সাংবাদিক হিসেবে নজরুলের মূল্যায়ন । নজরুলের ভাবনা

সাংবাদিক হিসেবে নজরুলের মূল্যায়ন : পঞ্চ-গীতিকবিদের মধ্যে এক মাত্র নজরুলই সাংবাদিক হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন। তিনি একই সাথে গীতিকার, সুরকার, সাংবাদিক, সৈনিক ও বিদ্রোহী হিসাবে বিশ শতকে নিজের প্রতিভার সাক্ষর রাখেন। সাংবাদিক হিসেবে তিনি কতটা সফল হয়েছিলেন সে সম্পর্কে আমরা নিম্নে আলোচনার মাধ্যমে উপস্থাপন করব।

 

সাংবাদিক হিসেবে নজরুলের মূল্যায়ন

 

 

Table of Contents

সাংবাদিক হিসেবে নজরুলের মূল্যায়ন । নজরুলের ভাবনা

“বাংলার কথা” পত্রিকার সম্পাদক দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন দাস, কাজী নজরুলের সাংবাদিকতা সম্পর্কে বলেন

“শুধু অর্থনৈতিক সমস্যার কারণে নজরুল অনেক প্রতিভার প্রকাশ ঘটাতে সক্ষম হননি। আমিও তাঁকে বলে ছিলাম, দেখ আমার পত্রিকার কাজটি তুমি গ্রহণ করতে পার নাকি, তার কারণ আমি বুঝতে পেরেছিলাম সাংবাদিকতা ও পত্রিকা সম্পাদনার কাজটি করবার মতো প্রতিভা ওর মধ্যে আছে”।

মন্তব্য :

বিশ্ব কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, সাংবাদিক নজরুল সম্পর্কে লিখেছিলেন, নজরুলের সঙ্গীত প্রতিভা অসাধারণ, আমি সব গান লিখে যেতে পারিনি কিন্তু নজরুলের সঙ্গীত প্রতিভায় সব শ্রেণীর মানুষ তাকে সর্বকালেই স্মরণ করতে পারবে। কিন্তু সাংবাদিকতা ও পত্রিকা সম্পাদনা করা ওর কাজ নয়।

তথ্যসূত্র: কাজী নজরুল ও রবীন্দ্রনাথের সঙ্গীতের ধারা।
নারায়ণ চৌধুরী

জন মিল্টন – AREOPAGITICA তে। জন মিল্টন সম্পাদিত গ্রন্থ Jarnalizm and Litarature.

  • রাজা রামমোহন রায়ের অভিমত – ভারতীয়দের মধ্যে রাজা রামমোহন রায় প্রথম স্বার্থকভাবে ঘোষণা করেন। সংবাদপত্রের স্বাধীনতা ও মানুষের স্বাধীনতার কথা।

1. MEMORIAL TO THE SUPRIM CORT (1823) AND

2. APPEAL TO THE KING IN COUNCIL (1825) কে THE AREOPAGITICA OF INDIAN HISTORY বলা হয়।

মোজ্জাফ্ফর আহমেদের মতবাদ :

১৯২০ সালে “নবযুগ” পত্রিকা সম্পাদনা করতে গিয়ে তিনি নজরুল সম্পর্কে বলেন, “অনেকের ধারণা ছিল যে, মুসলিম পরিবারের সন্তান আর কতটুকু বা যৌক্তিক সম্পাদনা করতে পারবে। কিন্তু আমি “নবযুগ” পত্রিকা সম্পাদনার ক্ষেত্রে দেখেছিলাম নজরুলের সাংবাদিকতার পটভূমি এবং পত্রিকা সম্পাদনা করবার যৌক্তিক প্রতিভা।” দেশ পত্রিকা, পূজা সংখ্যা ১৯২১ ।

বাংলা ভাষায় প্রথম প্রকাশিত পত্রিকা :

বাংলা ভাষায় বাঙালি জাতি কর্তৃক প্রথম পত্রিকা প্রকাশ পায় ১৮৩৯ সালের ১৪ জুন। সূচনাটা এত সুন্দর না হলেও সঠিক সম্পাদনা এবং সাংবাদিকদের নিজস্ব স্বকীয়তার কারণে আজকের এ সময় পর্যন্ত তা পুরোপুরি স্বার্থকতা অর্জন করতে সক্ষম হয়েছে।

