একটি নজরুল সঙ্গীতের রাগরূপ বর্ণনা নিয়ে আজকের আলাপ। নজরুলের গানের সংখ্যা চার হাজারের অধিক। নজরুলের গান নজরুল সঙ্গীত নামে পরিচিত। ১৯৩৮ সালে কাজী নজরুল ইসলাম কলকাতা বেতার কেন্দ্রের সঙ্গে আনুষ্ঠানিকভাবে যুক্ত হন। সেখানে তিনটি অনুষ্ঠান যথাক্রমে ‘হারামণি’, ‘নবরাগমালিকা’ ও ‘গীতিবিচিত্রা’র জন্য তাকে প্রচুর গান লিখতে হতো।

দক্ষিণী রাগ প্রভাবিত একটি নজরুল সঙ্গীতের রাগরূপ বর্ণনা
রাগঃ কর্ণাটকী সামন্ত
ঠাপঃ ভৈরবী
দক্ষিণী মেলঃ হনুমৎ-তোড়ী
মেলকর্তার সংখ্যা : ৮
দক্ষিণী রাগ ‘কর্ণাটী-সামন্ত’ সম্পর্কে কোন ব্যাখ্যা বা বর্ণনা কোন গ্রন্থে পাওয়া যায় না। নজরুল নিজেও এই রাগ সম্পর্কে কোন ব্যাখ্যা দেননি। এই রাগের উপর ‘কাবেরী নদীজলে কে গো বালিকা’ গানটি নজরুল রচনা করেন। গানটি রেকর্ডে গীতি হয়েছে ।

রেকর্ড নং-এইচ ৮৭৬;
শিল্পী সুপ্রভা ঘোষ, সুরকার কাজী নজরুল;
রেকর্ড প্রকাশকাল : জানুয়ারী, ১৯৪১;
রাগ কর্ণাটী-সামস্ত
তাল : ত্রিতাল; স্বরলিপি গ্রন্থ।
ই. স্ব- ২. স্বরলিপিকার: সুধীন দাশ।

গানটি বেতারে প্রচারিত ‘কারে তীরে’ গীতি-আলেখ্যর গান। এখানে গীতি-আলেখ্যটির নামকরণের সাথে গানের বাণী সম্পর্ক লক্ষ্য করা যায়। তাছাড়া বাণীর কাব্যাংশে ‘কর্ণাটিকা’ শব্দ দ্বারা আলোচ্য রাগটি যে কর্ণাটকী রাগ-তা চিহ্নিত করে। যা হোক ‘কর্ণাটী-সামন্ত’ রাগ সম্পর্কে আমাদের গবেষণালব্ধ বিস্তারিত শাস্ত্রীয় ব্যাখ্যা নিম্নে সন্নিবেশ করা হলে। এই ব্যাখ্যার সবটুকু যে সঠিক হবে এমন দাবী আমাদের নেই। যেহেতু এই রাগ সম্পর্কে কোন শাস্ত্রীয়-ব্যাখা গ্রন্থোক্ত হয়নি, তাই আমাদের প্রয়াসটুকুই এখানে লিপিবদ্ধ করা হলো।
রাগটির ঠাট প্রথমেই উল্লেখ করা হয়েছে। এই রাগটি দক্ষিণী ‘আসবরী’ রাগের সাথে হুবহু সাদৃশ্য আছে।
স্বর-পরিচয়ঃ রেখাব, গান্ধার, ধৈবতা ও নিখাদ কোমল এবং মধ্যম শুদ্ধ।
বর্জিত স্বরঃ আরোহণে গান্ধার ও নিখাদ বর্জিত স্বর।
জাতিঃ ঔড়ব-সম্পূর্ণ (দক্ষিণী অসাবেরী রাগের জাতিও উড়ব সম্পূর্ণ)।
আরোহন: সা ঝা মা পা দা সা
অবরোহণ : র্সা ণা দা পা মা জ্ঞা ঋা সা
বাদী স্বরঃ রেখাব
সমবাদী স্বরঃ ধৈবত
অঙ্গঃ পূর্বাঙ্গ
গায়নকাল : প্রাত:কাল
বিশেষ বৈশিষ্ট্যঃ রেখাব ও মধ্যম স্বর-সঙ্গতি খুবই মধুর হয়।
চলনঃ ঋমপা, দমপা, মপদসঋসা, ণঋসা, ণদপা, দমা, পদপমা, মজ্ঞঝাসা, ণসা, ঋা।
পক্যড়ঃ ঋমপা মদপমা জ্ঞঋা সঋা।
আলোচ্য গানে কর্ণাটী-সামন্ত রাগের সুর শুদ্ধভাবে প্রয়োগ হয়েছে। তিনটি স্থানে কেবল অর্ধমাত্রা ক’রে আরোহণ গতিত শুদ্ধ নিখাদ ব্যবহৃত হয়েছে। গানটি একটি রাগপ্রধান গান।
আলোচ্য রাগটি কর্ণাটকী পদ্ধতির হলেও এই গানে প্রয়োগ হয়েছে উত্তর-ভারতীয় স্বরের স্বরূপে। আরো দু’টি স্থানে আরোহণ গতিতে প্রয়োগ হতে পারে ভৈরবী রাগের ক্ষেত্রে কিন্তু আলোচ্য গানে লক্ষ্য করা গেছে, যে কর্ণাটী- সামন্ত রাগের চলনে কিছুটা ভৈরবী আভাস স্পষ্ট হয়। এই স্পষ্টতায় আরোহণ গতিতে শুদ্ধ রেখাব ও নিখাদ স্বরের প্রয়োগ হতে পারে। অন্যদিকে গানটি তো বাংলাগান। তাই শুদ্ধ রেখাব ও নিখাদ ব্যবহারের কারণে রাগের বিচ্যুতি ঘটেছে- এরূপ বলার কোন যুক্তি থাকতে পারে না।
আরও দেখুনঃ

