কবি নজরুলকে দুখু মিয়া বলা হয় কেন : নবারুলের জন্ম ১৮৯৯ সালের ২৪ মে বর্তমান ভারতের পশ্চিম বঙ্গের বর্ধমান জেলার চুরুলিয়া গ্রামে । দরিদ্রপরিবারে জন্মগ্রহণ করলেও নজরুল প্রতিভা আজ সারা বিশ্বের সঙ্গীত ও সাহিত্যে বিরাজমান। চার ভ্রাতার অকাল মৃত্যুর পর কাজী নজরুলের জন্ম হয়। যার জন্য তার নাম হয় দুখু মিয়া । জন্মলগ্নে এ নামটি রাখা হলেও নামটি যেন প্রায় সারা জীবনেই নজরুলের সাথী হয়ে থাকলেন।

কবি নজরুলকে দুখু মিয়া বলা হয় কেন
ছোট একটি ছেলে। গায়ের রং শ্যামলা। ভারি সুন্দর লাবণ্যময় চেহারা। বড় বড় দুটি চোখে বিস্ময়ভরা চাহনি। ভীষণ চঞ্চল। তবে স্বভাবটি মনকাড়া। তাই গ্রামের সকলেই তাকে ভালোবাসে। ছোটবেলা থেকে দুঃখের সঙ্গে যুদ্ধ করে তাকে বাঁচতে হয়েছে। নামও তার দুখু মিয়া।
কিন্তু শত দুঃখ কষ্ট সত্ত্বেও বড় হয়ে তিনি হয়েছেন জনগণের কবি, দেশের সবার প্রিয় মানুষ। তিনি আমাদের জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম।

অভাবের সংসারে নজরুলের জন্ম। এরই মধ্যে গ্রামের মক্তবে নজরুলের পড়াশোনা শুরু হয়। তার ডাক নাম ছিল দুখু মিয়া। মাত্র ৯ বছর বয়সে তার বাবা মারা যান। ফলে পরিবারের দুঃখদুর্দশা আরও বাড়ে। এই সময় মক্তবের শিক্ষা শেষ করেন তিনি।
তারপর দশ বছর বয়সেই তাকে লেখাপড়া ছেড়ে আয়ের পথ খুঁজতে হয়। কারণ সংসার চালাতে হবে। তিনি সেই মক্তবেই ছাত্র পড়ানো শুরু করলেন। সেই সঙ্গে গ্রামে হাজী পালোয়ানের মাজারের খাদেম আর মসজিদের মুয়াজ্জিন হলেন।

দুখু মিয়া তার পুরো শৈশব-কৈশোর দুঃখের সঙ্গে লড়াই করেছেন। তবে হাল ছাড়েননি। আর কবিতা লেখাও কখনও ছাড়েননি। পরবর্তী জীবনেও তাকে অনেক সংগ্রাম করতে হয়েছে। আর্থিক কষ্ট ছিল। ছিল অনেকের তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য।
তবে সেসবে দমে না গিয়ে তিনি সামনে এগিয়ে গেছেন। লিখে গেছেন অবিশ্রান্ত। শিশু কিশোরদের জন্যও অনেক কবিতা লিখেছেন তিনি।
জীবনে অনেক দুঃখ কষ্ট পেলেও তিনি কিন্তু মোটেই গোমড়ামুখো ছিলেন না। বরং ছিলেন দারুণ হাসিখুশি, চঞ্চল, ছটফটে একজন মানুষ। যখন হাহা করে হাসতেন তখন আশপাশের মানুষের মনেও ছড়িয়ে যেত আনন্দের রেশ। মানুষের ভালোবাসাই দুখু মিয়াকে সব দুঃখ কষ্ট জয় করার প্রেরণা দিয়েছিল।

