কাজী নজরুলের একটি বসন্ত ঋতুর গানের বাণী : নজরুলের আবির্ভাব ও কর্মকাল রবীন্দ্রযুগের অন্তর্ভূত। তবু নজরুল রবীন্দ্রনাথের প্রভাব বলয়ের সম্পূর্ণ বাইরে থেকে গীত রচনা করেছেন ও সুরারোপ করেছেন। তিনি বাংলা গানে বিচিত্র সুরের উৎস। রবীন্দ্রনাথের মতো তিনিও একই সঙ্গে গীতিকার, সুরকার ও সুগায়ক।

কাজী নজরুলের একটি বসন্ত ঋতুর গানের বাণী
(১) বসন্ত ঋতুর গান
‘ওগো চৈতী রাতের চাঁদ যেয়ো না।”
পর্যায: ঋতুভিত্তিক কাব্যগীতি, (বসন্ত)
রেকর্ড নাম্বার- এফ টি :- ১২০৯৩
তাল: দ্রুত দাদরা
প্রকাশকাল: সেপ্টেম্বর, ১৯৩৭ গ্রন্থ সন্ধ্যা মালতী
স্বরলিপি :নজরুল ইনস্টিটিউট, ৮ম খণ্ড
পত্রিকা: “কাফেলা” প্রথম বর্ষ, পঞ্চম সংখ্যা ভাদ্র, ১৩৮৮
নাটক : সর্বহারা
সুরকার: সুবল দাশ গুপ্ত
স্থায়ী
ওগো চৈতী রাতের চাঁদ, যেয়ো না
সাধ না মিটিতে যেতে চেয়ো না (1)
চৈতী রাতের অপূর্ব সুন্দর চাঁদকে কবি ডুবে যেতে নিষেধ করেছেন, যতক্ষণ পর্যন্ত তাঁর কাল্পনিক প্রিয়াকে দেখার সাধ না মিটে।

১ম অন্তরা
হেরো তরুলতায় কত আশার মুকুল
ওগো মাধবী চাদ আজও ফোটেনি ফুল,
তুমি যেয়ো না, প্রিয়ো যেয়ো না,
ঝরা মুকুলে বন বিথি ছেয়ো না
তুমি যেয়ো না, প্রিয় যেয়ো না ওগো যেয়ো না (1)
গাছের শাখায় যেমন মুকুল ধরে তেমনি হৃদয় মাঝে যে আশার মুকুল রয়েছে তা আজো ফুল হয়ে ফোটেনি। তাই তো মাধবী চাঁদকে কবি প্রিয়ার সাথে তুলনা করে চলে যেতে নিষেধ করেছেন। ঝরা মুকুল বনের বৃক্ষতলা ছেয়ে গেলে যেমন বেদনা বিরহের রূপ সৃষ্টি হয় কবির প্রিয়া চলে গিয়ে তেমনি অনুভূতির সৃষ্টি না করার জন্য কবি বারবার না চলে যাবার মিনতি করেছেন।
২য় অন্তরা
আজও ফুলের নেশায় পাগল দক্ষিণ হাওয়া
আজও ভোলেনি পাপিয়া পিয়া পিয়া গাওয়া
তুমি এখনি বিদায় গীতি গেয়ো না
তুমি যেয়ো না, প্রিয়ো যেয়ো না (1)
দক্ষিণ হাওয়া যেমন ফুলের নেশায় পাগল হয়ে থাকে, পাখি যেমন পিয়া পিয়া গান গাওয়া ভোলে নি ঠিক তেমনি করেই বিদায় গীতি গেয়ে প্রিয়া যেন না চলে যায় সে জন্য কবি বিশেষভাবে অনুরোধ করেছেন।


