নজরুলের লেটোদলে যোগদান : কালের বির্তনে যারা এ পৃথিবীতে আবির্ভূত হয়েছেন মহাপুরুষ হিসাবে তাদের মধ্যে একজন কাজী নজরুল ইসলাম। তাইতো শৈশবেই প্রতিভার রংধনু ছায়া ফেলে। যায় নজরুলের জীবনে। ১৯০৯ সালে নজরুল লেটোদলে যোগদান করেন।

নজরুলের লেটোদলে যোগদান
লেটো গানের সাঙ্গীতিক অবকাঠামো নজরুলকে আবেশে জড়িয়েছেন। লেটো গানের রীতি হচ্ছে একদল গান, অভিনয় ইত্যাদির মাধ্যমে অপর দলকে প্রশ্ন করেন, বিপক্ষ দ তার জবাব দিয়ে আবার পাল্টা প্রশ্ন করে। ১০ বৎসর বয়সে লেটো দলের সঙ্গীত রচনা, সঙ্গীত পরিচালনা, সুর সংযোজন, নাট্যপরিচালনা ইত্যাদি সব দায়িত্ব নজরুলই পালন করতেন।
এজন্য খুব তাড়াতাড়ি নজরুল সুনাম অর্জন করেন এবং জনসাধারণের কাছে “কবি নজরুল” বলে স্বীকৃতি পান এ কৃতিত্বের জন্য নিমশাহ গ্রামের লেটোদলের ওস্তাদের পদটিও তাঁর আয়ত্ব হলো।

মক্তব, মসজিদ ও মাজারের কাজে নজরুল বেশি দিন ছিলেন না। বাল্য বয়সেই লোকশিল্পের প্রতি আকৃষ্ট হয়ে একটি লেটো (বাংলার রাঢ় অঞ্চলের কবিতা, গান ও নৃত্যের মিশ্র আঙ্গিক চর্চার ভ্রাম্যমাণ নাট্যদল) দলে যোগ দেন। তার চাচা কাজী বজলে করিম চুরুলিয়া অঞ্চলের লেটো দলের বিশিষ্ট উস্তাদ ছিলেন এবং আরবি, ফার্সি ও উর্দূ ভাষায় তার দখল ছিল।

এছাড়া বজলে করিম মিশ্র ভাষায় গান রচনা করতেন। ধারণা করা হয়, বজলে করিমের প্রভাবেই নজরুল লেটো দলে যোগ দিয়েছিলেন। এছাড়া ঐ অঞ্চলের জনপ্রিয় লেটো কবি শেখ চকোর (গোদা কবি) এবং কবিয়া বাসুদেবের লেটো ও কবিগানের আসরে নজরুল নিয়মিত অংশ নিতেন। লেটো দলেই সাহিত্য চর্চা শুরু হয়।
এই দলের সাথে তিনি বিভিন্ন স্থানে যেতেন, তাদের সাথে অভিনয় শিখতেন এবং তাদের নাটকের জন্য গান ও কবিতা লিখতেন। নিজ কর্ম এবং অভিজ্ঞতার আলোকে তিনি বাংলা এবং সংস্কৃত সাহিত্য অধ্যয়ন শুরু করেন। একইসাথে হিন্দু ধর্মগ্রন্থ অর্থাৎ পুরাণসমূহ অধ্যয়ন করতে থাকেন। সেই অল্প বয়সেই তার নাট্যদলের জন্য বেশকিছু লোকসঙ্গীত রচনা করেন।

