এত জল ও কাজল চোখে | Eto jol o kajol chokhe | নজরুলের আবির্ভাব ও কর্মকাল রবীন্দ্রযুগের অন্তর্ভূত। তবু নজরুল রবীন্দ্রনাথের প্রভাব বলয়ের সম্পূর্ণ বাইরে থেকে গীত রচনা করেছেন ও সুরারোপ করেছেন। তিনি বাংলা গানে বিচিত্র সুরের উৎস। রবীন্দ্রনাথের মতো তিনিও একই সঙ্গে গীতিকার, সুরকার ও সুগায়ক। গানের সংখ্যায় তিনি রবীন্দ্রনাথকেও ছাড়িয়ে গেছেন। তিনি বহু নতুন সুরের স্রষ্টা। বিচিত্র সুর আর তালে তার গান নিত্য নতুন।
রাগঃ মান্দ
তালঃ কাহার্বা

এত জল ও কাজল চোখে গানের কথা:
এত জল ও কাজল চোখে, পাষানী আনলে বল কে। টলমল জল-মোতির মালা দুলিছে ঝালর-পলকে ।। দিল কি পূব হাওয়াতে দোল, বুকে কি বিঁধিল কেয়া? কাঁদিয়া কুটিলে গগন এলায়ে ঝামর-অলকে।। চলিতে পৈঁচি কি হাতের বাঁধিল বৈচি-কাঁটাতে? ছাড়াতে কাঁচুলির কাঁটা বিঁধিল হিয়ার ফলকে।। [যে দিনে মোর দেওয়া-মালা ছিঁড়িলে আনমনে সখি, জড়াল জুই-কুসুমি-হার বেণীতে সেদিন ওলো কে।। যে-পথে নীর ভরণে যাও বসে রই সে পথ-পাশে দেখি, নিত কার পানে চাহি কলসীর সলিল ছলকে।।] মুকুলী-মন সেধে সেধে কেবলি ফিরিনু কেঁদে, সরসীর ঢেউ পালায় ছুটি' না ছুঁতেই নলিন-নোলকে ।। বুকে তোর সাত সাগরের জল, পিপাসা মিটল না কবি ফটিক জল ! জল খুঁজিস যেথায় কেবলি তড়িৎ ঝলকে।।
এত জল ও কাজল চোখে স্বরলিপি:


কাজী নজরুল ইসলাম (২৪ মে ১৮৯৯ – ২৯ আগস্ট ১৯৭৬; ১১ জ্যৈষ্ঠ ১৩০৬ – ১২ ভাদ্র ১৩৮৩ বঙ্গাব্দ) বিংশ শতাব্দীর প্রধান বাঙালি কবি ও সঙ্গীতকার। তার মাত্র ২৩ বৎসরের সাহিত্যিক জীবনে সৃষ্টির যে প্রাচুর্য তা তুলনারহিত। সাহিত্যের নানা শাখায় বিচরণ করলেও তার প্রধান পরিচয় তিনি কবি।

১৯২১ সালের এপ্রিল-জুন মাসের দিকে নজরুল মুসলিম সাহিত্য সমিতির অফিসে গ্রন্থ প্রকাশক আলী আকবর খানের সাথে পরিচিত হন। তার সাথেই তিনি প্রথম কুমিল্লার বিরজাসুন্দরী দেবীর বাড়িতে আসেন। আর এখানেই পরিচিত হন প্রমীলা দেবীর সাথে যার সাথে তার প্রথমে প্রণয় ও পরে বিয়ে হয়েছিল।

