নিয়ে কাদা মাটির তাল | Niye kada matir taal | গীতি শতদল গ্রন্থটির প্রকাশক ছিলেন ডি এম লাইব্রেরি। ৮+১০৪ পৃষ্ঠার বইটির মূল্য ছিল দেড় টাকা। প্রথম সংস্করণ প্রকাশিত হয় ১৯৩৪ সালের এপ্রিলে (১৩৪১ বঙ্গাব্দের বৈশাখ)।
ভোজপুরি — হোরি খচমচি

নিয়ে কাদা মাটির তাল গানের কথাঃ
নিয়ে কাদা মাটির তাল
খেলে হোরি ভূতের পাল।
নর্দমা হতে ছিটায় কর্দম হরদম কাহার চাঁড়াল॥
দুই পাশের পথিকের গায়
কাদা ছিটিয়ে মোটর যায়,
নল দিয়ে ওই জল ছিটায়
ফুটপাথে উড়িয়া-দুলাল॥
খচমচ খচমচ বাজায় তাল
ভোজপুরি মাড়োয়ারি ভাই,
ঝি ফেলে দেয় ছাদ থেকে
গোবর-গোলা, আখার ছাই,
দেয় ঢেলে পিচদানির পিচ
কাপড়-চোপড় লালে লাল॥
ভুঁড়িতে ফুঁড়িছে ডাক্তার পিচকারি ওই
হোলি হ্যায়!
টক্কর খেয়ে উলটে পড়ে ময়লা গাড়ি –
হোলি হ্যায়!
ষাঁড়ের গুঁতোয় খানায় পড়ে
খেলে হোরি পাঁড় মাতাল॥

কাজী নজরুল ইসলাম (২৪ মে ১৮৯৯ – ২৯ আগস্ট ১৯৭৬; ১১ জ্যৈষ্ঠ ১৩০৬ – ১২ ভাদ্র ১৩৮৩ বঙ্গাব্দ) বিংশ শতাব্দীর প্রধান বাঙালি কবি ও সঙ্গীতকার। তার মাত্র ২৩ বৎসরের সাহিত্যিক জীবনে সৃষ্টির যে প্রাচুর্য তা তুলনারহিত। সাহিত্যের নানা শাখায় বিচরণ করলেও তার প্রধান পরিচয় তিনি কবি।তার জীবন শুরু হয়েছিল অকিঞ্চিতকর পরিবেশে। স্কুলের গণ্ডি পার হওয়ার আগেই ১৯১৭ খ্রিষ্টাব্দে তিনি ব্রিটিশ ভারতীয় সেনাবাহিনীতে যোগ দিয়েছিলেন।
মুসলিম পরিবারের সন্তান এবং শৈশবে ইসলামী শিক্ষায় দীক্ষিত হয়েও তিনি বড় হয়েছিলেন একটি ধর্মনিরপেক্ষ সত্তা নিয়ে। একই সঙ্গে তার মধ্যে বিকশিত হয়েছিল একটি বিদ্রোহী সত্তা। ১৯২২ খ্রিষ্টাব্দে ব্রিটিশ সরকার তাকে রাজন্যদ্রোহিতার অপরাধে কারাবন্দী করেছিল।

নজরুলগীতি বা নজরুল ‘সঙ্গীত বাংলাভাষার অন্যতম প্রধান কবি ও সংগীতজ্ঞ কাজী নজরুল ‘ইসলাম লিখিত গান। তার সীমিত কর্মজীবনে তিনি ৩০০০-এরও বেশি গান রচনা করেছেন। এসকল গানের বড় একটি অংশ তারই সুরারোপিত। তার রচিত চল্ চল্ চল্, ঊর্ধ্বগগণে বাজে মাদল বাংলাদেশের রণসংগীত।তার কিছু গান জীবদ্দশায় গ্রন্থাকারে সংকলিত হয়েছিল যার মধ্যে রয়েছে গানের মালা, গুল বাগিচা, গীতি শতদল, বুলবুল ইত্যাদি। পরবর্তীকালে আরো গান সংগ্রন্থিত হয়েছে।
