নজরুল কীভাবে ময়মনসিংহে আসেন এবং কার মাধ্যমে দরিরামপুর হাইস্কুলে ভর্তি হন: মোহাম্মদ এম. এ. বখশের দোকানে সারাদিন ময়দা ফেটা, রুটি বানানো এবং বিক্রির পর অবসর সময় নজরুল কবিতা লিখে, সঙ্গীত রচনা করে সময় কাটাতেন।

নজরুল কীভাবে ময়মনসিংহে আসেন এবং কার মাধ্যমে দরিরামপুর হাইস্কুলে ভর্তি হন
লেটোদলে থাকবার সুবাদে নজরুল কন্ঠসঙ্গীত তথা বিভিন্ন বাদ্যযন্ত্রে বেশ পারদর্শী হয়েছিলেন। যেমন হারমনিয়াম, তবলা, বাঁশি ইত্যাদি। আসানসোলের তৎকালীন সাব ইন্সপেক্টর রফিজউদ্দিন প্রায়ই ঐ দোকানে আসা যাওয়া করতেন। ফলে নজরুলের প্রতিভার বাহ্যিক প্রকাশ রফিউজউদ্দিন সাহেবের দৃষ্টি লাভ করে।
পরবীতে তিনি নজরুলকে তার স্বদেশ ময়মনসিংহে নিয়ে আসেন এবং ১৯১৪ সালে ত্রিশাল থানার অন্তর্গত কাজীর সীমলা গ্রামে দরিরামপুর হাইস্কুলে ফি ছাত্ররূপে সপ্তম শ্রেণীতে ভর্তি করে দেন।

ষষ্ঠ শ্রেণী পর্যন্ত পড়ার পর তাকে আবার কাজে ফিরে যেতে হয়। প্রথমে যোগ দেন বাসুদেবের কবিদলে। এর পর একজন খ্রিস্টান রেলওয়ে গার্ডের খানসামা এবং সবশেষে আসানসোলের চা-রুটির দোকানে রুটি বানানোর কাজ নেন। এভাবে বেশ কষ্টের মাঝেই তার বাল্য জীবন অতিবাহিত হতে থাকে।
এই দোকানে কাজ করার সময় আসানসোলের দারোগা রফিজউল্লাহ’র সাথে তার পরিচয় হয়। দোকানে একা একা বসে নজরুল যেসব কবিতা ও ছড়া রচনা করতেন তা দেখে রফিজউল্লাহ তার প্রতিভার পরিচয় পান। তিনিই নজরুলকে ১৯১৪ খ্রিষ্টাব্দে ময়মনসিংহ জেলার ত্রিশালের দরিরামপুর স্কুলে সপ্তম শ্রেণীতে ভর্তি করে দেন।

১৯১৫ খ্রিষ্টাব্দে তিনি আবার রানীগঞ্জের সিয়ারসোল রাজ স্কুলে ফিরে যান এবং সেখানে অষ্টম শ্রেণী থেকে পড়াশোনা শুরু করেন। ১৯১৭ সাল পর্যন্ত এখানেই পড়াশোনা করেন। ১৯১৭ খ্রিষ্টাব্দের শেষদিকে মাধ্যমিকের প্রিটেস্ট পরীক্ষা না দিয়ে তিনি সেনাবাহিনীতে সৈনিক হিসেবে যোগ দেন।
এই স্কুলে অধ্যয়নকালে নজরুল এখানকার চারজন শিক্ষক দ্বারা প্রভাবিত হয়েছিলেন। এরা হলেন উচ্চাঙ্গ সঙ্গীতের সতীশচন্দ্র কাঞ্জিলাল, বিপ্লবী চেতনাবিশিষ্ট নিবারণচন্দ্র ঘটক, ফার্সি সাহিত্যের হাফিজ নুরুন্নবী এবং সাহিত্য চর্চার নগেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়।