 

সাংবাদিক হিসেবে নজরুলের মূল্যায়ন

 

নজরুলের সাংবাদিক জীবনের শুভারম্ভ :

১৯২০ সালের মাঝামাঝি মূলত নজরুলের সাংবাদিক জীবন শুরু হয়। এই সময় কাল নিয়েও মতভেদ আছে। তবুও ১৯২০ সালের মাঝামাঝি থেকে ১৯২১ সালের মধ্যকালীন সময় পর্যন্ত নজরুরের সাংবাদিক জীবনের উদ্ভব বলে সার্বিকভাবে প্রমাণিত।

রাজরোষ ও নবযুগ :

“নবযুগ” পত্রিকা সম্পাদনা করতে গিয়ে নজরুলকে অনেক সময় বাধার সম্মুখিন হতে হয়েছিল। তৎকালীন ব্রিটিশ শাসন এবং পশ্চিম বঙ্গ সাংবাদিক পরিষদ, অনে পত্রিকার সম্পাদক এবং যারা পত্রিকা পরিচালনা করে তারাই মূলত নজরুলের সাংবাদিকতার বিরুদ্ধে সোচ্চার প্রতিরোধ গড়ে তোলে। ব্রিটিশ শাসন আমলে নজরুলকে “নব যুগ” পত্রিকা সম্পাদনার কারণে অনেকবার কারা বরণ করতে হয়েছিল। তবুও “নবযুগ” পত্রিকার কাজ থেমে থাকেনি।

যুগবাণী ও নজরুল :

নজরুল “যুগবাণী” পত্রিকা সম্পাদনার কাজ শুরু করেন ১৯২২ সালে। কারণ পত্রিকা সম্পাদনার সার্বিক ধরণ, বিভিন্ন বিভাগ “যুগবাণী” “নবযুগ” পত্রিকা থেকে সম্পূর্ণ আলাদা ছিল। যে পত্রিকাটি সর্ব স্তরের মানুষের গ্রহণ যোগ্যতার কথা চিন্তা করে ছিলেন তা হলো যুগবাণী”।

সাংবাদিক হিসেবে নজরুলের মূল্যায়ন

দৈনিক সেবক ও নজরুল

“যুগবাণী” পত্রিকার পরপরই (১৯২২ সালে) তিনি “দৈনিক সেবক” পত্রিকা সম্পাদনা করেন, যার মধ্যে লেখনির মূল বিষয় ছিল অসাম্প্রদায়িকতা এবং ব্রিটিশ শাসনের অবসান। “সেবক” সম্পাদনার মধ্যে দিয়ে তিনি মূলত নিখিল ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনের প্রেক্ষাপট রচনা করেছেন।

ধুমকেতু ও নজরুল

১৯২২ সালের ১২ আগস্ট প্রথম নজরুল কর্তৃক ধুমকেতু সম্পাদিত হয়। যেখানে ব্রিটিশ বিরোধী সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি এবং জনগণের কথা উল্লেখ ছিল। নিখিল ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলন এবং সকল পর্যায়ের মানুষের মধ্যে স্বাধীন চেতনা বোধ জাগিয়ে তুলবার ক্ষেত্রে বিভিন্ন কবিতা, সঙ্গীত, প্রবন্ধই ছিল ধূমকেতুর মূল লেখনি।

 

সাংবাদিক হিসেবে নজরুলের মূল্যায়ন

 

“ধুমকেতু” সম্পর্কে পবিত্র গঙ্গোপাধ্যায়ের মন্তব্য:

নজরুল মুসলিম পরিবারের সদস্য হিসাবে তৎকালীন সময়ের প্রেক্ষাপটে অনেক হিন্দুয়ানা লেখক নজরুলের লেখনীকে মেনে নিতে চায়নি। কিন্তু পবিত্র গঙ্গোপাধ্যায় নজরুলের লেখনি সম্পর্কে যে মন্তব্য করেছিলেন তা হলো :

