নজরুল সঙ্গীত ও কমল দাশগুপ্ত । নজরুলের ভাবনা

নজরুল সঙ্গীত ও কমল দাশগুপ্ত : ১৯২২ সালে কমল দাশ কোলকাতার ভবানীপুরে এক সম্ভ্রান্ত সঙ্গীত পরিবারের জন্মগ্রহণ করেন। তিনি বড় ভাই বিমল দাস গুপ্তের কাছে শাস্ত্রীয় সঙ্গীত, দিলীপ কুমার রায়ের কাছে অতুল প্রসাদ, রবীন্দ্র ও ডি এল, রায়ের গান এবং বাবার কাছে প্রভাতী সঙ্গীত শেখেন। ১১/১২ বৎসর বয়সেই কমল দাশ মাস্টার কমল নামে পরিচিত লাভ করেন। নজরুলসঙ্গীতের ক্ষেত্রে কমল দাশের অবদান গুরুত্বপূর্ণ বলে কবি নজরুল তাঁর অভিমত ব্যক্ত করেছেন।

 

নজরুল সঙ্গীত ও কমল দাশগুপ্ত

 

নজরুল সঙ্গীত ও কমল দাশগুপ্ত । নজরুলের ভাবনা

তথ্য প্রমাণে যেটুকু পাওয়া যায় তাতে কমল দাশের সুরকার গানের সংখ্যা তিনশতাধিকের উপরে। তাইতো কাজী নজরুল বলেছেন, সুপাত্রে কন্যাদান করে যে-সুখ পাওয়া যায় আমার কমলকে সুর করতে দিওে সেই অনুভূতি, সেই প্রশ্নেই কমল দাশ নজরুলসঙ্গীতের সুরের ছোঁয়ায় একজন প্রাণবন্ত ব্যক্তিত্ব। প্রতিভার সম্মান দেখাতে মাত্র ১৯ বৎসর বয়সে কমল দাশকে H MV মিউজিক ডিরেকটর হিসাবে নিযুক্ত করেন। কমল দাশের সুরারোপীত নজরুলের গান বাণী ও সুরের অপূর্ব সম্মীলনে মনের ভাবকে উজ্জীবীত করে তোলে। যেমন-আরো কত দিন বাকি কাব্যগীতি এবং এখনো ওঠেনি চাদ-আধুনিক।

 

নজরুল সঙ্গীত ও কমল দাশগুপ্ত

 

তিনি ছিলেন প্রথম বাঙালি যিনি উর্দু ভাষায় কাওয়ালি গান পরিবেশন করেন। এইচএমভিতে এক মাসে তিপ্পান্নটি গান রেকর্ড করে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেন। হায়দ্রাবাদের নিজামের গোল্ডেন জুবিলির বিশেষ গান রেকর্ড করেন। ইন্ডিয়ান ন্যাশনাল আর্মি’র মার্চিং সং তার সুরে রেকর্ড করা হয়। রেকর্ডসংখ্যক গানে সুর করার জন্য ১৯৫৮ সালে এইচএমভিতে তার সিলভার জুবিলি অনুষ্ঠিত হয়। তার সুরারোপিত গানের ডিস্কের সংখ্যা প্রায় আট হাজার।

রেডিও অডিশন বোর্ডের প্রধান ছিলেন তিনি। স্বরলিপির শর্টহ্যান্ড পদ্ধতির উদ্ভাবক হিসেবেও পরিচিতি পেয়েছেন। আ-কার মাত্রিক পদ্ধতি ও স্টাফ নোটেশন পদ্ধতি স্বরলিপি স্থাপনে সিদ্ধহস্তের অধিকারী ছিলেন কমল দাশগুপ্ত।

 

google news logo

 

প্রায় ১০ বছর তিনি তৎকালীন পূর্ব-পাকিস্তানে (বর্তমান বাংলাদেশ) অবস্থান করেন। ১৯৭২ সালে কলকাতায় বঙ্গ-সংস্কৃতি-সম্মেলন-মঞ্চে কমল দাশগুপ্তের ছাত্রী ও সহধর্মিণী হিসেবে ফিরোজা বেগম ছিলেন মুখ্যশিল্পী। তাদের উভয়ের দ্বৈতসঙ্গীত সকল শ্রোতা-দর্শককে ব্যাপকভাবে বিমোহিত করেছিল।

Leave a Comment