ময়মনসিংহ বীথিকা ও কাজী নজরুল : ময়মনসিংহ বীথিকা শব্দটি নজরুলের জীবনের সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে আছে। বাল্য-কৈশোরের সাহিত্য সাধনার একটি অংশ হিসাবে মংয়মসিংহ শব্দটি নজরুলের কৈশোরের স্মৃতি বিজড়িত স্থান।

ময়মনসিংহ বীথিকা ও কাজী নজরুল
মাথরুন স্কুলে ভর্তি হওয়ার কাছাকাছি সময়ে নজরুলকে এক রেলওয়ে গার্ডের পাল্লায় পড়ে খানসামানগিরি করতে দেখা গেছে। সময়টা যদি ১৯১২-১৯১৩ সাল হয় তখনতো তাঁর মাথরুন স্কুলে নিয়মিত ক্লাশ করার কথা। সেই স্কুলে নজরুল ভর্তি হয়েছিল ৬ষ্ঠ শ্রেণীতে।
স্কুলের প্রধান শিক্ষক ছিলেন কবি কুমুদরঞ্জন মল্লিক। নজরুলের সুকান্ত-আকৃতি ও প্রকৃতির সঙ্গে তাঁর গীতিদক্ষতা সহজেই অপরের স্নেহ প্রবলভাবে আকর্ষণ করত। ময়মনসিংহে নজরুলের জীবনের ইতিও অনেকটা প্রসারলাভ করে। ময়সনসিংহ প্রসঙ্গটি নজরুলের জীবনের প্রথম পর্বের একটি নতুন উপ-অধ্যায়।

১৯১৪ সালে কাজী রফিজউল্লাহ নজরুল ত্রিশাল থানার অন্তর্গত দরিরামপুর হাইস্কুলে ভর্তি করে দেন। রফিজউল্লার কনিষ্ঠ ভ্রাতা কাজী আলী হোসেন একই বিদ্যালয়ের নজরুলের সহপাঠী ছিলেন। কিশোর বয়সে দরিরামপুরে বছর খানেকের জন্য স্কুলে পড়ার এই অভিজ্ঞতা নিয়ে নজরুল গবেষকরা কেউ কেউ কিছু অতিশয়োক্তি করেছেন।
নজরুলের জীবন গঠনে, রচনা রীতির স্বভাব নিরূপনে এই অঞ্চলের সংস্কৃতি বিকাশে কিছু উচ্ছ্বাসিত রচনাও প্রকাশিত হয়েছে। দরিরামপুর হাইস্কুলের ৭ম শ্রেণীতে সম্ভবত নজরুল বিনা বেতনেই পড়াশুনা করতেন। এই বিদ্যালয়ে নজরুলের কয়েকজন সহপাঠীর নাম হলো কাজী সফিউদ্দিন, কাজী জাবেদ আলী, কাজী হরমুজউল্লাহ। কাজীর সিমলা ও দরিরামপুরের ভৌগোলিক দূরত্ব কম ছিল না।

অবশেষে কোনোভাবে নজরুল জায়গির হিসাবের ঠাঁই পান ইসলাম বিচুরিয়া নামক জৈনিক ব্যাপারীর বাড়ি। অবশ্য তার আগে নজরুল ত্রিশাল নামক গ্রামের কাজী হামিজউল্লাহ সাহেবের বাসাতেও জায়গির ছিলেন। শোনা যায়, সে বাড়িতে তেমন কোনো স্বাধীনতা না থাকায় নজরুল হাঁপিয়ে উঠেছিলেন।
মধ্যবিত্ত চাষী বিচুরীয়া ব্যাপারী গৃহপরিবেশ স্বাধীনচেতা ও গান-বাজনা প্রিয় নজরুলের স্বভাবের পক্ষে অনুকূল ছিল। স্কুলে নজরুল ছিলেন খুব শান্তশিষ্ট। বিতর্ক, আবৃত্তি, নাট্যাভিনয়ে তাঁর আগ্রহ শিক্ষকমহলে নজরুলকে প্রিয় করেছিল। বহু বৎসরের ছিন্নপাঠ সুতোয় শক্ত গিঠ পড়েছিল।

ডিসেম্বরের পরীক্ষায় নজরুলছিলেন। প্রথম স্থান অধিকারী। ফার্সীতে নজরুলের নম্বর ছিল ছিল ৯৮%। ১ বৎসর দরিরামপুর থাকার পর ১৯১৫ সালের ফেব্রুয়ারি নাগাদ নজরুল শিয়ারশোলের রাজস্কুলে ভর্তি হন এবং ঠাঁই হলো মহামেডান বোডিংয়ে। ময়মনসিংহের স্নিগ্ধ হাওয়া পারিপার্শ্বিক অবস্থা শৈশবে নজরুলকে মায়ামুগ্ধতায় জড়িয়ে রেখেছিলেন।
যার জন্য নয়মনসিংহ বীথিকার সাথে কাজী নজরুলের একটা বিস্তীর্ণ সম্পর্ক রাখছে। শিয়ারশোলের রাজ হাইস্কুলে নজরুল ৮ম শ্রেণী হতে ১০ শ্রেণী পর্যন্ত পড়াশোনা করেন। ১৯৭১ সালের প্রবেশিকা পরীক্ষা না দিয়েই নজরুল ৪৯ বাঙালি পল্টনে যোগ দিয়ে করাটা চলে যান।
যদিও পরবর্তীতে ময়মনসিংহে নারুল কোনোদিন এভাবে অবস্থান করেননি। তবুও যতদিন নজরুল জীবিত ছিলেন রানীগঞ্জের শ্যামল পল্লীশ্রী তার দুচোখে ছায়া ফেলেছে বরাবর। অনেক নারুল গবেষক এক মত পোষণ করেন। যে রবীঠাকুরের শিলাইদহ এবং কাজী নজরুলের ময়মনসিংহ।