“প্রতিভা সঠিক এবং যৌক্তিক হলে তাকে সাম্প্রদায়ীকতা দিয়ে রুখতে পারা যায় না। আমরা একই জন্মভূমিতে জন্মালেও কারো কারো মধ্যে অন্যের প্রতিকা মেনে নেওয়ার ক্ষমতা খুবই নগণ্য। আজকের প্রেক্ষাপটে নজরুলের প্রতিভার স্বীকৃতি একটা না হলেও তার লেখনীর গ্রহণযোগ্যতা এক সময় সার্বিকভাবে সাড়া পাবে।
নজরুল প্রতিভা -নারায়ণ চৌধুরী।

ধুমকেতুর উদ্দেশ্যে সম্পর্কে নজরুল

“ধুমকেতু” সম্পাদনার মূল উদ্দেশ্যে ছিল ব্রিটিশ শাসন থেকে দেশ মাতৃকাকে মুক্ত করার দৃঢ় সংকল্প। নজরুলের চেতনা, লেখার উদ্দীপনা, সঙ্গীত রচনা, গল্প সব ক্ষেত্রে পরাধীনতার শৃঙ্খল হতে মুক্তির আভাস “ধূমকেতু” তে সম্পাদিত হয়েছিল। কারণ মাতৃভূমি তথা দেশের মানুষের সার্বিক স্বার্থে গণজোয়ারের মাধ্যমে মুক্তিকামি মানুষ ব্রিটিশ শাসনের অবসান ঘটাবে এটাই “ধূমকেতু” মূল সম্পাদনা ছিল। আঘাত যদি হানা যায়, প্রলয় যদি আনা যায় আমাদের মুক্তি ঘটবেই।

ভারতের স্বাধীনতা ও ধুমকেতু

১৩২৯ সালের ২৬ আশ্বিন সংখ্যায় ভারতের স্বাধীনতা সম্পর্কে ধুমকেতুর ভূমিকা কি তা ব্যাখ্যা করেন এ পর্যায়ের প্রাদেশিক গণআন্দোলন এবং সর্বস্তরের মানুষের মধ্যে স্বাধীন চেতনাবোধ প্রয়োজন ছিল বলে তৎকালীন সময়ে নজরুল উল্লেখ করেন। নিখিল ভারতের (প্রাদেশিকভাবে ধুমকেতু এর সম্পাদনা করবার কথাগুলি তিনি। চিন্তা করেছিলেন।

ধুমকেতুতে সান্ধ প্রদীপ বিভাগ :

নজরুল “ধুমকেতু” পত্রিকায় একটি বিভাগে মহিলাদের লেখনী প্রকাশ করার অভিমত ব্যক্ত করেন। সেখানে শুধুমাত্র মহিলাদের উদ্দীপনামূলক লেখনী প্রকাশ করা হতো। তাতে দেখা গেল সর্বভারতের নারী সমাজ নজরুলকে সমর্থন জানান। ফলে “ধূমকেতু” এর নিয়মিত বিভাগ “সান্ধ প্রদীপ” মহিলা বিভাগের মূল ক্ষেত্র হিসেবে স্বীকৃতি পায়। যে বিভাগে স্থান পেয়েছিল সর্ব ভারতের নারী আন্দোলনের বিভিন্ন প্রবন্ধ ও গল্প।

 

সাংবাদিক হিসেবে নজরুলের মূল্যায়ন

 

ধুমকেতু পত্রিকায় মহররম ও নজরুল :

১৯২৯ সালের জুলাই/আগস্টে ধুমকেতু পত্রিকায় কাজী নজরুল মহররম সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করেন, সেখানে অসম্প্রদায়িক বাণী এবং ধর্ম নিরপেক্ষতার আনুষ্ঠানিকতা সম্পর্কে প্রাবন্ধিক বর্ণনা ছিল যা মোটামুটিভাবে সর্বজন স্বীকৃত ছিল। ধূমকেতু সম্পাদনার মধ্যে দিয়ে মূলত নজরুলের সাংবাদিকতা পুরোপুরিভাবে প্রমাণ পেয়েছিল।

