কাজী নজরুল ইসলামকে রেনেসাঁসের কবি বলা হয় । নজরুলের ভাবনা

কাজী নজরুল ইসলামকে রেনেসাঁসের কবি বলা হয়: দেশজুড়ে অসহযোগ আন্দোলন বিপুল উদ্দীপনার সৃষ্টি করে। নজরুল কুমিল্লা থেকে কিছুদিনের জন্য দৌলতপুরে আলী আকবর খানের বাড়িতে থেকে আবার কুমিল্লা ফিরে যান ১৯ জুনে- এখানে যতদিন ছিলেন ততদিনে তিনি পরিণত হন একজন সক্রিয় রাজনৈতিক কর্মীতে। তার মূল কাজ ছিল শোভাযাত্রা ও সভায় যোগ দিয়ে গান গাওয়া।

তখনকার সময়ে তার রচিত ও সুরারোপিত গানগুলির মধ্যে রয়েছে “এ কোন পাগল পথিক ছুটে এলো বন্দিনী মার আঙ্গিনায়, আজি রক্ত-নিশি ভোরে/ একি এ শুনি ওরে/ মুক্তি-কোলাহল বন্দী-শৃঙ্খলে” প্রভৃতি। এখানে ১৭ দিন থেকে তিনি স্থান পরিবর্তন করেছিলেন। ১৯২১ খ্রিষ্টাব্দের নভেম্বর মাসে আবার কুমিল্লায় ফিরে যান।

২১ নভেম্বর ছিল সমগ্র ভারতব্যাপী হরতাল- এ উপলক্ষে নজরুল আবার পথে নেমে আসেন; অসহযোগ মিছিলের সাথে শহর প্রদক্ষিণ করেন আর গান করেন, “ভিক্ষা দাও! ভিক্ষা দাও! ফিরে চাও ওগো পুরবাসী”- নজরুলের এ সময়কার কবিতা, গান ও প্রবন্ধের মধ্যে বিদ্রোহের ভাব প্রকাশিত হয়েছে। এর সর্বোৎকৃষ্ট উদাহরণ হচ্ছে বিদ্রোহী নামক কবিতাটি। বিদ্রোহী কবিতাটি ১৯২২ খ্রিষ্টাব্দে প্রকাশিত হয় এবং সারা ভারতের সাহিত্য সমাজে খ্যাতিলাভ করে।

 

কাজী নজরুল ইসলামকে রেনেসাঁসের কবি বলা হয়

 

কাজী নজরুল ইসলামকে রেনেসাঁসের কবি বলা হয় । নজরুলের ভাবনা

কাজী নজরুল ইসলামকে রেনেসাঁসের কবি বলা হয়। ইতিহাস সাক্ষী, বাঙালি মুসলমানের পরবর্তী ইতিহাস এই দুই ধারার টানাপোড়েনেরই ইতিহাস। মুসলিম সমাজের অন্তর্কক্ষে রিভাইভ্যালিজমের যে ধারা ক্রিয়াশীল ছিল তা তাদের এক সময় পৌঁছে দেয় কৃত্রিম আরবে পূর্ব পাকিস্তানে (১৯৪৭)। কিন্তু রেনেসাঁসের আত্মা মরেনি। সেই রেনেসাঁসের ধারাই ভাষা আন্দোলনের পথ দিয়ে বাঙালি মুসলমানকে পৌঁছে দিয়েছে স্বাধীন বাংলাদেশে (১৯৭১)। বঙ্গভঙ্গে জয় হয়েছিল তার পুনর্জাগরণবাদী ধারার, আর স্বাধীন বাংলাদেশের জন্মে জয়ী হয়েছে নবজাগরণের ধারা। নজরুল ছিলেন রেনেসাঁসের কবি।

 

কাজী নজরুল ইসলামকে রেনেসাঁসের কবি বলা হয়

 

বাঙালি মুসলমানের জাতীয় জীবনে নজরুল যেন ‘নির্ঝরের স্বপ্ন ভঙ্গ। রবীন্দ্রনাথ নজরুলের এই তুমুল আবির্ভাবকে স্বাগত জানিয়েছিলেন ইতিহাস নির্ধারিত দায়িত্বের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে,

 

google news logo

 

দুর্দিনের এই দুর্গ শিরে
উড়িয়ে দে তোর বিজয় কেতন
জাগিয়ে দেরে চমক মেরে আছে যারা অর্ধচেতন।
[ধূমকেতু পত্রিকার আর্শীবাণী, ১৯২২, ১২ আস্ট)
পোহায়নি রাত আজান তখনো দেয়নি মুয়াজ্জিম
মুসলমানের রাত্রি তখন আর সকলের দিন
অঘোর ঘুমে ঘুমায় যখন বঙ্গ মুসলাম
(‘বাংলার মাজিক’, ১৩৩৫, “সন্ধ্যা”)
তখন নজরুল এসেছিলেন জাগরণের গান গাইতে।

Leave a Comment