“নজরুলের ধর্মের চেয়ে মানুষকে বড় করে দেখেছেন সবসময়”: প্রথম জীবনে নজরুল রবীন্দ্র-সঙ্গীতই গাইতেন। “আমি পথভোলা এক পথিক এসেছি” এ গানটি তিনি প্রায়ই গাইতেন। তারপর নজরুল নিজেই গান রচনা করতে আরম্ভ করেন-নিজের দেওয়া সুরে যখন নিজের গানগুলি একটার পর একটা গেয়ে যেতেন তখন সেখানে যে পরিবেশের সৃষ্টি হতো সেকথা মনে হলে এখনো আনন্দ হয় ।

“নজরুলের ধর্মের চেয়ে মানুষকে বড় করে দেখেছেন সবসময়” । নজরুলের ভাবনা
নজরুলের নিজের রচিত প্রথম গান-যা বন্ধুদের প্রথম শুনিয়েছিলেন সেটা বোধহয় “ওরে আমার পলাতকা”- তারপর বাংলাদেশে নজরুল গানের পুষ্পবৃষ্টি করে গেছেন-নিজে একজন বিশিষ্ট সুরাও ছিলেন, তাই তাঁর গানে তিনি এমন পরিপূর্ণ প্রাণ সঞ্চার করতে পেরেছেন। একদিন নজরুলের গানে বাংলাদেশ আচ্ছন্ন হয়ে গিয়েছিল-তাঁর নব নব সুরের মাধুর্যে ও মূর্ছনায়।

শেষের দিকে নজরুল প্রচুর ও এত বিভিন্ন ধরনের গান লিখলেন যে, সাধারণে তাকে গীতিকারের আসনে বসিয়ে অনুষ্ঠিতভাবে শ্রদ্ধা জানাতে লাগল তার বিপ্লবী মনের অগ্নিগর্ভ বাণী অথবা তাঁর কবি-মনের প্রেমকোমল মধুর ঝঙ্কারের কথা ভুলতে বসল। কিন্তু নজরুলকে দেশ ভুলল না, ভুলতে পারে না।
ধর্মে মুসলমান হয়ে তিনি জাতিতে মানুষ, তাই তাঁর পক্ষে শ্যাম ও শ্যামাসঙ্গীত এত সুন্দর ও নিখুঁত করে লেখা। সম্ভব হয়েছে। তাঁর ভূষিত মন ছুটে বেড়িয়েছে সুন্দরের সন্ধানে, অপরূপের দর্শন প্রত্যাশায়-যেখানে তার সামান্য মাত্র চিহ্নও দেখেছেন-সেখানেই তিনি তাকে দু’হাতে তুলে নিয়ে নিজের ভাণ্ডার ভরেছেন।

নজরুল ধর্মের চেয়ে মানুষকে বড় করে দেখেছেন সব সময় তাই ধর্মনির্বিশেষে নজরুলকে ভালোবাসতে কারো বাধেনি। নজরুল আপনাকে সকলের মধ্যে বিলিয়ে দিয়েছিলেন তাঁর প্রাণের প্রাবল্যে, হৃদয়ের মাধুর্যে এই ত মানুষের সবচেয়ে বড় ধর্ম-বড় আদর্শের কথা।
