আমাদের জাতীয় কবি কখন স্মৃতিশক্তি হারিয়ে ফেলেন তখনকার ঘটনা নিয়ে আজকের আয়োজন। ১৯৪২ সালের ১০ জুলাই নজরুল দুরারোগ্য ব্যাধিতে আক্রান্ত হন। তখন আর তাঁর সন্বিত নেই, তিনি কাউকে চিনতে পারেন না, তিনি বাকশক্তি রহিত। বাইশ বছরের কর্মব্যস্থ জীবনে তিনি আমাদের কাব্যে ও সঙ্গীতে যা দান করেছেন, তা দেশবাসীর স্বীকৃতি লাভ করেছে। তাঁর রোগগ্রস্থ জীবনে নীরবতা সত্ত্বেও তিনি ছিলেন আলোচনামুখর কবি এবং তাঁর জনপ্রিয়তা ক্রমেই বেড়ে চলেছিল।

আমাদের জাতীয় কবি কখন স্মৃতিশক্তি হারিয়ে ফেলেন
১৯৪২ সালের জুলাই মাসে আরোগ্য লাভের আশায় কবিকে মধুপুর নিয়ে যাওয়া হয় কিন্তু রোগের উপশম না হওয়ায় সেপ্টেম্বর মাসে তাঁকে পুনরায় কলকাতা নিয়ে আসা হয় এবং চিকিৎসার জন্য তিনি লুম্বিনী পার্কে ভর্তি হন। এখানেও রোগের উপশম না হওয়ায় তিনি স্বগৃহে ফিরে আসেন।
১৯৪৫ সালে রোগাক্রান্ত কবিকে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় তাঁর অসাধারণ কবিত্বশক্তির স্বীকৃতি স্বরূপ ‘জগত্তারিনী’ স্বর্ণপদক প্রদান করে।

১৯৫২ সালে কবির ভক্ত ও গুণগ্রাহী ব্যক্তিগণ ‘নজরুল নিরাময় সমিতি গঠন করেন। এই সমিতি কবি ও কবি-পত্নীকে চিসিৎসার জন্য রাঁচিতে প্রেরণ করেন কিন্তু সেখানেও তাঁর রোগের উপশম হয়নি। অতঃপর ১৯৫৩ সালের মে মাসে উক্ত সমিতির সহায়তায় চিকিৎসার জন্য কবিকে লন্ডনে পাঠানো হয়।
সেখানকার চিকিৎসকগণ ব্যর্থ হলে ডিসেম্বর মাসে তাকে ভিয়েনায় নিয়ে যাওয়া হয়। কবির রোগ চিকিৎসাতীত বলে তথাকার চিকিৎসা-বিজ্ঞানীরা মত প্রকাশ করেন, ফলে ডিসেম্বরই তাঁকে কলকাতা নিয়ে আসা হয়। সেই থেকে নজরুল ১৯৭২ সাল পর্যন্ত কলকাতায় অবস্থান করেছেন।
সালে কবিপত্নী প্রমীলার মৃত্যু হয় এবং তাঁকে কবির জন্মস্থান চুরুলিয়ায় সমাধিস্থ করা ১৯৬০ সালে ভারত সরকার নজরুলকে ‘পদ্মভূষণ’ উপাধি প্রদান করেন ১৯৬২ হয়।

টাকা সাহিত্যিক বৃত্তি দিতেন। পরে পশ্চিমবঙ্গ সরকার ১০০ টাকা বাড়িয়ে দিলে রোগাক্রান্ত কবিকে ভারত সরকার মাসিক ৩০০ টাকা ও পাকিস্তান সরকার ৩৫০ কবির সর্বমোট মাসিক বৃত্তি পাড়ায় ৭৫০ টাকা।

