘুমিয়ে আছে এই অংশে কবি এমনই। মনমুগ্ধকর রূপের বর্ণনা করেছেন।

সঞ্চারীঃ
নটকান রঙশাড়ি পরে কে বালিকা
ভোর না হতে যায় কুড়াতে শেফালিকা।
গ্রামের বালিকা নটকান রং শাড়ি পরে ভোরবেলা ঝরা শেফালি ফুল কুড়াতে যায়। কবি জানে না কোন সে বালিকা যে সূর্য উঠার আগেই শেফালি ফুল কুড়িয়ে নিয়ে যায়। সেই দৃশ্য বর্ণনা করে কবি হেমন্তের রূপকে আরো বেশি আকর্ষণীয় করে তুলতে চেয়েছেন।
আভোগ
আনমনা মন উড়ে বেড়ায়
অলস প্রজাপতির পাখায়
মৌমাছিদের সাথে সে চায়
কমল বনের তীর্থে যেতে (1)
প্রজাপতি যেমন বিশাল ডানা মেলে অলস ভঙ্গিতে ফুলে ফুলে উড়ে বেড়ায় কবির মনও তেমনি আনমনা হয়ে উড়ে বেড়ায়। এবং কবির মন মৌমাছিদের সাথে কমল বনের তীর্থে যেতে চায় ।






