স্বাধীনতা সংগ্রাম ও ধুমকেতু

নজরুলের “ধুমকেতু” পত্রিকার সব সংখ্যাতেই ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলন তথা নিখিল ভারতের স্বাধীনতা যুদ্ধও প্রেক্ষাপট সম্পর্কে কিছুটা হলেও লেখা বিন্যাসিত ছিল। সে কারণে ব্রিটিশ সরকার নজরুলের বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন লেখার প্রতিবাদ জানিয়েছিল। স্বাধীনতা যুদ্ধ এবং স্বাধীনতা আন্দোলনের প্রেক্ষপট “ধুমকেতু” পত্রিকার মাধ্যমেই রচিত হয়েছিল। ধূমকেতু সম্পাদনার প্রথম থেকেই কাব্য, গল্প ও প্রবন্ধের মাধ্যমে বৈপ্লবিক মানুষীকতা ও সাম্প্রাদিয়কতা বিরোধী আন্দালনের সূত্র তুলে ধরা হয়। নজরুল অসুন্দরকে পরিহার করে সুন্দর ও সত্যকে প্রতিষ্ঠার জন্য দেশবাসীর হিতার্থে নিজেকে উৎসর্গ করেছিলেন যার অর্জন ১৯৪৭ সালের ভারতীয় উপমহাদেশের স্বাধীনতা।

আমি সৈনিক নজরুল

১৯২৯ সালের ১৪ কার্তিক “ধুমকেতু” এর ১৮নং সংখ্যার শিরোনাম ছিল “আমি সৈনিক নজরুল” যে সংখ্যায় নজরুল নিজে সৈনিক এবং সমগ্র দেশবাসীকে সৈনিক হিসাবে অবস্থান করবার জন্য আহ্বান জানিয়েছিল। পরবর্তীতে দেখা যায় “ধুমকেতুর” ১৮ সংখ্যার প্রভাবে নজরুলের আবেদনে অনেকে সাড়া দিয়েছিল, যা প্রতিফলিত হয়েছিল ১৯৪৭ সালের নিখিল ভারতের স্বাধীনতা যুদ্ধে।

আনন্দময়ীর আগমন এবং নজরুল ১৯২৯ সালের ধুমকেতুর পূজা সংখ্যায় নজরুলের “আনন্দময়ীর আগমন” প্রকাশ পায়। বিদ্রোহী ভাবাবেগকে প্রাধান্য দিযে যে কটি কবিতা নিখিল ভারতে সাড়া জাগিয়েছিল ছিল তার মধ্যে একটি “আন্দময়ীর আগমন”। এই কবিতার দর্শন তত্ত্বে মূলত ভারতের স্বাধীনতা যুদ্ধের আগমনকে বুঝানো হয়েছে। যদিও নজরুলের এই কাব্যের দার্শনিক আলোচনায় কাব্য ও বিদ্রোহের ভাব প্রতিফলিত হয়েছে।

নজরুল সম্পাদিত বিভিন্ন বিভাগ সম্পর্কে আলোচনা নজরুল তার সম্পাদিত পত্রিকার নান্দনিক দিক চিন্তা করে বিভিন্ন বিভাগ সংযোজন করেছিলেন যাতে করে সব পর্যায়ের পাঠকের কাছে পত্রিকার গ্রহণযোগ্যতা প্রকাশ পায়। দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন দাস এবং মোজাফফ্ফার আহমেদ এক্ষেত্রে নজরুলকে ব্যাপক সাহায্য করেছিলেন।

“ধুমকেতুতে” রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সম্পর্কে নজরুলের অভিমত ১৩২৯ সালের ১৯ ভাদ্র কাজী নজরুল, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর সম্পর্কে “বাউল কবির টহল” নামক একটি প্রবন্ধ প্রকাশ করেছিলেন সেখানে রবীঠাকুরের বিভিন্ন ধরনের কাব্য, প্রবন্ধ গল্প ও সঙ্গীতের নান্দনিক দিক সম্পর্কে পর্যালোচনা করা হয়েছিল। এ পত্রিকাটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর-এর নিকট পৌঁছানোর পর তিনি নজরুলকে সাংবাদিকতার ক্ষেত্রে কিছুটা হলেও নিজেকে তুলে ধরার অভিপ্রায় ব্যক্ত করেন, যা তিনি কাজী নজরুলকে চিঠির মাধমে জানিয়েছিলেন।

 

সাংবাদিক হিসেবে নজরুলের মূল্যায়ন

 

