ঘুমাও ঘুমাও দেখিতে এসেছি | Ghumao ghumao dekhite eshechi | নজরুলের আবির্ভাব ও কর্মকাল রবীন্দ্রযুগের অন্তর্ভূত। তবু নজরুল রবীন্দ্রনাথের প্রভাব বলয়ের সম্পূর্ণ বাইরে থেকে গীত রচনা করেছেন ও সুরারোপ করেছেন। তিনি বাংলা গানে বিচিত্র সুরের উৎস। রবীন্দ্রনাথের মতো তিনিও একই সঙ্গে গীতিকার, সুরকার ও সুগায়ক। গানের সংখ্যায় তিনি রবীন্দ্রনাথকেও ছাড়িয়ে গেছেন। তিনি বহু নতুন সুরের স্রষ্টা। বিচিত্র সুর আর তালে তার গান নিত্য নতুন।
যোগিয়া মিশ্র দাদরা

ঘুমাও ঘুমাও দেখিতে এসেছি গানের কথা :
ঘুমাও, ঘুমাও! দেখিতে এসেছি,
ভাঙিতে আসিনি ঘুম।
কেউ জেগে কাঁদে, কারও চোখে নামে
নিদালির মরশুম॥
দেখিতে এলাম হয়ে কুতূহলি
চাঁপা ফুল দিয়ে তৈরি পুতলি,
দেখি, শয্যায় স্তূপ হয়ে আছে
জ্যোৎস্নার কুঙ্কুম।
আমি নয়, ওই কলঙ্কী চাঁদ
নয়নে হেনেছে চুম॥
রাগ করিয়ো না, অনুরাগ হতে
রাগ আরও ভালো লাগে,
তৃষ্ণাতুরের কেউ জল চায়
কেউ বা শিরাজি মাগে!
মনে কর, আমি ফুলের সুবাস,
চোর জ্যোৎস্না, লোলুপ বাতাস,
ইহাদের সাথে চলে যাব প্রাতে
অগোচর নিঝঝুম॥

১৯২১ সালের এপ্রিল-জুন মাসের দিকে নজরুল মুসলিম সাহিত্য সমিতির অফিসে গ্রন্থ প্রকাশক আলী আকবর খানের সাথে পরিচিত হন। তার সাথেই তিনি প্রথম কুমিল্লার বিরজাসুন্দরী দেবীর বাড়িতে আসেন। আর এখানেই পরিচিত হন প্রমীলা দেবীর সাথে যার সাথে তার প্রথমে প্রণয় ও পরে বিয়ে হয়েছিল।

তবে এর আগে নজরুলের বিয়ে ঠিক হয় আলী আকবর খানের ভগ্নী নার্গিস আসার খানমের সাথে। বিয়ের আখত সম্পন্ন হবার পরে কাবিনের নজরুলের ঘর জামাই থাকার শর্ত নিয়ে বিরোধ বাধে। নজরুল ঘর জামাই থাকতে অস্বীকার করেন এবং বাসর সম্পন্ন হবার আগেই নার্গিসকে রেখে কুমিল্লা শহরে বিরজাসুন্দরী দেবীর বাড়িতে চলে যান। তখন নজরুল খুব অসুস্থ ছিলেন এবং প্রমিলা দেবী নজরুলের পরিচর্যা করেন। এক পর্যায়ে তারা বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন।

