হিন্দুস্থানী ও কর্ণাটকী সঙ্গীতের মধ্যে তুলনামূলক আলোচনা

হিন্দুস্থানী ও কর্ণাটকী সঙ্গীতের মধ্যে তুলনামূলক একটি আলোচনা করবো আজ। নজরুলের গানের সংখ্যা চার হাজারের অধিক। নজরুলের গান নজরুল সঙ্গীত নামে পরিচিত।১৯৩৮ সালে কাজী নজরুল ইসলাম কলকাতা বেতার কেন্দ্রের সঙ্গে আনুষ্ঠানিকভাবে যুক্ত হন। সেখানে তিনটি অনুষ্ঠান যথাক্রমে ‘হারামণি’, ‘নবরাগমালিকা’ ও ‘গীতিবিচিত্রা’র জন্য তাকে প্রচুর গান লিখতে হতো।

হিন্দুস্থানী ও কর্ণাটকী সঙ্গীতের মধ্যে তুলনামূলক আলোচনা

হিন্দুস্থানী ও কর্ণাটকী সঙ্গীতের মধ্যে তুলনামূলক আলোচনা

নিম্নে কর্ণাটকী ও হিন্দুস্থানী সঙ্গীত পদ্ধতির তুলনামূলক পার্থক্য লিপিবদ্ধ করা হলো :

১. হিন্দুস্থানী ও কর্ণাটকী—উভয় পদ্ধতিতেই ১২টি স্বর স্বীকৃত কিন্তু শুন্ধ ও কোমল স্বরূপের মধ্যে পরস্পর বৈপরীত্য বিদ্যমান। যেমন- কর্ণাটকী শুদ্ধস্বর হিন্দুস্থানী পদ্ধতিতে কোমল স্বর হিসাবে গণ্য হয়ে থাকে।

২. উভয় পদ্ধতিতেই ঠাট ও ঠাট রাগ স্বীকৃত। যেমন-হিন্দুস্থানী পদ্ধতিতে ১০টি ঠাট ও ১০টি ঠাট-রাগ এবং কর্ণাটকী পদ্ধতিতে ৭২টি থাট ও ৭২টি থাট-রাগ বা মেল-রাগ প্রচলিত।

৩. শ্রুতি এবং শ্রুতির বিভাগ উভয় পদ্ধতিতে অভিন্নহলেও প্রয়োগ-কৌশলে পার্থক্য থাকার জন্য কর্ণাটকী স্বর-সঙ্গীতগুলি ভিন্ন ও স্বতন্ত্র।

৪. তান, আলাপ, গমক, প্রভৃতি অলঙ্কারিক ক্রিয়াদির মধ্যে ঐক্য থাকলেও উভয় পদ্ধতিতে প্রয়োগ-কৌশল ভিন্ন ও স্বতন্ত্র।

৫ উভয় পদ্ধতির গানে তুক-বিভাজন স্বীকৃত কিন্তু নামকরণে ভিন্ন। যেমন-হিন্দুস্থানী স্থায়ী, অন্তরা, সঞ্চারী ও আভোগ। কর্ণাটকীতে পল্লবি, অনুপল্লবি, চরণম, মুক্তায়ি ও চিত্তেশ্বরম নামে প্রচলিত।

৬. কর্ণাটকী সঙ্গীতে ধ্রুপদকে কীর্তনম্, খোয়ালকে কৃতি, তারানাকে তিল্লানা, রাগমালাকে রাগমালিকা, আলাপকে আলাপম, স্তোত্রগানকে বিরুত্তম বা শ্লোকম্ বলা

৭. হিন্দুস্থানীর মতো কর্ণাটকী সকল গানের ধাতুর সংখ্যা সমান নয়। কর্ণাটকী কৃতি, পদ্ম, জাবালি, বর্ণ, রাগমালিকা, জাতিস্বর প্রভৃতি গীতধারায় কেবল পল্লবি, অনুপল্লবি ও চরণম্-এই তিনটি ধাতু তুক থাকে। কোন কোন গীতধারায় আবার অনুপল্লবি থাকে না। বাকী অন্যান্য গানে অপরাপর ধাতু বা তুকগুলি ব্যবহৃত হয়।

৮” উভয় পদ্ধতির রাগ-নাম, তালপদ্ধতি ও গায়কীশৈলীর মধ্যে যথেষ্ট পার্থক্য আছে। হিন্দুস্থানী সঙ্গীতে তাল থেকে গান অর্থাৎ রাগের রূপায়ণকে প্রাধান্য দেওয়া হয় কিন্তু কর্ণাটকী সঙ্গীতে গান থেকে তালকে বেশী প্রাধান্য দেওয়া হয়।

৯. কর্ণাটকী তালপদ্ধতি অত্যন্ত বিজ্ঞানসম্মত ও শৃঙ্খলাবদ্ধ কিন্তু হিন্দুস্থানী তালপদ্ধতিতে তেমন কান বন্ধন নেই তবে বৈচিত্র্যতাপূর্ণ ছন্দের সমাহার লক্ষ্যণীয়। হিন্দুস্থানী সঙ্গীতে তালের বিলম্বিত, মধ্য ও দ্রুত লয়কে কণাটকীতে যথাক্রমে চৌকাকলা, মধ্য ও মধ্যমাকলা অথবা লঘু, দ্রুতম ও অনুদ্রতম বলে ।

১০. কর্ণাটকী সঙ্গীতে মুখ্য তাল ৭টি। যথা-ধ্রুম্ বা ধ্রুবতাল, মতম বা মঠতাল, রূপকম বা রূপকতাল, ঝম্পম বা ঝাম্পতাল, ত্রিপুটম্ বা ত্রিপুটতাল, অস্ত্রম বা অঠতাল এবং একম বা একতাল। এই ৭টি তালের প্রত্যেকটির আবার পাঁচপ্রকার জাতিভেদ আচে এবং পঞ্চগীত ভেদানুসারে পাঁচ প্রকার জাতিভেদে বিস্তৃত মোট তাল সংখ্যা দাঁদায় ৭ ০ ৫ ০ ৫ = ১৭৫টি। উভয় পদ্ধতিতে তাল বর্গীয়করণে ভিন্নতা আছে।

হিন্দুস্থানী ও কর্ণাটকী সঙ্গীতের মধ্যে তুলনামূলক আলোচনা

 

১১. কর্ণাটকী তালপদ্ধতিতে প্রত্যেক ছন্দবিভাগে তালাঘাত হয়, কোন ফাঁক নেই। তবে তালাঘাতগুলির প্রকারভেদ আছে।

১২. হিন্দুস্থানী সঙ্গীত হিন্দি, ব্রজভাষা, মারাঠী, উর্দু, পাঞ্জাবী ও বাংলা ভাষায় রচিত কিন্তু কর্ণাটকী সঙ্গীত তালিম, তেলেগু, কন্নড় প্রভৃতি ভাষায় রচিত ।

google news logo

Leave a Comment