সাপ্তাহিক লাঙল ও নজরুল

১৯২৫ সালের ২৫ ডিসেম্বর নজরুল সাপ্তাহিক লাঙ্গল পত্রিকা সম্পাদন করেন যেখানে ধুমকেতু এর সার্থকতা, ভারতের স্বাধীনতা অর্জন, ১৯২৫ সালের ভারতের বর্তমান অবস্থান সম্পর্কে আলোচনায় স্থান পায়।

প্রবন্ধ ভিক্ষা দাও এবং নজরুলঃ

একজন সাংবাদিকের যে সকল গুন, বৈশিষ্ট্য থাকা প্রয়োজন তা সবগুলোই নজরুলের মধ্যে ছিল। হোক সম্পাদনা সংবাদ সংগ্রহের দক্ষতা, প্রচার প্রসারের অবস্থান সব কিছু মিলিয়ে সাংবাদিক নজরুল একটি প্রমাণিক থাকা।

সওগাত

১৩২৫ সালের অগ্রাহায়ণ মাসে নজরুলের “সওগাত” পত্রিকা প্রথম আত্মপ্রকাশ করে। সম্পাদনার ক্ষেত্রে নজরুলের পরিপূর্ণ সাংবাদিকতার প্রকাশ ঘটে। “সওগাত” পত্রিকার মূল বিষয়বস্তু সঠিক রাখতে তিনি তৎকালীণ সময়ের অন্যান্য পত্রিকার সম্পাদকদের সাথে বিভিন্ন সময়ে নিজস্ব মতামত বিনিময় করেন। নজরুল তখনকার বিভিন্ন ধারার লেখকদের লেখনি “সওগাত” পত্রিকায় প্রকাশের ব্যবস্থা করেন। নীতিগত দিক দিয়ে কবি বা সাহিত্যিকদের কাছাকাছি যাবার প্রাসঙ্গিক নিক চিন্তা করে “সওগাত” পত্রিকার সম্পাদনার কাজে তিনি নিজেকে নিয়োজিত রাখেন।

নজরুলের সাংবাদিক প্রতিভা ও রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

নজরুলের পত্রিকা সম্পাদনার ক্ষেত্রে বিভিন্ন মতবাদ প্রচলিত ধারার বিভিন্ন ক্ষেত্রে বর্ণিত হলেও রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর যা বলেছিলেন তা বারণ করবার ক্ষমতা হয়তো অনেক সমালোচক, অনেক কবি সাহিত্যিক-এর নেই। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর মূলত নজরুল এর প্রতিভার যে কোথাও কোনো কমতি ছিল না, সেটাই বলেছিলেন। তিনি নজরুলকে চিঠি লিখে জানিয়েছিলেন অভিনন্দনপত্র। সেখানে লেখা ছিল। “প্রতিভার উচ্ছ্বল প্রমাণ রাখতে গিয়ে তুমি অনেক বাধারই সম্মুখীন হবে, কিন্তু তোমাকে সব ছাড়াইয়া যাইতে হইবে। ভেবনা আমি তোমার পাশেই থাকব। আমার বিভিন্ন কারণে সময় না থাকায় তুমি যে কাজটি করিতেছ, তাহা আমি করিতে পারিলাম না”।

google news logo

 

১৯২০ সালের মুসলিম ভাবধারা ও কাজী নজরুল

১৯২০ সালের মুসলিম ভাবধারা, বিশ্বের মুসলিম সমাজ তাদের নিজস্ব চেতনার উন্মেষ ঘটানোর ক্ষেত্রে বিভিন্ন দিক তুলে ধরবার চেষ্টা করেন। সেটার মূল সারমর্ম কাজী নজরুল ইসলাম পত্রিকার মাধ্যমে নিখিল ভারত তথা বিশ্বের কাছে পৌঁছানোর জন্য পত্রিকা সম্পাদনার কাজ করেন।

উপসংহার :

উপরোক্ত আলোচনার ভিত্তিতে আমরা এ সিদ্ধান্তে উপনীত হতে পারি যে, নজরুল তার সাংবাদিকতা, পত্রিকা সম্পাদনার ক্ষেত্রে নিজেকে প্রতিভাবান হিসেবে প্রমাণ করে গেছেন, যদিও অনেক সৃষ্টিই তাঁর রয়েছে। সুতরাং নজরুল একজন স্বার্থক সাংবাদিক ও সম্পাদক ।

Leave a Comment