ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনে নজরুল ও তার লেখনীর ভূমিকা । নজরুলের ভাবনা

ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনে নজরুল ও তার লেখনীর ভূমিকা : কাজী নজরুল হলেন বিদ্রোহী কবি। বিদ্রোহী ভাবাবেগকে প্রাধান্য দিয়ে রচিত সঙ্গীত ও কবিতাই তাকে বিদ্রোহী কবি হিসাবে স্বীকৃতি দিয়েছে। পরাধীন ভারতে ১৮৯৯ সালে কবি জন্মগ্রহণ করেন। তখন দেশজুড়ে চলছে ব্রিটিশ বিরোধী প্রচারণা এরই মধ্যে ১৯০৫ সালের বঙ্গভঙ্গ প্রভৃতি ঘটনাবলি নজরুলকে মুক্তিকামী শ্লোগান রচনায় প্রভাবিত করেছিল।

 

ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনে নজরুল ও তার লেখনীর ভূমিকা

 

ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনে নজরুল ও তার লেখনীর ভূমিকা । নজরুলের ভাবনা

১৯১৭ সালে কবি ৪৯ নং বেঙ্গল রেজিমেন্টে যোগদান করে করাচি চলে যান। করাচিতে থাকা অবস্থায় তিনি কাব্য ও সঙ্গীত রচনায় ব্রতী হন। পরাধীনতার শৃঙ্খল হতে জাতিকে মুক্তির জন্য নজরুলের প্রতিবাদ ও তার লেখনী তৎকালীণ ব্রিটিশ প্রশাসনের ভিত নড়িয়ে দিয়েছিলেন। তার রচিত বিদ্রোহী, আনন্দময়ীর আগমন, মুক্তি প্রভৃতি কবিতা জনগনকে ব্রিটিশদের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ ঘোষনার জন্য সহায়ক ভূমিকা পালন করেছিল।

বিদ্রোহী সত্ত্বাকে প্রাধান্য দিয়ে যেসকল গান তিনি রচনা করেছেন তার মধ্যে শিকল পরা ছল, চল, চল, চল প্রভৃতি গান উল্লেখযোগ্য। নজরুলের লেখনীর শ্রোতধারা ব্রিটিশ শাসনের অবকাঠামোকে নরবর করে দিয়েছিলেন। নজরুলের ধুমকেতু পত্রিকার বাণীবদ্ধ বিদ্রোহ সমগ্র ভারতের আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হিসাবে পরিণতি লাভ করে।

 

ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনে নজরুল ও তার লেখনীর ভূমিকা

 

প্রথমদিক হতেই তৎকালীন ভারতীয় কবিরা নজরুলের অগ্নিনিবারন রচনার জন্য নজরুলকে অভিনন্দিত করেছে। নজরুলের সীমাহীন পথচলা সমগ্র দেশবাসীকে অনুপ্রেরণা যুগিয়েছিল যে, “পরাধীন থাকলেও শক্তিধর আন্দোলন তথা জনগনের একমুখী পদচারণার প্রতিবিম্ব প্রতিফলিত হবে অত্যাচারী প্রশাসনের বিরুদ্ধে, ফুটবে স্বাধীনতার হাসি সমগ্র জাতির মুখে রচিত হবে একটি নতুন অধ্যায়।

হে নবীন এক হও একই পতাকা তলে তোমাদের জয়ের নিশান উড়বেই” এ ধরনের উদ্দীপিত বাক্য নজরুলের রচনায় অহরহ স্থান পেয়েছিল। তাইতো নজরুল ব্রিটিশ রাজরোষে পতিত হয়েছিল, কারাবাসও করতে হয়েছিল। ব্রিটিশ শাসনের বিরুদ্ধে আগুনের স্ফুলিঙ্গের মতো কবি প্রতিভা বিচ্ছুরিত হতে থাকে; স্তিমিত হতে থাকে ব্রিটিশের পরিণতির ধাপ।

 

google news logo

 

ক্রমান্বয়ের ভারতীয়রা তাদের স্বাধীনতামুখী আন্দোলন বেগবান করে তোলে। যে সকল রচনার জন্য ১৯৪৭ সালে ভারতবর্ষ স্বাধীনতা লাভ করে এবং ১৯৭১ সালে বাংলাদেশ পায় স্বাধীন সার্বভৌমত্ব। সেসব লেখনীর মধ্যে কবিতা, গান, প্রবন্ধ, পত্রিকা প্রভৃতি স্থান পেয়েছে।

ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনে নজরুল ও তার লেখনীর ভূমিকা

অসহযোগ আর খেলাফতের তাব্রশোত নজরুলকে এসকল রচনায় উৎসাহিত করেছিলেন। নজরুল এক্ষেত্রে নিজের ভূমিকার পাশাপাশি তাঁর রচনায় বিদ্রোহের বহি:প্রকাশকে সার্থক রূপ দিয়েছিলেন। তাইতো জনগণের কবি, সাম্যবাদের কবি, বিদ্রোহী কবি হিসাবে নজরুলের মর্যাদা আজও অক্ষুণ্ণ।

Leave a Comment